ক্রিকেটের মতো ক্রিকেট-সংস্কার নিয়েও ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর বেশ কড়া। টেকনিক্যাল ব্যাপারস্যাপার ছাড়াও খেলাটার পারিপার্শ্বিকে ঘুরতে থাকা সংস্কারগত যে সমস্ত বিষয়-আশয় থাকে, তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখেন তিনি। যেমন ভারতের বিভিন্ন শহরে যে সব জাগ্রত মন্দির বা দেবালয় রয়েছে, গম্ভীর নিয়ম করে সেখানে যান। পুজো-আচ্চা দেন। কলকাতায় গেলে কালীঘাট। মুম্বই গেলে সিদ্ধি বিনায়ক। গুয়াহাটি গেলে কামাখ্যা। অর্থাৎ, খেলার যে আচার সাফল্য-প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড় ভাবে জুড়ে থাকে, যা যা রেওয়াজ পালিত হয়, ভারতীয় কোচের কাছে তা সদা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক জানা নেই, সে কারণেই কি না। তবে সব ঠিকঠাক চললে, ২০২৪ আইপিএল ফাইনালের পূর্বে গম্ভীরের 'মেন্টরশিপে' কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট যা করেছিল, প্লেয়ারদের জন্য বিশেষ যে বন্দোবস্ত রেখেছিল, রোববারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতীয় সংসারেও যদি তা ফেরে, বিস্মিত হওয়ার থাকবে না। অন্তত তার চেষ্টাচরিত্র যে চলছে, লেখাই যায়।
যেমন? ঠিক কী চলছে?
চেন্নাইয়ে ২০২৪ আইপিএল ফাইনালের আগে প্লেয়ারদের বাড়ির সদস্যদের ভিডিও দেখানোর বন্দোবস্ত করেছিল কেকেআর। তাঁদের মনোবল বাড়াতে। মাঠে নামার আগে তাতিয়ে দিতে। কাউকে তাঁদের পিতা-মাতা, কাউকে আবার স্ত্রী-সন্তানরা ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন ফাইনালের আগে। যার পরিণতি ফাইনালে সবচেয়ে ভালো টের পেয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ফাইনাল শুরুর কিয়ৎক্ষণের মধ্যে নাইটদের থেকে নির্মম থেঁতলানি খেয়ে! যা সামলে পরে তারা আর ফিরে আসতে পারেনি। কেকেআরও ড্যাং-ড্যাং করে টুর্নামেন্ট ফাইনাল জিতে যায়।
স্মরণে রাখা ভালো, সে সময় কেকেআরের মেন্টর ছিলেন গম্ভীর। অধুনা ভারতীয় টিমের কোচ যিনি। শোনা গেল, টিম ম্যানেজমেন্ট নাকি ভেবেছে, ফাইনালে নামার আগে প্লেয়ারদের বাড়ির সদস্যদের ভিডিও আনানোর কথা। রাতের দিকের খবর, কয়েকটা এমন ভিডিও চলেও এসেছে ম্যানেজমেন্টের কাছে।
শনিবার অনুশীলনের ফাঁকে সূর্য, সঞ্জু এবং বরুণ। ছবি অমিত মৌলিক।
একটা বিষয় চূড়ান্ত যদিও। আহমেদাবাদের কোন পিচে ভারত বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে, সেটা। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের ছ'নম্বর পিচে বিশ্বকাপ ফাইনাল হবে। যা পুরোদস্তুর রানের 'রাম-রাজ্য'! লাল আর কালো, দু'ধরনের মাটির মিশ্রণে তৈরি হয়েছে যে পিচ। শনিবার নিউজিল্যান্ড থেকে বিশ্বকাপ কভার করতে আসা ক্রিকেট সাংবাদিকদের কেউ কেউ আহমেদাবাদে আইসিসি কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন যে, পিচটা ভারত চেয়েছে কি না? আসলে দিন দশেক আগে আমেদাবাদের বাইশ গজ প্রবলভাবে ভুগিয়েছিল ভারতকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে কদর্য হেরে সেমিফাইনাল দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল সূর্যকুমার যাদবদের! অবশ্যই ফাইনালের পিচ অমন হবে না। রানে 'ভুবন' তার ভরে থাকবে। তবে শুনলাম, ভারত নিজে থেকে এ পিচ চায়নি। আইসিসি'র দণ্ডমুণ্ডের কর্তারাই ছ'নম্বর পিচ ফাইনালের জন্য নির্ধারণ করেছেন। প্রায় দশ দিন আগে, বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের অধিক পূর্বে, ফাইনালের পিচ চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।
শনিবার ফাইনালের পিচ ঢেকে রাখা হল দীর্ঘক্ষণ। নেপথ্য কারণ সহজেই অনুমেয়। আহমেদাবাদের প্রখর তাপের থেকে তাকে রক্ষা করা। দুপুরের দিকে সামান্য সময়ের জন্য পিচ কভার সরাতে দেখলাম, ঘাসের একটা আস্তরণ ছেড়ে রাখা হয়েছে বাইশ গজে। পিচের বাঁধুনিকে বাঁচাতে। শুনলাম, চলতি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কানাডা ম্যাচ হয়েছিল এই বাইশ গজে। যে খেলায় দু'শো তিরিশ রান তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা! এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলে গেলেন, ফাইনালে প্রতুল রান তিনি প্রত্যাশা করছেন। দু'শো কুড়ি-দু'শো তিরিশ অনায়াসে উঠে যেতে পারে। আহমেদাবাদ ক্রিকেট সংস্থার কেউ কেউ আবার মনে করিয়ে দিলেন, গুজরাট টাইটান্স জার্সিতে এই পিচে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক শুভমান গিলের দু'খানা সেঞ্চুরি আছে! রোববারের ফাইনালে গিল থাকবেন না। ক'দিন আগে দেখেছিলাম, তিনি দেশে নেই। কিন্তু তাতে কী? সশরীরে থাকুন না থাকুন। পরোক্ষে আহমেদাবাদ ফাইনালে তো অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে গেলেন ভারতীয় টেস্ট অধিনায়ক!
