অভিষেক শর্মার জীবনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) এখনও পর্যন্ত সুখের হয়নি। বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বে এ পর্যন্ত দু'টো ম্যাচ খেলেছেন বিস্ফোরক ভারতীয় ওপেনার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে একটা রানও করা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম বলে আউট। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজের ইনিংসের চতুর্থ বলে। মাঝের সময়টায় অসুস্থতা প্রবল ভুগিয়েছে অভিষেককে। এতটাই যে, হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি হতে হয়।
কিন্তু তার অর্থ এটা নয় যে, অভিষেক শর্মা ছন্দে নেই। আজ বুধবার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচ ভারতের। যা পুরোদস্তুর নিয়মরক্ষার। কারণ, ভারত ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠে গিয়েছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সূর্যকুমার যাদবদের প্রথম সুপার এইট যুদ্ধে নামা কনফার্মড। ডাচদের বিরুদ্ধে ভারত যে মাঠে খেলতে নামবে, সেখানে-আমেদাবাদে। তাই ডাচদের বিরুদ্ধে আজকের ম্যাচ আদতে দক্ষিণ আফ্রিকা যুদ্ধের প্রস্তুতি মাত্র। সূর্যকুমার যাদবের ভারত যে প্রস্তুতি শুরু করেও দিল। এবং যাবতীয় নজর একজনেরই দিকে।
অভিষেক শর্মা।
মঙ্গলবার নেটে অভিষেককে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, গত পাঁচটা টি টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁর ফর্ম পড়তির দিকে। শেষ পাঁচটা টি-টোয়েন্টি ইনিংসে সম্মিলিত ৫৪ রান করেছেন ভারতীয় ওপেনার। যার মধ্যে তিনটে শূন্য রয়েছে। এ দিন ভারতীয় দলের ঐচ্ছিক ট্রেনিং সেশন ছিল। সেখানে অভিষেককে তীব্র আক্রোশে বলকে মাঠের বাইরে বারবার পাঠাতে দেখা গেল। মূলত, ব্যাট ফ্লো এবং পাওয়ার হিটিংয়ের প্রতি এ দিন নজর দিচ্ছিলেন তিনি। ভারতীয় দলও অভিষেকের আচম্বিত অফ ফর্ম নিয়ে চিন্তিত নয়। এ দিন প্রাক্ ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলন করতে এসেছিলেন ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। তিনি বলে যান, "আমরা অতিরিক্ত অ্যানালিসিস করতে পছন্দ করি না। অভিষেকের একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। সেই মতো ও খেলার চেষ্টা করছে। ঠিক আছে। ওকে ওর মতো খেলতে দেওয়া হোক।" সঙ্গে কোটাকের সংযোজন, "আসলে টি টোয়েন্টি ক্রিকেটটাই এ রকম। এই ফর্ম্যাটে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তাই প্লেয়াররা কখনও না কখনও আউট হবেই। কিন্তু আমরা যদি প্লেয়াদের আউট নিয়ে বেশি ভাবি, ক্রিকেটাররা চাপে পড়তে বাধ্য। অভিষেক ফর্মে রয়েছে। ওর মানসিকতা পরিষ্কার। পরিকল্পনা স্বচ্ছ। অসুস্থ হওয়ার আগে রান করেছে অভিষেক। আবারও করবে।"
অভিষেক ফর্মে রয়েছে। ওর মানসিকতা পরিষ্কার। পরিকল্পনা স্বচ্ছ। অসুস্থ হওয়ার আগে রান করেছে অভিষেক। আবারও করবে।
অভিষেক শর্মা ছাড়া তিলক বর্মা, রিঙ্কু সিং, অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব-এঁরা এসেছিলেন ট্রেনিংয়ে। ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরকে দেখা গেল, তিলকের সঙ্গে উত্তেজিত কথোপকথন চালাচ্ছেন, একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে বলকে হিট করা নিয়ে। মাঝে সূর্য আবার কিছুক্ষণ অর্শদীপ সিং আর বরুণ চক্রবর্তীর বোলিংয়ের বিরুদ্ধে মহড়া সেরে গেলেন। বোলারের মাথার উপর দিয়ে বলকে বাউন্ডারিতে পাঠাতে চাইছিলেন ভারত অধিনায়ক। সঙ্গে নিজের ট্রেডমার্ক সুইপ শটে মাজাঘষা করা তো ছিলই। তবে একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস এ দিন লক্ষ্য করা গেল। কুলদীপ যাদব আর অর্শদীপকে নিয়ে ভারতের ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের ফিল্ডিং ড্রিল। বিশেষ করে কুলদীপদের হাই ক্যাচ ধরা প্র্যাকটিস করাচ্ছিলেন দিলীপ। তথ্যের খাতিরে বলে রাখি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির ক্যাচ বাউন্ডারি লাইনে ফেলেন কুলদীপ। পরিণতি হিসেবে, হার্দিক পাণ্ডিয়ার কাছে বকাঝকাও খান।
