জশপ্রীত বুমরাহর (Jasprit Bumrah) হাত থেকে উইকেট আসছে না! ভাবতেই অবাক হতে হয়। কিন্তু আইপিএলে সেই পরিস্থিতি হয়েছে। ৩২৫ দিন পর আইপিএলে উইকেট পাওয়া বুমরাহ এবার কেমন যেন বিবর্ণ। একটা সময় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ নামার আগে প্রতিপক্ষ দল হিসাব কষে রাখত, বুমরাহর চার ওভার কোনও মতে সামলে দিতে পারলেই বাকি ১৬ ওভারে রান তোলা সহজ হবে। কিন্তু এবারের আইপিএলে সেই পরিচিত ছবিটাই যেন পরিবর্তিত। বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসারকে এভাবে চাপে পড়তে খুব কমই দেখা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাঁকে কি বিশ্রাম দেওয়া হবে? কী বললেন মুম্বই কোচ?
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সহকারী কোচ কাইরন পোলার্ডও ইঙ্গিত দিয়েছেন, বুমরাহকে কিছু ম্যাচ বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। বছরের পর বছর মুম্বই ও ভারতের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা একজন ক্রিকেটারেরও খারাপ সময় আসতে পারে। তাই প্রয়োজন সময়, বিশ্রাম ও মানসিক বিরতি। তাঁর কথায়, "ও কেন ভালো বোলিং করতে পারছে না, সেটা আমাদের দেখতে হবে। মনে রাখতে হবে, বছরের পর বছর ধরে কীভাবে বুমরাহ ভারত ও মুম্বইকে সার্ভিস দিয়েছে। কিন্তু ও মানুষ। ওরও ভুল হতে পারে। কয়েকটা ম্যাচ বা কোনও মরশুম খারাপ যেতেই পারে। এই সময় ক্রিকেটাদের সময় দরকার। বিশ্রাম বা বিরতিরও প্রয়োজন।"
বুধবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে চার ওভারে ৫২ রান দেন বুমরাহ। উইকেটশূন্য থাকেন। পাওয়ার প্লে-র দুই ওভারে ৩২ রান দেন বুমরাহ, আইপিএলে যা তাঁর সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাওয়ার প্লে স্পেল।
বুধবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে চার ওভারে ৫২ রান দেন বুমরাহ। উইকেটশূন্য থাকেন। অভিষেক শর্মার বিরুদ্ধে অতীতে তাঁর দাপট ছিল স্পষ্ট। আগের পাঁচ সাক্ষাতে দু'বার আউট করেছিলেন, অভিষেক করেছিলেন মাত্র ১৭ রান, স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৫। কিন্তু সেই বুমরাহকেই মিড-অন দিয়ে তুলে মারেন অভিষেক। এরপর ট্র্যাভিস হেড সোজা তাঁর মাথার উপর দিয়ে ৯৯ মিটারের ছক্কা হাঁকান। পাওয়ার প্লে-র দুই ওভারে ৩২ রান দেন বুমরাহ, আইপিএলে যা তাঁর সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাওয়ার প্লে স্পেল।
পাওয়ার প্লে শেষেও অবস্থার বদল হয়নি। হেনরিখ ক্লাসেন এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে ছক্কা মারেন। পরে ঘরোয়া ক্রিকেটার সলিল অরোরাও মিড-অফের উপর দিয়ে তাঁকে উড়িয়ে দেন। শট মারার পর বলের দিকে তাকানোরও প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। পুরো ম্যাচে পাঁচটি ছক্কা হজম করেন বুমরাহ। পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এবারের আইপিএলে আট ম্যাচে ৩০ ওভার বল করে তিনি দিয়েছেন ২৬৪ রান। ইকোনমি রেট ৮.৮০, যেখানে তাঁর টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারের গড় ইকোনমি ৭.৩৩। কেরিয়ারের বোলিং গড় ২৩.২১ হলেও এবার মাত্র ২ উইকেট নিয়ে তাঁর গড় দাঁড়িয়েছে ১৩২। তাছাড়াও বলের গড় গতিও নেমে এসেছে ঘণ্টায় ১৩২.১ কিলোমিটারে।
বুমরাহের এই ফর্ম নিয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতে, উইকেট নেওয়ার অতিরিক্ত চেষ্টাই সমস্যার কারণ। ইরফান পাঠান মনে করছেন, অতিরিক্ত স্লোয়ার বলও বিপদ ডেকে এনেছে। তাঁর দাবি, এবারের মরশুমে বুমরাহর ৪৪ শতাংশ বল স্লোয়ার ডেলিভারি। অর্থাৎ প্রায় প্রতি দুই বলে একটি। গতি কমে যাওয়ায় ব্যাটাররা তাঁকে সহজে খেলতে পারছেন। আরও জোরে বল করলে তিনি বেশি কার্যকর হতেন বলেই মত ইরফানের। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, মুম্বই কি কয়েকটি ম্যাচের জন্য বুমরাহকে বিশ্রাম দেবে?
