সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে না আসা নিয়ে একপ্রকার গোঁ ধরে বসে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের এই অনড় মনোভাবে শঙ্কিত সেদেশের প্রাক্তন ওপেনার তামিম ইকবাল। তিনি সাফ বলে দিচ্ছেন, যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তবটা বুঝে নেওয়া উচিত বিসিবির। কারণ বাংলাদেশ বোর্ডের রোজগারের সিংহভাগ আসে আইসিসি থেকেই। যে কোনও সিদ্ধান্ত আগামী ১০ বছরের জন্য প্রভাবিত করতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে।
বৃহস্পতিবারই ভারতে খেলতে না চেয়ে দ্বিতীয়বার আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। শোনা যাচ্ছে, এবার নয়া অজুহাত খাড়া করেছেন বাংলাদেশ বোর্ডের কর্তারা। চিঠিতে তারা যা লিখেছে, সেটার মর্মার্থ হল, আইসিসি যদি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ও তাতেও সমর্থক, সাংবাদিক বা ক্রিকেটপ্রেমীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। বিসিবি সূত্র বলছে, ভারত যে বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপদ নয়, সেটাই নতুন চিঠিতে লেখা হয়েছে।বিসিবি সাফ জানিয়ে দেয়, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পেলেও ক্রিকেটাররা ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন না। বোর্ডের এই অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তামিম।
তিনি সাফ বলে দিচ্ছেন, "আমার মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থ, ভবিষ্যৎ এবং বাকি সব কিছু মাথায় রেখেই যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয় উচিত। কথাবার্তার মাধ্যমে সমস্যা মেটানো গেলে তার চেয়ে ভাল কিছু হয় না।" অহেতুক বিসিসিআই বা আইসিসির বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করাটা যে আসলে বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই ক্ষতি করবে, সেটা ভালোই বুঝেছেন প্রাক্তন ওপেনার। সেই বাস্তব বুঝেই তিনি বিসিবিকে বলে দিচ্ছেন, "সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে। সমর্থকরা অনেক কথাই বলেন। সবকিছু জনসাধারণের আবেগ দিয়ে চিন্তা করলে বড় সংস্থা চালানো যায় না।" তামিমের মতে, "সবার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা ভাবা উচিত। আমাদের বোর্ডের ৯০-৯৫ শতাংশ অর্থ আসে আইসিসি থেকে। তাই সেটা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।"
আসলে ভারতে খেলতে যাওয়া নিয়ে বিসিবির এই কড়া অবস্থানে আপত্তি রয়েছে বোর্ডেরই একাংশের। শোনা যাচ্ছে, ভারতে খেলতে আসার ক্ষেত্রে বোর্ডের একাংশের আপত্তি নেই। কিন্তু ইউনুস প্রশাসন ভারত বিদ্বেষী মনোভাবের জেরে স্পষ্ট করে বিসিবিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনওভাবেই ভারতে খেলতে যাওয়া যাবে না। সেটা নিয়ে তামিম বলছেন, "সরকারের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু বিসিবি স্বাধীন সংস্থা। সেটার নিজস্ব মতামত থাকতেই পারে।"
