গোটা বছরের এই একটা সময়ের অপেক্ষায় থাকেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কারণ সারা বছরে শুধু এই আইপিএলেই নস্ট্যালজিয়ায় ভাসার সুযোগ মেলে। সৌজন্যে ২২ গজ জুড়ে মহেন্দ্র সিং ধোনির দাপট। হেলিকপ্টার শট, উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে রিভিউ নেওয়ার চেনা ছবি। সেই ছবি এ মরশুমে এখনও পর্যন্ত দেখার সৌভাগ্যই হয়নি থালা ফ্যানদের। চোটের কবলে পড়ে বারবার পিছিয়েছে তাঁর মাঠে নামার তারিখ। তবে সোমবার চিপকে প্রথম একাদশে না থাকলেও দলের সঙ্গে মাঠে দেখা গেল ক্যাপ্টেন কুলকে। আর তাতেই কৌতূহল, তবে কি এটাই তাঁর শেষ আইপিএল?
১৮ মে। চিপকে এদিনই ছিল চেন্নাইয়ের শেষ ম্যাচ। এদিনই হয়তো অবসর নিতে পারেন ধোনি। এমনই জল্পনা ছিল তুঙ্গে। আর খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবে ধোনিকে মাঠে দেখে সেই জল্পনাতেই ঘৃতাহুতি পড়ে। চলতি মরশুমে এই প্রথমবার দলের সঙ্গে সফর করলেন এমএস। শুধু ড্রেসিংরুমে বসে খেলাই দেখলেন না, চেন্নাই ইনিংস শেষ হতে সতীর্থদের সঙ্গে মাঠেও এলেন। হল ফটোশুট। স্টেডিয়াম জুড়ে যেন তখন আবেগের বন্যা। সাধারণত, যে কোনও দলই ঘরের মাঠে নিজেদের শেষ ম্যাচে ফটোশুট করে থাকে। তবু অনুরাগীদের শঙ্কা, আর হলুদ জার্সিতে ব্যাট হাতে হয়তো দেখা যাবে না ধোনিকে। হয়তো অন্য কোনও ভূমিকায়! উত্তর অধরা। তবে দিনের শেষে ধোনির মুখে হাসি ফোটাতে ব্যর্থ রুতুরাজরা। তাঁকে জয় উপহার দিতে পারল না সিএসকে।
ঘরের মাঠে নিজেদের শেষ ম্যাচে ফটোশুটে চেন্নাই সুপার কিংস।
এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। তবে প্যাট কামিন্স ও শাকিব হুসেনের দাপটে জোর ধাক্কা খায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের টপ অর্ডার। কঠিন সময়ে সঞ্জু স্যামসন শক্ত হাতে হাল ধরলেই জয়ের মুখ দেখেছে চেন্নাই। কিন্তু এদিন তিনি ফেরেন ২৭ রান করে। কার্তিক শর্মা আর ব্রেভিসের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ৩২ ও ৪৪ রান। ৭ উইকেটে ১৮০ রানে শেষ হয় চেন্নাইয়ের ইনিংস। কামিন্স একাই তুলে নেন তিনটি উইকেট। আর এদিনও ঈশান কিষানের ঈর্ষণীয় ফর্মের কাছে কুপোকাত হলেন বিপক্ষ বোলাররা। জয়ের দোরগাড়ায় পৌঁছে ৭০ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ৪৭ রানে হেনরিক ক্লাসেনকে আউট করে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেছিল চেন্নাই। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
আর এই জয়ের সৌজন্যেই ১৬ পয়েন্ট নিয়ে প্লেঅফে পৌঁছে গেল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। চেন্নাই হারায় প্লেঅফের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল গুজরাট টাইটান্সও। তাদের ঝুলিতেও ১৬ পয়েন্ট। ইতিমধ্যেই ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বসে রয়েছে আরসিবি। অর্থাৎ প্লেঅফের একটি স্থান নিয়েই এবার বাকি লড়াই। চেন্নাইয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও অত্যন্ত কঠিন। পরের ম্যাচে শুধু রুতুরাজরা জিতলেই চলবে না, পাঞ্জাব, রাজস্থানের ফলাফলের উপরও নির্ভর করতে হবে তাঁদের। তবে ম্যাচের হাফ টাইমে ধোনিকে সামনে থেকে পাওয়াই এদিন চিপকের একমাত্র পাওনা হয়ে রইল।
