ক্রিকেটবিশ্বে ফিল্ডিংয়ে রেনেসাঁ এনেছিলেন তিনি। তাঁর ফিল্ডিং দেখার জন্য গ্যালারিতে আলাদা করে ভিড় জমত। জন্টি রোডস। যাঁকে ফিল্ডিং কোচ করে এনেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। যদিও তাঁর আমলে দলের ফিল্ডিংয়ে খুব বিশেষ উন্নতি হয়নি। সেই কারণে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল সঞ্জীব গোয়েঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি। আসন্ন মরশুমে তাঁর জায়গায় ফিল্ডিং কোচ হিসাবে দেখা যাবে অভয় শর্মাকে।
প্রথম দু’বার প্লে অফে উঠেও ফাইনালে যেতে পারেনি লখনউ সুপার জায়ান্টস। গতবার লিগ টেবিলের সপ্তমে শেষ করেছে এলএসজি। দল গঠনের ক্ষেত্রে আরও অনেক সিদ্ধান্তই তাদের বিপক্ষে গিয়েছে। তবে এবার অতীত ভুলে নতুন উদ্যমে শুরু করতে চাইছে লখনউ। মিনি নিলামে দলে বেশ কিছু বদলের পাশাপাশি সাপোর্ট স্টাফেও বেশ কিছু পরিবর্তন করেছে তারা। স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজারের দায়িত্বে এসেছেন কেন উইলিয়ামসনকে। টম মুডিকে করা হয়েছে গ্লোবাল ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট। এবার জন্টিকে সরিয়ে ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব দেওয়া হল অভয় শর্মাকে।
কে এই অভয় শর্মা? দিল্লির প্রাক্তন ক্রিকেটার তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ২০১৬, ২০১৮ ও ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের সহকারী কোচের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ২০১৮ সালে পৃথ্বী শ’র নেতৃত্বে যুব বিশ্বকাপ যেতে ভারত। সেই দলের ফিল্ডিং কোচ ছিলেন। তাছাড়াও ভারতীয় মহিলা দলের সঙ্গে ২০২১ সালে কাজ করেছিলেন অভয়।
অন্যদিকে, উগান্ডার জাতীয় দলের হেডকোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর কোচিংয়েই আফ্রিকার দেশটি ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছিল। তাছাড়াও ঋষভ পন্থের সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্ক। কেরিয়ারের প্রথম দিকে এলএসজি অধিনায়কের সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি। তাছাড়াও শুভমান গিল, যশস্বী জয়সওয়াল, ধ্রুব জুরেল, অর্শদীপ সিং, আভেশ খানরাও জুনিয়র স্তরে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। এখন দেখার, তাঁর অধীনে কতটা 'অভয়' ফেরে লখনউয়ের ফিল্ডিংয়ে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত এলএসজি'র ফিল্ডিং কোচ ছিলেন প্রোটিয়া কিংবদন্তি জন্টি রোডস। যদিও তাঁর অধীনে অত্যন্ত হতাশাজনক পরিসংখ্যান। গত মরশুমে প্রথম ৯ ম্যাচে ১৪টি ক্যাচের সুযোগ নষ্ট করে এলএসজি। সঙ্গে ২২টি রান আউটের সুযোগ নষ্ট করে তারা।
