ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর এমনিতে খুব একটা হাসেন না। বরাবরই তিনি গম্ভীর। রবিবার রাতে যখন প্রেস কনফারেন্স করতে এলেন, তখন গম্ভীরকে দেখেই মনে হচ্ছিল অনেক বেশি স্বস্তিতে তিনি। আহমেদাবাদে হারের পর যে চাপের আবহ তৈরি হয়েছিল, সেটা আর নেই। পরপর দুটো ম্যাচে দাপুটে ক্রিকেট খেলে টিম সেমিফাইনালে। সঞ্জু স্যামসনের ইনিংস, পাওয়ার প্লে'তে অর্শদীপ সিং-হার্দিক পাণ্ডিয়ার বোলিং, শিবম দুবের শেষ দিকে নেমে দুটো বাউন্ডারি। সবকিছুই তাঁকে প্রবল তৃপ্তি দিয়েছে।
সঞ্জুর ইনিংসের প্রশংসা করার পাশাপাশি গম্ভীরের কথায় বারবার টিম গেমের প্রসঙ্গ চলে আসছিল। বুঝিয়ে দিয়ে গেলন, সঞ্জুর ইনিংসটা তাঁর কাছে যেমন তৃপ্তির, তেমনই একইরকম গুরুত্বপূর্ণ শেষদিকে দুবের ওই ক্যামিও ইনিংস। বলছিলেন, "সঞ্জুর ইনিংসের মতোই গুরুত্বপূর্ণ দুবের ওই দুটো বাউন্ডারি। বড় রানের ইনিংস সবসময় হেডলাইনে আসে, কিন্তু ছোট ছোট কনট্রিবিউশনগুলোও কিন্তু দলকে জেতায়। তাই সেগুলো ভুলে গেলে চলবে না।" সঞ্জু প্রসঙ্গে গম্ভীরের বক্তব্য, "ও বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। আমরা সবসময় সঞ্জুর উপর আস্থা রেখেছি। সবসময় ওর পাশে থেকেছি। ও কী করতে পারে, সেটা বুঝিয়ে দিল। টুর্নামেন্টে এখনও দুটো ম্যাচ বাকি। আশা করি ও এভাবেই ব্যাট করবে। সঞ্জুর মধ্যে কী পরিমাণ ট্যালেন্ট রয়েছে, সেটা আমাদের সবার জানা। জানতাম টিমের যখন দরকার হবে ও ঠিক পারফর্ম করবেই।"
ইডেনের সঙ্গে গম্ভীরের আলাদা এক সম্পর্ক গম্ভীরের। দীর্ঘদিন আইপিএলে এখানে খেলেছেন। কেকেআর মেন্টর ছিলেন। ইডেনের উইকেট, ইডেনের পরিবেশ এই টিমে তাঁর থেকে আর ভালো কে জানেন! গম্ভীর জানতেন, ইডেনে বড় রান তাড়া করতে সমস্যা হবে না। তবে উইকেট হারালে চলবে না। গম্ভীরের কথায়, "ইডেনের পরিবেশ খুব ভালো করে জানা। এখানে শিশির ফ্যাক্টর হয়। বিশ্বের সব মাঠের থেকে ইডেনের আউটফিল্ড অনেক বেশি দ্রুত। জানতাম এখানে এই রান তাড়া করতে সমস্যা হবে না। কিন্তু উইকেট হারালে চলবে না। উইকেট হাতে থাকলে যে কোনও টার্গেট তাড়া করা সম্ভব। এখানে ২৬০-২৭০ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে চেজ হয়েছে।"
গম্ভীরের কথায়,"তবু বিশ্বকাপের একটা চাপ থাকেই। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আর বিশ্বকাপ এক নয়। দুটোর চাপ সম্পূর্ণ আলাদা। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে কামব্যাকের সুযোগ থাকে, যেটা বিশ্বকাপে থাকে না। বিশ্বকাপের যা ফরম্যাট, তাতে সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। কোনও প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। আর ক্রিকেটের কোয়ালিটিও অনেকটা আলাদা। তবে আমাদের টিম যেভাবে রান তাড়া করল, একেবারে ক্লিনিক্যাল। একটা মুহূর্তের জন্য মনে হয়নি যে আমরা ম্যাচের বাইরে চলে যাচ্ছি। বা রান তাড়ার ব্যাপার কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ঠিক এতটাই নিখুতভাবে কাজটা করেছে আমাদের টিম।"
একইসঙ্গে গম্ভীর নিজেক ভাগ্যবানও মনে করছেন। এরকম একটা টিমকে তিনি কোচিং করাচ্ছেন, যেখানে প্রচুর বিকল্প। বলছিলেন, "সত্যি বলতে কী, আমরাও ভাগ্যবান যে এরকম একটা টিমকে কোচিং করাচ্ছি। আমাদের টিমে যে কোনও ক্রিকেটারকে যে কোনও পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যায়। যে কোনও পজিশনে ওদের খেলানো যায়। বুমরাহ যেমন। ও আমাদের ব্যাঙ্কার। ওকে আমরা যে কোনও জায়গায় ব্যবহার করতে পারি।" ইডেন জয় শেষ। গম্ভীরের নজরে এবার মুম্বই। সেমিফাইনালে সামনে এবার ইংল্যান্ড। নিশ্চিতভাবে রবিবার রাত থেকেই ব্রিটিশ-বধের পরিকল্পনা শুরু করে দেবেন ভারতীয় কোচ।
