ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট। বৃহস্পতিবারের চিপকে সেই পুরনো প্রবাদ আবারও মনে করিয়ে দিলেন অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর লাগাতার ব্যর্থতা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন উঠেছে। শূন্যের হ্যাটট্রিকের পরও কেন বারবার প্রথম একাদশে রাখা হচ্ছে তরুণ তুর্কিকে, কেন সঞ্জু স্যামসনকে খেলানো হচ্ছে না, সমস্ত প্রশ্ন উপেক্ষা করেই অভিষেকে আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই ভরসার প্রতিদান দিলেন তরুণ তুর্কি, ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বেশি চর্চা ছিল অভিষেককে নিয়ে। চর্চার বিষয়বস্তু ছিল, ভারতীয় ওপেনারের বিধ্বংসী ফর্ম। কিন্তু সেই ছবিটা একেবারে পালটে যায় বিশ্বকাপ শুরু হতেই। প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে যান। তারপর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিষেক। ভর্তি হন হাসপাতালে। তারপর গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে পাকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধেও অভিষেকের সংগ্রহ শূন্য। তখন থেকে তারকা ওপেনারের ফর্ম নিয়ে সমালোচনা শুরু। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ১২ বলে মাত্র ১৫ রান করে আউট হয়ে যান অভিষেক। বাড়ে সমালোচনার মাত্রা।
তবে টিম ম্যানেজমেন্ট বরাবর অভিষেকের পাশে থেকেছে। তাঁকে দলের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, ব্যর্থতা নিয়ে কোনও ভাবার দরকার নেই। আগের ম্যাচগুলোতে কী হয়েছে, সে’সব পুরো ভুলে যাও। জিম্বাবোয়ে ম্যাচ থেকে সব নতুন করে শুরু করো। সেই মন্ত্রকেই আত্মস্থ করে বৃহস্পতিবার জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ইনিংস শুরু করেন। প্রথমদিকের কয়েকটা ডেলিভারি 'শান্ত' থাকার পর চেনা ছন্দে ধরা দেন। বিশাল মাপের ছক্কা হাঁকান। ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সমালোচকদের জবাব দিয়ে দিলেন তরুণ তুর্কি।
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিততে পারলে সেমিফাইনালে ওঠার পথ অনেকটা মসৃণ হবে ভারতের। তাই শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলেছেন সঞ্জু স্যামসনরা। পাওয়ার প্লে'তেই ৮০ রান তুলে ফেলে ভারত। ইশান কিষান, সূর্যকুমার যাদবরাও ঝোড়ো ব্যাটিং করছেন। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতোই বড় রান তুলতে পারে ভারত। বিরাট ব্যবধানে ভারত জিতলে তার কৃতিত্ব অনেকখানিই যাবে 'কামব্যাক কিং' অভিষেকের ঝুলিতে।
