ব্যাকব্রাশ চুল, কালো শার্ট, ভারিক্কি চেহারার ভদ্রলোককে চিনতে পারিনি প্রথমে। পরে ভালো করে ঠাওর করার পর বুঝলাম, উনি রাজকুমার শর্মা। না, না। বিরাট কোহলির কোচ নন। ইনি অভিষেক শর্মার (Abhishek Sharma) পিতা রাজকুমার। যিনি নিকষ কালো সাইটস্ক্রিনের সঙ্গে প্রায় মিশে ছিলেন দীর্ঘক্ষণ। পাশে সিকিউরিটি। যাঁর দৃষ্টি নিবন্ধ আহমেবাদের অতিকায় মাঠের এক পাশে। যেখানে তাঁর পুত্রের 'ক্লাস' নিচ্ছিলেন ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর।
ছেলেকে কিছু বললেন-টললেন নাকি? ক্রিকেট সাংবাদিকের সওয়ালে চকিতে ডানদিকে ঘুরলেন রাজকুমার। তা শুনলাম, পিতামন্ত্র নয়। আমেদাবাদ ফাইনালের প্রাক মুহূর্তে ছেলেকে গুরুমন্ত্র দিয়েছেন তিনি। 'অভিষেককে বলেছি, একদম ঘাবড়াবি না। টেনশন করবি না। তুই ক্রিকেট খেলতি কেন? আনন্দ পেতে তো? ক্লাব ক্রিকেটের দিনকালে ফিরে যা। পাঞ্জাবের হয়ে যে দিন বড় মাঠে ব্যাট করতে নামলি, সেই দিনটা মনে কর। ফিরিয়ে আন সেই আনন্দ। আর হ্যাঁ, ওকে বলেছি যে, ফাইনালে হারলি না জিতলি, অতে আমাদের কিছু যায়-আসে না। তুই আমাদের কাছে চ্যাম্পিয়ন ছিলি, আছিস, থাকবি," বলছিলেন রাজকুমার।
যা শ্রবণে মাত্র বড় ভালো লাগল। গা শিরশিরিয়ে উঠল? কারা বলে যে, আমেদাবাদে দু'হাজার ছাব্বিশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে আড়াই বছর পূর্বের ওয়ান ডে বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো গমগমে ব্যাপার নেই। সে উত্তাপ নেই, সে রোমাঞ্চ নেই। শনিবার রাত্তিরে অভিষেকের পিতার সঙ্গে বাক্যালাপ শুনলে, ট্রেনিং শেষে পুত্রের পিতাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করার দৃশ্য দেখলে, সেই ধারণ বদলাত নিশ্চিত। ক'টা বিশ্বকাপ ফাইনাদের প্রাক্কালে প্রকাশ্যে পিতার আশীষ নিতে দেখা গিয়েছে, টিমের দিকভ্রষ্ট নায়ককে। নাহ, স্মরণকালে কখনও দেখেছি বলে মনে পড়ে না। শুনলাম, ভারতের টেস্ট অধিনায়ক শুভমন গিলও ফোন করেছিলেন অভিষেককে। রাজকুমারই বললেন। বললেন যে, অভিষেককে ফোনে বিস্তর সাহস-টাহস জুগিয়েছেন তাঁর ছেলেবেলার বন্ধু।
আসলে বিশ্বকাপে অভিষেক না আসছেন ঠিকমতো নিত্য ট্রেনিংয়ে। না মাঠে করছেন কিছু। উল্টে বাউন্ডুলে সমস্ত শট মেরে রোজ আউট হচ্ছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পুনরায় কুৎসিত শটে আউট হওয়ার পর ক্ষোভ-বিক্ষোভের উদ্গীরণ ঘটে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভারতীয় সমর্থকরা পর্যন্ত রেগে কাঁই হয়ে লিখে দিয়েছেন, অভিষেক ব্যাটার নন, পরিষ্কার ‘স্লগার’। ফাইনালে কি আহমেদাবাদে আছড়ে পড়বে 'অভি-সিক্স' ঝড়? স্বমহিমায় ফিরবেন বিশ্বের সেরা টি-২০ ব্যাটার?
