ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচ মানেই দর্শকদের জন্য ভরপুর বিনোদন। ব্যাটে-বলে যুদ্ধের পাশাপাশি আরও নানা আকর্ষণের ব্যবস্থা থাকে। তার মধ্যে অন্যতম লেজার শো। কিন্তু খেলার মধ্যে এই অনুষ্ঠানের তীব্র বিরোধিতা করলেন সুনীল গাভাসকর। রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে কিংবদন্তি ক্রিকেটার বলেছেন, ক্রিকেট মাঠে এসব বিনোদনের কি আদৌ দরকার রয়েছে? একই মত ভারতীয় দলের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রীরও।
রবিবার ইডেনে কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নেমেছিল ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৬ রান তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই অভিষেক শর্মা এবং ঈশান কিষানের উইকেট হারায় ভারত। কিন্তু পাওয়ারপ্লে শেষ হতেই পূর্ব পরিকল্পনামতো শুরু হয় লেজার শো। মাঠের আলো অনেকখানি কমিয়ে প্রায় তিন মিনিট ধরে আলোর খেলা চলে। ওই সময়ে ড্রিঙ্কস বিরতির জন্য মাঠ থেকে বেরিয়ে আসেন ক্রিকেটাররা। তারপর আলোয় মানিয়ে নিতে বেশ সমস্যায় পড়েছেন সূর্যকুমার যাদবরা, এমনটাই খবর।
তারপরেই লেজার শো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গাভাসকর-শাস্ত্রীরা। ধারাভাষ্য দেওয়ার সময়েই লিটল মাস্টার বলেন, "ড্রিঙ্কস ব্রেকের মধ্যে এই আড়াই-তিন মিনিটের লেজার শো'টা ব্যাটারদের পক্ষে খুবই কষ্টকর। শুধু ব্যাটার নয়, সকলের পক্ষেই কঠিন। একবার অন্ধকার, খানিকক্ষণ পরেই আবার উজ্জ্বল আলো-এটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া চোখের পক্ষে বেশ সমস্যার।" গাভাসকরের প্রশ্ন, "এটা তো বিশ্বকাপ চলছে। এত বড় টুর্নামেন্ট। তার মাঝখানে তিন মিনিটের এই বিনোদন কি খুব দরকার।"
গাভাসকরের মতে, আইপিএল ম্যাচের মাঝে এমন লেজার শো করলে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বিশ্বকাপে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ড্রিঙ্কস ব্রেকে এইভাবে লেজার শো একেবারেই কাম্য নয়। গাভাসকরের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন শাস্ত্রীও। তাঁর মতে, আলোর এতখানি বদলের ফলে ক্রিকেটারদের মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে। আলোর সঙ্গে দৃষ্টির বদল ঘটানো, মানিয়ে নেওয়াটা মোটেও সহজ নয়। লেজার শো'র বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। দুই বিশ্বকাপজয়ীর মতে, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট চললে সেখানে ক্রিকেটকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
