রবিবারের পর কেকেআর রিঙ্কুর (Rinku Singh) নতুন একটা নাম দিতে পারে। রিঙ্কু ‘সংকটমোচন’ সিং। ইডেনে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে টিমকে প্রথম জয় এনে দিয়েছিলেন। আর লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে রিঙ্কু যা করলেন, সেটা এককথায় অতিমানবীয়। কোণঠাসা কেকেআর-কে তাঁর ব্যাটি রক্ষাকবচ দিয়েছে। ব্যাট হাতে যখন ঝড় তুলছেন রিঙ্কু সিং, গ্যালারিতে বসে তখন প্রতিটি ছক্কায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছেন তাঁর বাগদত্তা প্রিয়া সরোজ। রিঙ্কুর অভূতপূর্ব ইনিংসের পর জানিয়ে দিলেন, বিশেষ একজনের কথা মনে পড়ছে তাঁর।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ প্রিয়া (Priya Saroj) ক্রিকেটের জগতের মানুষ নন। তবে রিঙ্কুর সঙ্গে সম্পর্কের পর থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে তাঁর। রবিবার তিনি নিজে উপস্থিত থেকে দেখলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের সহ-অধিনায়কের ম্যাচ জেতানো দুরন্ত ইনিংস। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা যায়, নিজের রাজ্যের দলকে নয়, হবু স্বামীর দলকেই সমর্থন করছেন প্রিয়া। বেগুনি পোশাকে গ্যালারিতে বসে গোটা ম্যাচে জুড়ে কেকেআরের হয়ে গলা ফাটিয়েছেন তিনি।
সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা যায়, নিজের রাজ্যের দলকে নয়, হবু স্বামীর দলকেই সমর্থন করছেন প্রিয়া। বেগুনি পোশাকে গ্যালারিতে বসে গোটা ম্যাচে জুড়ে কেকেআরের হয়ে গলা ফাটিয়েছেন তিনি।
নাইটদের জন্য একা কুম্ভ হয়ে লড়েছেন রিঙ্কু। রাজস্থান ম্যাচেও তাঁর ব্যাটেই এবারের মরশুমে প্রথম জয় পেয়েছিল কলকাতা। সেই ফর্ম বজায় রেখে এদিন অপরাজিত থাকলেন ৫১ বলে ৮৩ রান। শেষ ওভারে দিগ্বেশ রাঠিকে চারটি ছয় মারলেন। তখন আর আসনে বসে থাকতে পারেননি। উঠে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাসে মাতেন তিনি। এরপর সুপার ওভারে রিঙ্কু ম্যাচ শেষ করতেই আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন প্রিয়া।
তবে এই আনন্দের রাতেও প্রিয়ার মনে পড়েছে এক বিশেষ মানুষের কথা। তিনি রিঙ্কুর বাবা খানচন্দ সিং। ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে প্রিয়া বলেন, "আজ আমি খুব খুশি। আজ ও (রিঙ্কু) শ্বশুরমশাইয়ের জন্যই এই ইনিংসটা খেলল। শ্বশুরমশাইয়ের কথা খুব মনে পড়ছে। এই ইনিংসটা তাঁর জন্যই।" উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় প্রয়াত হয়েছিলেন রিঙ্কুর বাবা খানচাঁদ সিং। বছর খানেক আগে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এক বছরে সমস্যা বাড়তে বাড়তে চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তিনি মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ও ‘কন্টিনিউয়াস রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’-তে ছিলেন। শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালেই মৃত্যু হয় খানচন্দ্রের।
ম্যাচ জয়ের পর ড্রেসিংরুম থেকেই বাড়িতে ফোন করেছিলেন রিঙ্কু। ভিডিও কলে কথা বলেন মা ও বোনের সঙ্গে। পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন সতীর্থ সুনীল নারিনকে। ভাইরাল ভিডিওয় দেখা যায়, রিঙ্কুর বোন প্রথমে নারিনকে হিন্দিতে 'ভাইয়া' বলে সম্বোধন করছেন। তা শুনে মজা করেই রিঙ্কু বলেন, "ভাইয়া নয়, ব্রাদার বলো। ও হিন্দি বুঝতে পারে না।" কিন্তু তাতেও দমে যাননি তাঁর বোন। তিনি হিন্দিতেই বলতে থাকেন, "দাদা, খুব ভাল বল করেছ।" রিঙ্কুর বোনের কথা শুনে নারিন ইশারায় বোঝান, তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। তখন রিঙ্কুই ইংরেজিতে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে দেন সতীর্থকে। কথা বুঝতে পেরে হাসিমুখে রিঙ্কুর বোনকে ধন্যবাদ জানান ক্যারিবিয়ান তারকা।
উল্লেখ্য, আইপিএলে প্রথম ইনিংসে ছয় বা তার নীচে নেমে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রানের ইনিংসের রেকর্ড গড়লেন রিঙ্কু। তিনি পিছনে ফেলেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। ২০১১ সালে আরসিবি ম্যাচে ৪০ বলে ৭০ রান করেছিলেন মাহি। তবে সব মিলিয়ে রিঙ্কু দ্বিতীয় স্থানে। ২০১৮ সালে সিএসকে'র বিরুদ্ধে ৮৮ রান করে প্রথমে আন্দ্রে রাসেল।
