কথায় বলে মর্নিং শোজ দ্য ডে। কিন্তু চলতি টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে যে দলগুলি দাপুটে পারফরম্যান্স করে সুপার এইটে উঠেছিল, তারা যেন কেমন মিইয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছিল আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বুধবার নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে গেল তারা। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসাবে সুপার এইট থেকে বিদায় নিল দাসুন শনাকার দল। পরপর দুই ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের জেরে লঙ্কাবাহিনীর বিশ্বকাপস্বপ্নের সলিলসমাধি ঘটল।
সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেও শ্রীলঙ্কাকে ভুগিয়েছিল ব্যাটিং। দ্বিতীয় ম্যাচটা মরণবাঁচন হলেও ব্যাটিং রোগের দাওয়াই খুঁজে পাননি পাথুম নিশঙ্কারা। বুধবার কলম্বোয় টস জিতে প্রথমে বল করে শ্রীলঙ্কা। প্রথম দশ ওভারে কিউয়ি ব্যাটারদের বেশ আটকে রেখেছিলেন মহেশ ঠিকশানা-দুষ্মন্ত চামিরারা। সেসময়ে স্কোরবোর্ডে নিউজিল্যান্ড তুলেছিল মাত্র ৭৫ রান। প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছেন ফিন অ্যালেন-সহ তিন ব্যাটার। আরও তিন ওভার এই চাপটা বজায় ছিল কিউয়িদের উপর। ১৩ তম ওভারের শুরুতে মাত্র ৮৪ রানে ৬ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছিল নিউজিল্যান্ড।
কিন্তু সেখান থেকে ম্যাচের রং বদলে দেন কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। স্পিনার হিসাবেই তাঁর বেশি পরিচিতি। কিন্তু দলের কঠিন সময়ে মাত্র ২৬ বলে তাঁর ব্যাট থেকে এল ৪৭ রান। সঙ্গী কোল ম্যাকঞ্চির সংগ্রহ ২৩ বলে ৩১। ওই পার্টনারশিপে ভর করে ১৬৮তে গিয়ে থামল কিউয়ি ইনিংস। দিশেহারা হয়ে রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই বোল্ড নিশঙ্কা। ওই একটা আউটেই শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ের দুর্দশার ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যায়। কুশল মেন্ডিস, চরিথ আসালাঙ্কা কেউই দলের ভরাডুবি রুখতে পারেননি। ব্যাট হাতে ব্যর্থ অধিনায়ক শনাকাও। সর্বোচ্চ রান কামিন্দু মেন্ডিসের ৩১। একেবারে শেষদিকে এসে দলের লজ্জা ঢাকার কিছুটা চেষ্টা করেন দুনিথ ওয়েলালাগে। কোনওক্রমে একশো পেরয় লঙ্কা ব্রিগেড। শেষ পর্যন্ত ৬১ রানে জিতে সেমিফাইনালের দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ডের দাপুটে জয়ে পাকিস্তানের স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি বেড়ে গেল। পয়েন্ট টেবিলে আপাতত তিন নম্বরে আছেন সলমন আলি আঘারা। আগামী শনিবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলতে নামবেন তাঁরা। সেই ম্যাচ ৭০ রানে জিততে হবে তাঁদের। যদি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ড হেরে যায়, তাহলে পাক ব্রিগেডের সুবিধা। সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ড যদি ১০ রানে জেতে, তাহলে শাহিন আফ্রিদিদের জিততে হবে ৬০ রানে। সমস্তরকম পরিসংখ্যান জেনেই লঙ্কা ব্রিগেডের বিরুদ্ধে নামতে পারবে পাকিস্তান। তবে নিউজিল্যান্ড যদি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতে যায়, তাহলে পাকিস্তানের এই ম্যাচ স্রেফ নিয়মরক্ষার।
