shono
Advertisement
Kerala

কেরলে ‘প্রথম ভাষা’ মালয়ালম! বহুভাষী রাজ্যের ভাষানীতি এই পথেই?

মনে রাখতে হবে, আঞ্চলিক স্তরের ভাষানীতি কোনও একক ভাষার প্রচারের অন্ধ সাংস্কৃতিক অ্যাজেন্ডা অনুসরণ করতে বাধ্য নয়।
Published By: Biswadip DeyPosted: 02:38 PM Jan 20, 2026Updated: 03:13 PM Jan 20, 2026

কেরলে মালয়ালমকে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ‘প্রথম ভাষা’ রূপে বাধ্যতামূলক করা হল। বহুভাষী রাজ্যের ভাষানীতি সত্যিই কেমন হবে? আমরা কি ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সংঘাতের উৎস বানাব, না কি সহাবস্থানের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করব? পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যের ভবিষ্যৎ ভাষানীতির দিশা-নির্ভর করবে এই প্রশ্নের উত্তরের উপরই।

Advertisement

কেরল বিধানসভায় পাস হল ‘মালয়ালম ল‌্যাঙ্গুয়েজ বিল, ২০২৫’। বিলটিকে কেন্দ্র করে যে-বিতর্ক শুরু হয়েছে, তার প্রভাব শুধু কেরলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিলটির তাৎপর্য পশ্চিমবঙ্গ-সহ বহু ভাষাবহুল রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। একটি রাজ্যের ভাষানীতি নিয়ে এই বিতর্ক আসলে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ, সংখ্যালঘু অধিকারের সূক্ষ্ম ভারসাম্যটিকেই সামনে দঁাড় করিয়েছে। নয়া বিলে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মালয়ালমকে ‘প্রথম ভাষা’ রূপে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি কন্নড়ভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য, বিশেষ করে কাসারগড় জেলায়, সমস‌্যার কারণ হবে বলে আশঙ্কা। কেরল ও কর্নাটকের সীমানার জেলায় স্কুলগুলিতে মালয়ালমকে ‘বাধ্যতামূলক’ প্রথম ভাষা হিসাবে পড়াতে হবে।

সরকারের দাবি অনুযায়ী, বিলে কন্নড় ও তামিল ভাষার সুরক্ষার বিধান রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও, এতে সংখ্যালঘু ভাষা কোণঠাসা হবে বলে আশঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল। তবে, এটি সমগ্র দেশের জন্য একটি পরীক্ষাও বটে, আমরা কি ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সংঘাতের উৎস বানাব, না কি সহাবস্থানের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করব? পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যের ভবিষ্যৎ ভাষানীতির দিশা-নির্ভর করবে এই প্রশ্নের উত্তরের উপরই।

কেরল বিধানসভায় পাস হওয়া বিলটি নিয়ে চরম রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেছেন, “ভাষাগত সংখ্যালঘুর শিশুদের জন্য ভাষা কেবল একটি ‘বিষয়’ নয়, এটি তাদের পরিচয়, মর্যাদা, সুযোগ এবং অধিকার...। যদি এই বিলটি পাস হয়, তবে কর্নাটক সংবিধান দ্বারা প্রদত্ত সমস্ত অধিকার ব্যবহার করে এর বিরোধিতা করার জন্য সবকিছু করবে।” তিনি আরও বলেন, ‘যখন কোনও রাজ্য একটি ভিন্ন ভাষাকে প্রথম ভাষা হিসাবে চাপিয়ে দেয়, তখন তা শিক্ষার্থীদের উপর সেটি বোঝা হয়ে চেপে বসে। তাদের শিক্ষাগত অগ্রগতি ও আত্মবিশ্বাসকে ব্যাহত করে।’ অবশ‌্য, কেরল সরকারের যুক্তি, বিলটির উদ্দেশ্য: ‘ভারতের সংবিধানের বিধানসাপেক্ষে, কেরলের সরকারি ভাষা হিসাবে, মালয়ালম ভাষাকে গ্রহণ করা, এবং সমস্ত সরকারি কাজে মালয়ালম ব্যবহার করা, কেরলের সমস্ত ক্ষেত্রে মালয়ালম ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা, ভাষাটির সামগ্রিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি সাধন।’ বিলটির একটি পূর্ববর্তী সংস্করণ, যা ২০১৫ সালে পাস হয়েছিল, কেন্দ্রের অনুমোদনের জন্য ১০ বছর ধরে ঝুলে ছিল। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর কেন্দ্র বিলটি ফেরত পাঠালে, রাজ্য সরকার বর্তমান সংস্করণটি পাস করে।

দেশের বেশিরভাগ রাজ্যে একাধিক ভাষাগত সম্প্রদায় রয়েছে। ভাষাগত আবেগ ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতাও নতুন নয়। কিন্তু অভিবাসন, নগরায়ণ এবং আন্তঃরাজ্য যোগাযোগের ফলে ভাষাগত সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হচ্ছে। আঞ্চলিক স্তরের ভাষানীতি তাই কোনও একক ভাষার প্রচারের অন্ধ সাংস্কৃতিক অ্যাজেন্ডা অনুসরণ করতে বাধ্য নয়। এও মনে রাখতে হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement