তখন ক্রিকেটে সবেমাত্র হাত পাকতে শুরু করেছে তাঁর। কিন্তু বিশেষ একটা সময় নীরবতা পালন করতে হত। তিনি জেমাইমা রডরিগেজ। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর ১৩৪ বলে অপরাজিত ১২৭ রানের অনবদ্য ইনিংস ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয়। প্রায় একার হাতেই হারিয়েছিলেন সাতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে। এবার তিনি মুখ খুললেন ঋতুস্রাব নিয়ে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটজীবন শুরুর দিনগুলি, রাতগুলির কথা স্মরণ করেছেন। যা শুনে শিউরে উঠতে হয়। জানিয়েছেন, এমনও একটা সময় ছিল, যখন ঋতুস্রাবের মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেও চুপচাপ সহ্য করতে হত তাঁকে। জেমাইমার মতে, ঋতুস্রাব নিয়ে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা এখনও রয়ে গিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ঋতুস্রাব নারীদের দুর্বল করে দেয় কিংবা কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এই সেকেলে ধারণা ভাঙতে মরিয়া বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার। খেলাধুলার জগতে নারী স্বাস্থ্য নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনা করতে আগ্রহী তিনি।
জেমাইমার কথায়, “আমার মনে হয়, সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি হল, ঋতুস্রাব মানুষকে দুর্বল করে দেয় বা কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অনেকেই মনে করে, এতে পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলে। এই মানসিকতার কারণে অনেক মেয়েই তাদের অস্বস্তি লুকিয়ে রাখতে বা মুখ বুজে সহ্য করে যেতে বাধ্য হয়। ঋতুস্রাব জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। এতে প্রত্যেকের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হয়। তাই কোনও নির্দিষ্ট প্রত্যাশা বা চাপ থাকা উচিত নয়।”
জেমাইমা বলছেন, “এই মানসিকতার কারণে অনেক মেয়েই তাদের অস্বস্তি লুকিয়ে রাখতে বা মুখ বুজে সহ্য করে যেতে বাধ্য হয়। ঋতুস্রাব জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। এতে প্রত্যেকের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হয়। তাই কোনও নির্দিষ্ট প্রত্যাশা বা চাপ থাকা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “খোলামেলা কথা বলেই বিষয়টিকে স্বাভাবিক করা যাবে। ঠিক যেমন আমরা স্বাস্থ্যের অন্য যে কোনও দিক নিয়ে কথা বলি। যখন আপনি কোনও কিছু না ভেবেই একে স্বীকার করে নেন, তখন অনুশীলন করা, প্রয়োজনে বিশ্রাম নেওয়া এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানো সহজ হয়ে যায়। এই আলোচনাগুলো করতে আমরা যত বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করব, তরুণীরা তত বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে কোনও ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই খেলাধুলায় এগিয়ে আসবে।”
কেরিয়ারের শুরুতে জেমাইমাকেও ঋতুস্রাব নিয়ে ভ্রান্ত ধারণার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছিল। এমনকী নিজের পিরিয়ড নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা বোধ করতেন। “অন্যান্য মেয়ের মতোই আমার কাছেও ঋতুস্রাব এমন একটা বিষয় ছিল, যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলা যেত না সব সময় একটা দ্বিধা কাজ করত। মুখ বুজেই সবটা একাই সামলাতে হত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি, এই নীরবতা কেবল জড়তা বা কলঙ্ককেই বাড়িয়ে তোলে। একমাত্র খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টা স্বাভাবিক হবে।” বলছেন জেমাইমা।
তাঁর সংযোজন, “এমনও দিন গিয়েছে যখন পিরিয়ড চলাকালীন খেলা বা অনুশীলন করা শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন ছিল। আগে আমরা কাউকে না বলে খেলে যেতাম। এখন বুঝেছি নিজের শরীরের কথা শোনা কতটা দরকারি। সঠিক ‘পিরিয়ড কেয়ার’ ব্যবহার করা এবং সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি পরবর্তী প্রজন্মের পিরিয়ড প্যান্টির প্রচারের জন্য হুইস্পারের সঙ্গে কাজ করেছেন জেমাইমা।
