ভারত: ২৫৬/৪ (অভিষেক-৫৫, হার্দিক-৫০*)
জিম্বাবোয়ে: ১৮৪/৬ (বেনেট- ৯৭*, অর্শদীপ- ৩/২৪)
ভারত জয়ী ৭২ রানে
দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। গম্ভীরের নেতৃত্বে সেখানে ফেভারিট হিসেবেই শুরুটা করেছিল টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেই জোর ধাক্কা খান সূর্যকুমার যাদবরা। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাস্ত হয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছনোর অঙ্ক রীতিমতো জটিল করে ফেলে ভারত। তবে ভাগ্যদেবী সহায়! সুপার এইটের কার্যত সবচেয়ে দুর্বল দল জিম্বাবোয়েকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে লক্ষ্মীবারের চিপকে অগ্নিপরীক্ষায় ভালোভাবেই উতরে গেলেন হার্দিকরা। ৭২ রানে জয়ী ভারত। তবে পিকচার আভি বাকি হ্যায়। বলা ভালো, পিকচারের ক্লাইম্যাক্সই বাকি। আগামী রোববার যার সাক্ষী থাকতে চলেছে ইডেন গার্ডেন্স। সেখানকার ফলাফলই বলে দেবে ভারত ইন নাকি আউট।
কলকাতায় পা রাখার আগে দলের সবচেয়ে বড় স্বস্তি অভিষেক শর্মার ফর্মে ফেরা। অসুস্থতা সারিয়ে আবারও চেনা ছন্দে তরুণ তুর্কি। দুরন্ত হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে যেন জানান দিলেন, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।
এদিনের ম্যাচ শুরুর আগে সূর্যবাহিনীর কাজটা অনেকখানি সহজ করে দিয়েছিল প্রোটিয়ারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে। আর বাকি কাজটা করলেন ভারতীয় তারকারা। কলকাতায় পা রাখার আগে দলের সবচেয়ে বড় স্বস্তি অভিষেক শর্মার ফর্মে ফেরা। অসুস্থতা সারিয়ে আবারও চেনা ছন্দে তরুণ তুর্কি। দুরন্ত হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে যেন জানান দিলেন, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট। চারটি করে বাউন্ডারি এবং ছক্কা হাঁকিয়ে ৫৫ রান করেন তিনি। নিন্দুকরা বলতে পারেন, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে বলেই হয়তো জ্বলে উঠলেন। কিন্তু শূন্যের হ্যাটট্রিকের পর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যে পুল, সুইপ শটে বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন, তা পরের ম্যাচের জন্য তাঁকে অক্সিজেন দেবে বইকী! এদিকে রিঙ্কুর বদলি হিসেবে এদিন দলে ঢোকেন সঞ্জু। ওপেনিংয়ে তাঁকে খেলিয়ে অফস্পিনার-আতঙ্ক কাটাল দল।
তিলক বর্মাকে নিয়েও চিন্তার ভাঁজ কমল গম্ভীরের কপালে। মন্থর ব্যাটিংয়ের খোলস ঝেড়ে ১৬ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত তিনি। সেই সঙ্গে অর্ধশতরান (অপরাজিত) করে হার্দিকও বুঝিয়ে দিলেন, তাঁকে ভুললে চলবে না। গ্যালারিতে বসে তাঁর চোখ ধাঁধানো ইনিংস উপভোগ করলেন প্রেমিকা মাহিকা।
এদিকে ভারতের কাছে দুরমুশ হয়ে এবারের মতো বিশ্বকাপকে বিদায় জানাল জিম্বাবোয়ে। তবে তাদের এই সফর নিঃসন্দেহে স্বরণীয় হয়ে থাকবে। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো থেকে সুপার এইটে ভারতকে জোর টক্কর দেওয়া, এ-ই বা কম কী? শুধু তাই নয়, পরের বিশ্বকাপে সরাসরি মূল পর্বেও ঢুকে পড়ার সুযোগও পেয়ে গেল তারা। জয়ের স্বাদ না পেলেও কঠিন সময়ে ব্রায়ান বেনেটের অনবদ্য ৯৭ রানের (অপরাজিত) ইনিংস মনে রাখবে চেন্নাই। তাঁর ৮টি চার এবং ছয় ছক্কার সৌজন্যেই ১৮৪ পর্যন্ত পৌঁছে যায় জিম্বাবোয়ে।
এদিন বুমরাহ এবং হার্দিকের ঝুলিতে উইকেট না এলেও ৩ ওভারে দু'জনই ২১ রান দিয়ে জিম্বাবোয়েকে বেঁধে রাখলেন। তবে সিকান্দার রাজাদের ব্যাটিং লাইন আপে ধস নামান অর্শদীপ সিং। চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। একটি করে উইকেট বরুণ চক্রবর্তী, শিবম দুবে এবং অক্ষর প্যাটেলের খাতায়। তবে ব্যাটিং বিভাগ স্বস্তি দিলেও বোলারদের জন্য কিন্তু চিন্তায় থাকবে টিম ম্য়ানেজমেন্ট। বিশেষ করে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও দুবে যেভাবে শেষ ওভারে একাধিক ওয়াইড দিলেন, তা প্রত্যাশিত নয়।
এবার আসা যাক রোববারের কলকাতায়। এদিন প্রোটিয়ারা জিতে যাওয়ায় আর কোনও কঠিন সমীকরণ নেই। তবে ১ মার্চই ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। যে জিতবে, সে সেমিতে। অন্য দল ফিরবে বাড়ি। তাই বড় ব্যবধানে জিতেও আপাতত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছে না মেন ইন ব্লু।
