একজন চিপকের 'ঘরের ছেলে'। আরেকজন আবার আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংয়ের জার্সিতেই নজর কেড়েছিলেন প্রথমবার। সেই দু'জন-বরুণ চক্রবর্তী আর মাথিশা পাথিরানাকে নিয়ে ভিন্ন ছবি কেকেআর শিবিরে। একজন ম্যাচ ফিট হয়ে উঠেছেন অনেকটাই। আরেকজন শ্রীলঙ্কা বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে গেলেও কবে আসবেন আর কবে ম্যাচ খেলবেন, তা স্পষ্ট নয়।
আইপিএল ১৯-এ একমাত্র দল কেকেআর, যারা এখনও জয়ের মুখ দেখেনি। যে একটা পয়েন্ট এসেছে, তা পাওয়া গিয়েছে আবহাওয়ার সৌজন্যে। না হলে জয়ের মতো নাইটদের পয়েন্টের কলামেও শূন্য লেখা থাকত। এমন পরিস্থিতে পরের ম্যাচে কেকেআরের সামনে সিএসকে। মহেন্দ্র সিং ধোনির অনুপস্থিতিতে বেশ নড়বড়ে দশা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। তবে তারাও শেষ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে। যে ম্যাচে দুরন্ত সেঞ্চুরিতে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের নায়কের ব্যাটে রান দেখে কেকেআর শিবির যে খুশি হবে না বিশেষ, বলাই বাহুল্য। সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে রান পাচ্ছেন আয়ুষ মাত্রে। মঙ্গল-সন্ধ্যায় চিপকে সঞ্জু-আয়ুষদের মোকাবিলা করার আগে বরুণ নিয়ে আশার আলো কেকেআরে।
চোটের জন্য শেষ দু'টো হোম ম্যাচের দলে ছিলেন না নাইটদের 'রহস্য স্পিনার'। প্র্যাকটিসেও বাঁ হাতের কড়ে আঙুলে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, সিএসকে-র বিরুদ্ধেই প্রত্যাবর্তন হতে চলেছে বরুণের। চিপক যাঁর আজন্মপরিচিত, তামিলনাড়ুর ক্রিকেটার হওয়ার সুবাদে। যা খবর, রবিবার কেকেআর নেটে পুরোদমেই বল করেছেন বরণ। প্রধান নেটের পাশাপাশি সাইড নেটেও হাত ঘুরিয়েছেন। আপাতত চোটের কোনও চিহ্ন নেই তাঁর বোলিংয়ে। দলের সঙ্গে যুক্ত একজনের বক্তব্য, বরুণ এখন অনেকটাই ঠিক আছেন। তবে খেলবেন কি না, টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত।
চিপকের পিচ এমনিতেই স্পিন-বান্ধব। ফলে যতই অফ ফর্ম চলুক, বরুণকে না খেলানোর সম্ভাবনাই কম। সেক্ষেত্রে নভদীপ সাইনিকে বসিয়ে ফিরিয়ে আনা হতে পারে তাঁকে। চিপকে দাঁড়িয়ে বরুণও শুনিয়ে গেলেন, "এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে। আমার পরিবার রয়েছে এখানে। এই মাঠেই আমি বড় হয়েছি, খেলা শুরু করেছি। তাছাড়া শেষ দু'টো ম্যাচে বিশ্রাম পেয়েছি। আশা করছি এবার দলে ফিরব। দেখা যাক, কী হয়।" সঙ্গে তামিলে জুড়লেন, "এবার এখানে আমরাই জিতব।"
অন্যদিকে, একদা সিএসকে পেসার পাথিরানার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় থেকেই। তবে যা খবর, শ্রীলঙ্কা বোর্ডের পরীক্ষায় ইতিমধ্যে পাস করে গিয়েছেন তিনি। ফলে আইপিএল খেলতে আর কোনও বাধা নেই। কিন্তু তিনি কবে আসবেন কেকেআর শিবিরে, তা স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, সিএসকে ম্যাচ তো বটেই, এরপর শুভমান গিলদের বিরুদ্ধেও তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম। কারণ চোটের জন্য দীর্ঘদিন ম্যাচ খেলেননি পাথিরানা। ফলে তিনি কতটা ম্যাচ ফিট তা আগে দেখে নিতে চায় নাইটরা। সিএসকে ম্যাচের পরদিনই আহমেদাবাদ যাবে কেকেআর। যেখানে ১৭ এপ্রিল তাদের ম্যাচ। ফলে একদিনের নেট সেশনে আদৌ পাথিরানার ফিটনেস পরীক্ষা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
