নানা টালবাহানার পর অবশেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে আইএসএল। ব্রডকাস্ট সমস্যারও সমাধান পাওয়া গিয়েছে। 'ফ্যান কোড'-এ দেখা যাবে এই মরশুমের আইএসএল। জানা গিয়েছে, গোটা মরশুম দেখানোর জন্য মাত্র ৮.৬২ কোটি টাকা দেবে। কিন্তু কল্যাণ চৌবেদের জন্য লজ্জা এখানেই শেষ নয়। ভারতেরই এক রাজ্যের লিগের ব্রডকাস্টের খরচ ১০০ কোটি টাকা। কী বিরাট পার্থক্য! এরপরও কি এআইএফএফের ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে হবে?
অথচ পরিস্থিতি এরকম হওয়ার কথাই ছিল না। ফেডারেশনের দীর্ঘসূত্রিতার ফল ভুগতে হল ভারতীয় ফুটবলকে। এফএসডিএল দীর্ঘদিন লিগ চালানোর পর চুক্তি শেষ হতে চললেও গা করেননি এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। যেখানে এফএসডিএলের আমলে ম্যাচ দেখানোর পর ব্রডকাস্টিংয়ের মূল্য ছিল বছরে ২৭৫ কোটি টাকা। জিও হটস্টার ও স্টারে ম্যাচ দেখানো হত। তা এসে দাঁড়িয়েছে ৮.৬২ কোটিতে। অর্থাৎ ম্যাচ পিছু খরচ ৯.৫ লক্ষ টাকা। অধঃপতন বোধহয় একেই বলে!
আর সেখানে চোখ রাখা যাক কেরলের ফুটবল লিগে। ২০২৩ থেকে শুরু হয়েছে সুপার লিগ কেরালা। আট দলের এই লিগ দেখানো হয় সোনি স্পোর্টস ছাড়াও আরও তিনটি সম্প্রচারকারী সংস্থায়। যার মোট ব্রডকাস্টিং মূল্য ১০০ কোটি টাকা। এবছরের সংক্ষিপ্ত আইএসএলের দশগুণ বেশি। ৫ বছরের চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে এসএলকে দেখানোর জন্যও আলাদা সম্প্রচারকারী সংস্থা রয়েছে। মোট ম্যাচ ৯১টি। অর্থাৎ ম্যাচপিছু খরচ ২২ লক্ষ টাকা। কেরলবাসীদের ফুটবলপ্রেম নতুন কিছু নয়। কেরালা ব্লাস্টার্স এখনও আইএসএল ট্রফি জেতেনি। কিন্তু তাতেও প্রতিটি হোম ম্যাচে স্টেডিয়াম ভরিয়ে তোলেন 'মঞ্জাপাদা'রা।
প্রশ্ন হল, ভারতের একটি রাজ্য যদি এত সাফল্য পেতে পারে, তাহলে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন কেন ব্যর্থ? এর জন্য দায়ী, পরিকল্পনার অভাব ও দীর্ঘসূত্রিতা। এফএসডিএল ম্যাচপিছু দিত ১.৬৮ কোটি টাকা। তখন ম্যাচ হত ১৬৩টি। এই বিরাট পরিমাণ অর্থের কী মূল্য তখন বোধহয় টের পাননি ফেডারেশন কর্তারা। এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন!
