একটা সময়ে একই দলে খেলতেন দুই ভাই। কিন্তু এখন তাঁদের পথ আলাদা। আর খেলার নিয়ম মেনেই জয়ীর শিরোপা ওঠে এক ভাইয়ের মাথায়, শুকনো মুখে মাঠ ছাড়েন আরেকজন। রবিবার আবার সেই দৃশ্য দেখল ওয়াংখেড়ে। ভাইয়ে-ভাইয়ে ভালোবাসা নয়, বরং প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখল আইপিএলের মঞ্চ। হার্দিক পাণ্ডিয়াকে আউট করে উল্লাসে মাতলেন দাদা ক্রুণাল। মনে করিয়ে দিলেন, দিনের শেষে একজন পাণ্ডিয়াই জয়ী হয়।
রবিবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ঘরের মাঠে খেলতে নেমে একেবারে একপেশেভাবে জিতে যায় আরসিবি। দারুণ বোলিং করেন ক্রুণাল। চার ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন। তবে হার্দিকের উইকেট পাননি তিনি। ২১ বলে ৪০ রান করে মুম্বইয়ের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন অধিনায়ক হার্দিক। ১৫তম ওভারে জেকব ডাফির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বসেন। হার্দিক আউট হতেই লাফিয়ে ওঠেন ক্রুণাল। আগ্রাসী মেজাজে সেলিব্রেশন শুরু করেন। দাদার এমন কাণ্ডে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকান হার্দিকও।
শেষ পর্যন্ত আরসিবির ২৪০ রানের জবাবে মুম্বই থেমে যায় ২২২ রানে। ম্যাচের পর ক্রুণাল বলেন, "ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম বরাবরই আমার খুব প্রিয়। ৬ বছর এখানে খেলেছি। ট্রফিও জিতেছি। যতবার এখানে খেলতে আসি, খুব স্পেশাল লাগে।" ভাইয়ের বিরুদ্ধে খেলা প্রসঙ্গে বলেন, "যেই জিতুক না কেন, পয়েন্ট তো আমাদের ঘরেই আসে। একজন পাণ্ডিয়াই জেতে দিনের শেষে। আজ আমার ভাগ্য ভালো ছিল।" উল্লেখ্য, গতবছরও আইপিএলে ওয়াংখেড়েতে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই ভাই। ম্যাচ শেষে একে অপরকে জড়িয়েও ধরেন।
কিন্তু গত এক বছরে দুই ভাইয়ের সম্পর্কে চিড় ধরেছে বলেই গুঞ্জন শোনা যায়। মাসখানেক আগে ভারত ঘরের মাঠে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতে। সেই সময় থেকে চর্চায় উঠে আসে মাহিকা শর্মার সঙ্গে হার্দিকের সম্পর্কও। শোনা যায়, হার্দিকের প্রাক্তন স্ত্রী নাতাশার সঙ্গে ক্রুণালদের পরিবারের যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক। কিন্তু মাহিকার সঙ্গে প্রেমকাহিনি শুরু হওয়ার পর সেভাবে ক্রুণালদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে না হার্দিককে। রবিবারের ওয়াংখেড়েতেও কি সেই ফাটল দেখা গেল?
