বিগত কয়েক দিন ধরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) যাবতীয় চর্চা, সমস্ত আলোচনা একজনকে নিয়েই হচ্ছে। উসমান তারিকের সাইড আর্ম বোলিং অ্যাকশন, ডেলিভারি রিলিজের আগে আচমকা সেকেন্ডখানেকের 'পজ' রীতিমতো ফাঁপরে ফেলে দিয়েছে ক্রিকেট দুনিয়ার তাবড় বিশেষজ্ঞদের। পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আঘাও বা এহেন পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা সুযোগ ছাড়বেন কেন? ভারত-যুদ্ধের আগে তিনিও সাফ বলে রেখেছেন, তাঁর দলের ট্রাম্প কার্ড একজনই। উসমান তারিক! রহস্য উৎপাদনে যিনি সিদ্ধহস্ত।
সাম্প্রতিক অতীত তো বটেই। সূদূর অতীতেও পেসাররাই পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছেন। স্মরণকালের মধ্যে এবারই প্রথম দেখা যাচ্ছে, শাহিন শাহ আফ্রিদি-নাসিম শাহদের চেয়ে চর্চা-আলোচনার ময়দানে শতগুণ এগিয়ে গিয়েছেন স্পিনার উসমান। কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন, আদৌ উসমানের অ্যাকশন বৈধ তো? আইসিসি-র বিধি অনুযায়ী কনুই যতটা ভাঙা যায়, ততটাই তিনি ভাঙছেন তো? আর এই যে বল রিলিজের আগে 'পজ'-সেটাই বা কতটা আইনসিদ্ধ। শ্রীবৎস গোস্বামী এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মধ্যে এ নিয়ে তো সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা কাটাকাটিও হয়ে গিয়েছে একপ্রস্থ।
এমতাবস্থায় পাক অধিনায়ক যে নিজের সতীর্থের পাশে দাঁড়াবেন, সহজেই অনুমেয়। সলমন বলে দিলেন, "উসমান আমাদের স্কোয়াডের পনেরোজন প্লেয়ারের একজন। আমরা ওকে সেই নজরেই দেখি। আপনারাই বরং ওকে নিয়ে নাচানাচি করছেন। তবে এটা মানতেই হবে, ও গত কয়েক মাসে দারুণ বোলিং করেছে। এটাও বলতে দ্বিধা নেই, উসমানই আমাদের ট্রাম্প কার্ড।" কিন্তু পাক অধিনায়কের সংক্ষিপ্ত উত্তরে ক্ষুধা মেটেনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার। উসমানের বোলিং, তাঁর অ্যাকশন নিয়ে পরের পর প্রশ্ন ধেয়ে যেতে থাকে।
এবার সলমন বলেন, "উসমানের এ সমস্ত কথাবার্তায় কিছু যায়-আসে না। খেলা শুরুর দিন থেকে অ্যাকশন নিয়ে শুনে আসতে হয়েছে ওকে। আইসিসি দু'বার ওর অ্যাকশন নিয়ে ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে। তা হলে আর ভাবার কী আছে?” সঙ্গে যোগ করেছেন, "আমি তাই বুঝতে পারছি না, উসমানকে নিয়ে এত কথাবার্তা লোকে বলছে কেন? তবে এটুকু বলতে পারি, উসমানের এ ধরনের কথাবার্তায় কিছু যায়-আসে না। ও খুব ভালো ভাবে জানে, এসব কী ভাবে ম্যানেজ করতে হয়।" সবমিলিয়ে, ভারতের বিরুদ্ধে উসমানকেই প্রধান অস্ত্র করে এগোতে চাইছে পাক ব্রিগেড।
