shono
Advertisement
Shafali Verma

ছেলে সেজে মাঠে নামতে হয়েছিল, রোহতকের সেই শেফালি আজ দেশের 'রানি'

ঈশ্বরের বার্তা নিয়ে ১৪০ কোটির স্বপ্নপূরণ করলেন শেফালি।
Published By: Subhajit MandalPosted: 12:22 AM Nov 03, 2025Updated: 12:34 AM Nov 03, 2025

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: 'ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন নিশ্চয়ই ভালো কিছু করতে।' আচমকা বিশ্বকাপে ডাক পেয়ে গিয়ে এই শব্দগুলিই বলেছিলেন শেফালি বর্মা। প্রতীকা রাওয়ালের চোটের পর অনেকেই হা হুতাশ করেছিলেন। এত বড় শূন্যস্থান পূরণ হবে কী করে? সেসময় ভারতীয় ক্রিকেট মহলের হয়তো কেউই ভাবেননি প্রায় আস্তাকুড়ে ফেলে দেওয়া কোনও এক শেফালি বর্মা ঈশ্বরপ্রেরিত দূতের মতো ফাইনালে ভারতের মহানায়িকা হয়ে উঠবেন। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী শেফালি বলে দিয়েছিলেন, "নিজের ২০০ শতাংশ দিতে চাই।" শেফালি ২০০ শতাংশ দিয়েছেন। শুধু ফাইনালে নয়, গোটা ক্রিকেট জীবনেই। মেয়েবেলায় ছেলে হয়ে খেলাই হোক, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করাই হোক। 

Advertisement

আসলে বিশ্বকাপে যে ব্র্যান্ডের ক্রিকেট প্রতীকা রাওয়াল খেলেছেন, তাঁর বদলি হিসাবে শেফালি ছাড়া কারও কথা ভাবা যেত না। শেষমেশ তিনি সুযোগ পেলেন। আর গত কয়েক বছরের সব ব্যর্থতা ছুড়ে ফেলে দিয়ে ফাইনালে ঈশ্বর প্রেরিত দূত হিসাবে ভারতের ভাগ্যাকাশে উদয় হলেন। ৭৮ বলে ৮৭ রানের যে ইনিংসটা ‘হরিয়ানা কি ছোড়ি’ খেলে গেলেন, সেটা রীতিমতো বাঁধিয়ে রাখার মতো ঝকঝকে। বহু বছর স্মৃতিতে ধরে রাখার মতো স্মরণীয়। ভাবা যায়, এই শেফালিই গত ৩ বছরে ওয়ানডে-তে একটাও হাফসেঞ্চুরি পাননি! আর শুধু ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেও তিনি যেন ভেলকি দেখালেন। খানিক উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো। বোলার শেফালি যে অফ স্পিনে পরপর দু'ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে কঠিন সময়ে ভারতকে ম্যাচে ফেরাবেন কে জানত? যে সময় তিনি জোড়া উইকেট পেলেন, সেসময় ভারত রীতিমতো কঠিন পরিস্থিতিতে। ম্যাচ শেষে শেফালি সেই পুরনো কথাই বললেন, "ঈশ্বর আমাকে ভালো কিছু করতেই পাঠিয়েছিলেন। নিজের উপর বিশ্বাস ছিল।"

আসলে শেফালি বরাবরই কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করে এসেছেন। ক্রিকেটে হাতেখড়ি ৮ বছর বয়সে। কিন্তু হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রামে মেয়েদের ক্রিকেট খেলার চল ছিল না। তাই শেফালিকেও শুনতে হয়েছে, মানুষ আবার খেলা কীসের? কিন্তু তাতে হতাশ হননি শেফালি। অবশ্য বাবার আশীর্বাদের হাত মাথায় ছিল। মেয়েবেলায় বাবাই তাঁকে ছেলে সাজিয়ে খেলতে পাঠাতেন ছেলেদের সঙ্গে। দাদাদের সঙ্গে দিব্যি ছেলে সেজে ছেলেদের টুর্নামেন্টে খেলে যেতেন। তখনই বাবা সঞ্জীব বর্মা বুঝে গিয়েছিলেন এ মেয়ে অনেক দূর যাবে। অবশ্য শেফালির ছেলে সেজে খেলাটা বেশিদিন চলেনি। একটা সময় ধরা পড়ে যান। তাঁকে নির্বাসিত করা হয় স্থানীয় টুর্নামেন্ট থেকে। বাধ্য হয়ে সঞ্জীব বাড়িতেই মেয়ের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন। শেফালির নামের পাশে বহু রেকর্ড রয়েছে। মাত্র ১৫ বছরে অভিষেক। সবচেয়ে কম বয়স্ক ভারতীয় হিসাবে তিন ফরম্যাটে খেলে ফেলা। এক টেস্টে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানো। এমন বহু রেকর্ড।

কিন্তু শেষ বছর দু'য়েক ভালো যায়নি শেফালির। ক্রিকেট অদৃষ্ট বলতে পারেন। ক্রিকেট দেবতার রসিকতা বলতে পারেন। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে নামার আগে শেষবার ভারতের হয়ে শেফালি খেলেছেন এক বছর আগে। সে অপেক্ষা বিলম্বিত হতো হয়তো। যদি না প্রতীকা রাওয়াল চোট পেয়ে যেতেন। আসলে শেফালি এই টুর্নামেন্টে এসেছেন ভারতের জন্য ঈশ্বরের দূত হয়ে। এদিন ফাইনালে পা রেখেই রেকর্ড গড়েছিলেন। সবচেয়ে কম বয়স্ক ভারতীয় ক্রিকেটার হিসাবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার। ফাইনাল তিনি শেষ করলেন ভারতের ম্যাচ উইনার হিসাবে। ও হ্যাঁ আরও একটা রেকর্ড তিনি করে ফেলেছেন। প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে বিশ্বকাপ ফাইনালে পঞ্চাশ রান এবং জোড়া উইকেট গড়ার নজির তাঁর আগে কারও ছিল না। পরে সেটা দীপ্তি শর্মা ছুঁয়েছেন বটে।
এদিন শেফালি যে পারফরম্যান্সটা দেখালেন তাতে তাঁর নিজের কেরিয়ারের মোড় পুরো ঘুরিয়ে দিল, সেই সঙ্গে ভারতকেও প্রথমবারের জন্য বিশ্বজয়ের শিরোপা এনে দিল। ১৪০ কোটি ভারতবাসী আজ হয়তো প্রতীকার চোটের আফসোস ভুলতে পেরেছেন। আসলে ঈশ্বর যা করেন, মঙ্গলের জন্যই তো করেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • আচমকা বিশ্বকাপে ডাক পেয়ে গিয়ে এই শব্দগুলিই বলেছিলেন শেফালি বর্মা।
  • আচমকা বিশ্বকাপে ডাক পেয়ে গিয়ে এই শব্দগুলিই বলেছিলেন শেফালি বর্মা।
  • সেসময় ভারতীয় ক্রিকেট মহলের হয়তো কেউই ভাবেননি প্রায় আস্তাকুড়ে ফেলে দেওয়া কোনও এক শেফালি বর্মা ঈশ্বরপ্রেরিত দূতের মতো ফাইনালে ভারতের মহানায়িকা হয়ে উঠবেন।
Advertisement