শেষ ম্যাচে একটা দল জিতেছে দু'শোর বেশি রান তাড়া করে। অন্য দলটি আবার তারও বেশি রান তুলে হেরেছে ম্যাচ। সোমবার হায়দরাবাদের 'রানস্বর্গ' দেখবে সেই দুই দল রাজস্থান রয়্যালস আর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের লড়াই।
বছর কয়েক আগে আইপিএলে বিধ্বংসী ওপেনিং জুটির নতুন সংজ্ঞা লিখেছিলেন অভিষেক শর্মা এবং ট্রাভিস হেড। এবার যেন পাওয়ার প্লে-তে আগুনে ব্যাটিং করাকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন যশস্বী জয়সওয়াল এবং বৈভব সূর্যবংশী। বিশেষত দ্বিতীয় জনকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। যেভাবে শেষ দু'ম্যাচে জশপ্রীত বুমরাহ এবং জশ হাজেলউডের মতো তারকাদের পাড়ার বোলারের স্তরে নামিয়ে এনেছেন মাত্র ১৫ বছরের এই ব্যাটার, মুগ্ধ সবাই। শুধু তাই নয়, যে বয়সে এতদিন বড়জোর মাঠের পাশে বলবয় হওয়া যেত (এক-আধটা ব্যতিক্রম ছাড়া), সেই বয়সে আইপিএলে অরেঞ্জ ক্যাপ মাথায় দিয়ে বসে আছেন বৈভব (চার ম্যাচে ২০০ রান)। স্ট্রাইক রেট ২৬৭ মাত্র! বিরাট কোহলিদের বিরুদ্ধে মাত্র ২৬ বলে ৭৮ রানের টর্নেডো-সম ইনিংস খেলেছে বৈভব।
এমনিই হায়দরাবাদের উইকেট পাটা, ব্যাটারদের স্বর্গ। সেখানে তেমন ফর্মে নেই সানরাইজার্স বোলিং। শেষ ম্যাচে মুলানপুরে তাদের করা ২১৯-৬ স্কোর পাঞ্জাব কিংসে উপকে গিয়েছে সাত বল হাতে রেখেই। এমন বোলিংয়ের জন্য বৈভবকে সামলানো যে কঠিন হতে চলেছে, বলাই বাহুল্য।
সানরাইজার্সের জন্য আশার আলো, শেষ ম্যাচে রান পেয়েছে 'ট্রাভিষেক'। বিশেষত অভিষেক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্যা থেকেই ছন্দে নেই এই ভারতীয় ওপেনার। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ২৮ বলে ৭৪ রানের ইনিংসে যেন দেখা গিয়েছে চেনা অভিষেককে। সন্দীপ শর্ম-জোফ্রা আর্চারদের বিরুদ্ধে যে 'অস্ত্র' অ্যাডভান্টেজ এনে দিতে পারে সানরাইজার্সকে। তবে রবি বিষ্ণোই-রবীন্দ্র জাদেজার স্পিন মাঝের ওভারে মাথাব্যথা বাড়াতে পারে তাদের। কারণ সানরাইজার্স মিডল অর্ডারে স্পিনটা যিনি সবচেয়ে ভালো খেলেন, সেই হেনরিক ক্লাসেনের ব্যাটে এখন তেমন ঝোড়ো ইনিংসের দেখা পাওয়া যায়নি। প্রথম ম্যাচ ছাড়া বিশেষ একটা সাফল্য নেই অস্থায়ী অধিনায়ক ঈশান কিষানেরও। সেখানে এবারের আইপিএলে রাজস্থানের এখনও অপরাজিত থাকার অন্যতম কারণ বোলিং। ফলে ঘরের মাঠে কিছুটা চাপ মাথায় নিয়েই নামছে সানরাইজার্স।
