সিএবি প্রথম ডিভিশন লিগে চ্যাম্পিয়ন হল টাউন ক্লাব। প্রথম ইনিংসে লিডের সুবাদে ফাইনালে মোহনবাগানকে হারাল তারা। প্রথমে ব্যাট করে ৪০৩ তুলেছিল টাউন। জবাবে ৩৫৩ রানে গুটিয়ে যায় সবুজ-মেরুনের প্রথম ইনিংস। শনিবার দুপুরে দ্বিতীয় সেশন শেষে স্পষ্ট হয়ে যায়, ম্যাচের নিষ্পত্তি হবে না। তারপরই খেলা শেষের পথে হাঁটে দু'পক্ষ। সেসময় দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬২-৫ স্কোর ছিল টাউনের। ক্লাবের ১৪২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কলকাতা ক্লাব ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হল টাউন।
টাউন ক্লাব কলকাতা ময়দানের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। তাদের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলায় ক্রিকেটের জনক হিসেবে পরিচিত সারদারঞ্জন রায়ের নাম। পাশাপাশি একটা সময় স্বামী বিবেকানন্দ এই ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন বলেও শোনা যায় ময়দানে। পরবর্তী সময়ে জিতেন বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক বোস, নিমাই ঘোষের মতো ক্রিকেটাররা জড়িত হয়েছেন টাউন ক্লাবের সঙ্গে। ক্লাবের ইতিহাস নিয়ে ওয়াকিবহাল বর্তমান ক্রিকেটাররাও।
বাংলার রনজি দলের সদস্য রাহুল প্রসাদ বড় ভূমিকা নিয়েছেন টাউনকে চ্যাম্পিয়ন করতে। তিনি বলছিলেন, "স্বামী বিবেকানন্দের মতো মনীষীর সঙ্গে টাউনের সম্পর্ক কী ছিল, আমরা জানি। এখনও ক্লাবের স্বামীজির ছবি রয়েছে। টাউন আগে কখনও চ্যাম্পিয়ন হয়নি। ফলে এবার ট্রফি জেতার চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা নিজেদের পারফরম্যান্স ভালো করার উপর জোর দিয়েছিলাম। লিগ জেতার লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় ভালো লাগছে।"
লিগ ফাইনালে মোহনবাগানের পাল্লাই ছিল ভারি। সল্টলেকে জেইউ সেকেন্ড ক্যাম্পাসে প্রথম ইনিংসের শুরুতে প্রতিপক্ষকে ৩০-৪ করে দিয়েছিল সবুজ-মেরুন। সেখান থেকে পালটা লড়াই করেন শচীন যাদব (১১৪) এবং অভিলীন ঘোষ (১০৬)। তাঁদের জুটিতে ওঠা ২১০ রান ভালো জায়গায় পৌঁছে দেয় টাউনকে। এরপর শুভম সরকার (৬৬ ন.আ.) ও রাহুলের (৫৪) সৌজন্যে ৪০৩ রান তোলে তারা। এরপর দীপাংশ চৌহানের (৫-৭২) দুরন্ত বোলিংয়ে ৩৫৩ রানে গুটিয়ে যায় মোহনবাগান। কিছুটা লড়াই করেন বিবেক সিং (৭৫), শাকির হাবিব গান্ধী (৫১)। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে দুরন্ত ব্যাটিং করেন টাউনের ঐশিক প্যাটেল (৮৯) ও অঙ্কর পাল (১৩৫)। তাঁদের ওপেনিং জুটিতে ওঠে ২৫০ রান। সেখানেই ম্যাচের ফলাফল কার্যত নির্ধারিত হয়ে যায়। যার পর ড্র করার প্রস্তাব মেনে নেয়।
