বৃহস্পতিবার জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মরণবাঁচন ম্যাচে নামতে চলেছে টিম ইন্ডিয়া। সেই ম্যাচে কেবল জিতলেই হবে না, রানরেটও বাড়িয়ে রাখতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একটা হার, ভারতীয় দলের পরিবেশটাকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে। অভিষেক শর্মার ফর্ম থেকে, স্পিনারদের বিরুদ্ধে দুর্বলতা কিংবা সূর্যকুমারের নেতৃত্ব - সব কিছুই আতশকাচের নিচে। প্রশ্ন উঠছে, সুপার এইটের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম একাদশে কি সঞ্জু স্যামসন সুযোগ পাবেন? বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক।
প্রথম একাদশে যে পরিবর্তন হতে পারে, সে কথা জানিয়েছেন গৌতম গম্ভীরের সহকারী। জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, "দলে পরিবর্তন হতে পারে। সঞ্জুর কথা আমাদের মাথায় রয়েছে। এটা নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। দলের ব্যাটিং অর্ডারে প্রথম তিন ক্রিকেটারই বাঁহাতি। সেই কারণে বিপক্ষ দলগুলো আমাদের বিরুদ্ধে অফস্পিনার দিয়ে শুরু করছে। গত তিন ম্যাচেই আমরা প্রথম ওভারে উইকেট হারিয়েছি। তাই পরিবর্তনের ভাবনাচিন্তা চলছে। কিন্তু এত আগে তো দল ঘোষণা করি না। তবে আলোচনা যে হয়েছে, এটা ঠিক।" উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের চার ম্যাচে তাঁর রান যথাক্রমে ০, ০, ০, ১৫।
সঞ্জু যদি দলে আসেন, তখন অবশ্য অন্য সমস্যা। সঞ্জু সাধারণত ওপেন করেন। না হলে তিন নম্বরে স্লটে ব্যাটিং করেন। বর্তমানে তিন নম্বর স্লটে খেলছেন তিলক। এখন দু’জন একসঙ্গে খেললে ব্যাটিং অর্ডার কী হবে, সেটা নিয়েই ধোঁয়াশা। কয়েকটা ম্যাচে সঞ্জু লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করেছেন ঠিকই। কিন্তু সফল হননি। শেষ পাঁচ ইনিংসে তাঁর রান ২৫, ২৫, ২৫, ৩১ এবং ১। তাঁকে লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করানো যাবে না। সেই তিলক এদিন আলাদা করে নেটে ব্যাটিং করেছে। এমনিতেও বুধবার ছিল ঐচ্ছিক অনুশীলন। কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার এই বাঁহাতি ব্যাটার অনুশীলনে বলা চলে গোপন ব্যাটিং করলেন। কোনও সংবাদমাধ্যমকে অনুশীলন দেখার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
অভিষেক এবং তিলককে নিয়ে সীতাংশু বলছেন, "ওরা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভালোই বলেছিল। গত দেড় বছরে আমরা প্রত্যেক ম্যাচে দেড়শোর বেশি রান তুলেছি। তবে আগের ম্যাচটার পরেই চিন্তা শুরু হয়েছে। তবে ব্যর্থতার হিসাব রাখতে চাই না। কারণ এতে ব্যাটারের উপর চাপ দেওয়া হয়। এটাও সত্যি যে, গত ম্যাচেই সবচেয়ে খারাপ খেলেছি। তবে এই মুহূর্তে আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে।"
কেবল ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নয়, সমালোচনা হচ্ছে টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং কোচকে নিয়েও। নিজের ভূমিকা নিয়ে কোটাকের কথায়, "আমাদের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা হয়। পরামর্শ দেয় কোচ। অনেকের নানান বিষয় নিয়ে কথা বলে গৌতম। আমরা খেয়াল রাখি কোন ব্যাটার কী করতে পারে। সেটাই নোট রাখি। যা নিয়ে পরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা হয় অনুশীলনের সময়।" তাছাড়াও তাঁর মতে, ভারতে বিশ্বকাপ হচ্ছে। তাই চাপ নেওয়া জানতেই হবে। কারণ ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রচুর প্রত্যাশা। তাছাড়াও মনে করা হচ্ছে, অক্ষর প্যাটেলকে সুযোগ দিতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। ভারতের সহ-অধিনায়ক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেননি। তাঁর জায়গায় দলে ছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্ত তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
