টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরি করার পর নিউজিল্যান্ডের বিধ্বংসী ওপেনার ফিন আলেন (Finn Allen) সোশাল মিডিয়া সেনসেশন হয়ে উঠেছেন রীতিমতো। ইডেন সেমিফাইনালে দক্ষিন আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসের পর ৪৮ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। কিন্তু কেকেআর সমর্থকদের ঘোর এখনও কার্টেন। বরং অনেকেই সুতীব্র হর্ষ-সহিত ঘোষণা করছেন যে, যাক, এত দিন পর ফিল সন্টের পরিবর্ত পেয়ে গেল কেকেআর।
দেখতে গেলে, ব্লাক ক্যাপসের যে দুই ওপেনার একার হাতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ইডেন সেমিফাইনালে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ছেড়েছেন, সেই আরলেন এবং টিম সিফার্ট-দু'জনেই কেকেআরের। ইডেনে বুধবার ৩৩ বলে ৫৮ করে যান সাইফার্ট। আর অ্যালেন তো মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত থেকে যান ১০০ রানে। অ্যালেনের পাশবিক শক্তি, প্রতিপক্ষকে চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা দেখে কেকেআরের কর্তা-বক্তিরাও প্রবল উল্লসিত।
মুম্বইয়ে নাইট রাইডার্সের হেড অফিস। বৃহস্পতিবার সকালে একজন গদগদ ভাবে বলছিলেন যে, গত আইপিএল নিলামে প্লেয়ার কেনেনি। আদতে 'জ্যাকপট' জিতেছে। বাদবাকি ফ্ল্যাঞ্চাইজিরা যখন বিশ্বের অন্যান্য পাওয়ার হিটারদের নিয়ে পড়ে ছিল, সে সময় নিঃশব্দে নাইটরা অ্যালেন এবং সাইফার্ট, দু'জনকে সম্মিলিত সাড়ে তিন কোটি টাকার নামমাত্র মূল্যে কিনে নিয়েছে। এমনিতে কেকেআর ওয়াংখেড়েতে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল আবহের মধেই ট্রেনিং শুরু করে দিয়েছে 'বাজিগরের' শহরে। বৃহস্পতিবার ভারতের মাচের কয়েক ঘণ্টা আগে তার নিকটবর্তী ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামে প্রাকটিস মাচ খেলতে নামে। অজিঙ্ক রাহানে, উমরান মালিক, বৈভব অরোর, মনীশ পাণ্ডে, অনুকুল রায় প্রভৃতিরা আংশ নিলেন যে ম্যাচে। অনান্য খবরাখবরও গোটা কতক পাওয়া গেল। যেমন প্লেট সারিয়ে সম্পূর্ণ ফিট মাথিশা পাথিরনা। কিন্তু হর্ষিত রানাকে কবে পাওয়া যাবে, এখনও নিশ্চিত নয়। দিল্লি পেসারের ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও কারও কাছে এসে পৌঁছয়নি। মুস্তাফিজুর রহমানের পরিবর্ত আর একটা বিষয়। শোনা গেল, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে বাংলাদেশ পেসারের পরিবর্ত ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। বেশ কয়েকটা নাম ভাবনাচিন্তার তালিকায় রয়েছে। যেমন, আফগানিস্তানের বাঁ হাতি পেসার ফজল হক ফারুখি। জিম্বাবোয়ের ব্লেসিং
মুজারবানি। এবং দক্ষিণ আফ্রিকাজাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পেসার শ্যাডলে ভান শালকোয়েক। শেষের জন কিন্তু চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। মাত্র ৪ ম্যাচ খেলে ১৩-টা উইকেট নিয়েছেন যিনি।
কিন্তু মুম্বইয়ে নাইট হেডকোয়ার্টারে আলোচনার মুখ্য বিষয় এবং 'বস্তু' একজনই-ফিন আলেন। কেকেআর তাঁর পাওয়ার-হিটিংয়ের খোঁজ পায় মেজর লিগ ক্রিকেটে তিনি সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের হয়ে খেলার সময়। সান ফ্রান্সিসকোর জার্সিতে আলেন একটা মাচে একা দেড়শো রান করে দেন। প্রতিপক্ষ বোলারদের বেধড়ক প্রহার প্রদান করে। সেই সময় সান ফ্রান্সিসকো কোচ প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। তাঁকে এবার অভিষেক নায়ারের সহকারী কোচ করে এনেছে কেকেআর। শুনলাম, বিশ্ব ক্রিকেটের 'ভয়াটো'-ই নাকি নাইট ম্যানেজমেন্টকে পরামর্শ দেন আইপিএল নিলাম থেকে অ্যালেনকে কিনতে। সেই সময় সান ফ্রান্সিসকোর খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন জুহি-কন্যা জাহ্নবী মেহতাও, যাঁকে দেখা যায় আইপিএল নিলাম টেবিলে। তিনিও নাকি ওয়াটসনের রায়ে সহমত পোষণ করেন। জুহি-কন্যার মনে হয়েছিল, সল্টের পরিবর্ত পেয়ে গিয়েছে কেকেআর।
দুপুরের দিকে কেকেআরের তরফে অ্যালেনকে নিয়ে ওয়াটসনের একটা ভিডিও বার্তা পাঠানো হল। শুনলাম সেখানে নাইটদের সহকারী কোচ বলছেন যে, ফিন অ্যালেন জানেনও না, কতটা বিধ্বংসী ব্যাটিং করতে পারেন তিনি। "আমি ফিনের পাওয়ার দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। পরিষ্কার বলছি, ওই শক্তি ঈশ্বরের দান। ভেবেই দারুন লাগছে যে, ফিনের সঙ্গে আবার কাজ করতে পারব আমি। সন ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসে লম্বা সময় ফিনকে কোচিং করিয়েছি। এটুকু বলতে পারি, এখনও ওর পূর্ণ ক্ষমতা দেখেননি আপনারা। আর সেটা বুঝেছিলাম বলেই আইপিএল নিলামের সময় ফিনকে নেওয়ার কথা জোর দিয়ে বলেছিলাম।" সঙ্গে ওয়াটসন যোগ করেছেন, "এর আগে আরসিবিতে খেললেও সে ভাবে সুযোগ পায়নি ফিন। সে দিক থেকে দেখতে গেলে আইপিএলে ও আননোন কমোডিটি। কারও সে ভাবে ধারনা নেই ফিন সম্পর্কে। মাথায় রাখবেন, ফিন কিন্তু পাটা পিচের বাটার নয়। বিশ্বের যে কোনও পিচে, যে কোনও বোলিংকে ছারখার করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ও। ইডেন গার্ডেল ছোট মাঠ। সেখানে ফিনের বিশাল ছয়গুলো কোথায় গিয়ে পড়বে, ভাবলেই রোমাঞ্চ হচ্ছে, উফ।"
বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল দেখতে যে সকল কেকেআর সমর্থক উপস্থিত ছিলেন বুধবারের ইডেনে, তাঁর একটা আন্দাজ পেয়ে গিয়েছেন। ফিন 'এলিয়েন'-এর ব্যাটিং-ট্রেলার দেখে নিয়েছেন। এবার দিন কুড়ি পর থেকে পূর্ণদৈর্ঘ্যের 'সিনেমা' দেখার অপেক্ষা।
