সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক পরিক্রমার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করার তাৎপর্য। ব্রিটিশদের চাল, মুসলিম লীগের পৃথক ‘হোমল্যান্ড’-এর দাবি, রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, হিন্দুনিধনের নৃশংস মহাযজ্ঞ পেরিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তৎপর হয়েছিলেন ভারতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করতে, এপার বাংলার হিন্দুদের কৃষ্টি ও জীবনকে অমলিন করতে। আজ, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর সঙ্গে কথা বললেন ডা. সুভাষ সরকার।
‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। এর তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতাকে ভারতীয় জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে আগ্রহী?
ভারত ভাগ যখন নিশ্চিত করে ফেলেছে ব্রিটিশ– তখন পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গ– মিলিতভাবে এই দুই ‘বঙ্গ’ প্রদেশকে নিয়েই গঠিত হবে ‘পূর্ব পাকিস্তান’– এটিরও নির্ণয় করে ফেলে তারা। ইতিহাসের সূত্র যদি আমরা খুঁজতে চাই, তাহলে দেখতে পাব যে, লর্ড মিন্টো ১৯০৫-’১০ সময়কালে ভারতে আসেন। তত দিনে জাতীয় কংগ্রেসের (১৮৮৫) জন্মক্রিয়া সাঙ্গ হয়েছে। দেশজুড়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রবাহ, ব্যাপ্তি এবং তার অভিঘাতকে প্রশমিত করার জন্যই তৈরি হয়েছিল কংগ্রেস– ব্রিটিশের প্ররোচনায়– এর সাক্ষী স্বয়ং প্রতিষ্ঠাতা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম। যাই হোক, মিন্টো প্রসঙ্গে ফিরে আসি।
১৯০৬ সালের পয়লা অক্টোবর নবাব আগা খানের নেতৃত্বে একটি ডেপুটেশন (ইতিহাসে যা ‘সিমলা ডেপুটেশন’ নামে খ্যাত) জমা পড়েছিল লর্ড মিন্টোর কাছে। দাবি– মুসলিমদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী তৈরি করতে হবে। সেই সময় লেডি মিন্টো (মেরি ক্যারোলিন গ্রে)-র কানেও এই প্রস্তাব যায়, সবার অগোচরে।
তত দিনে লর্ড মাউন্টব্যাটেন নতুন ভাইসরয় নির্বাচিত হয়েছেন। শ্যামাপ্রসাদ ঠিক করলেন, সারা বাংলাকে জাগ্রত করতে হবে– সামাজিক ও রাজনৈতিক দু’-ভাবেই। তিনি বাংলা জুড়ে, বিশেষ করে হিন্দুপ্রধান জেলায় জেলায়, মানুষকে বোঝাতে শুরু করেন যে, কেন দুই বাংলার একসঙ্গে থাকা অসম্ভব।
তঁার মনে হয়েছিল, এর চেয়ে বড় ‘সুবর্ণ সুযোগ’ আর আসবে না। ভারতে যে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন হচ্ছে, রাজদ্রোহিতার সেই ঝুন্ড থেকে এবার মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে আনা যাবে সহজেই। অর্থাৎ, ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হয়ে যাবেন সংগ্রামীরা, দুর্বল হবে সংগ্রাম। আগা খানের সিমলা ডেপুটেশন প্রসঙ্গে লেডি মিন্টো তঁার ডায়েরিতে লিখেছিলেন– ‘এটি (মুসলিমদের এই পদক্ষেপ) ৬২ মিলিয়ন (৬.২ কোটি) রাষ্ট্রদ্রোহীর বিরোধী দলের (অর্থাৎ, তখনকার কংগ্রেস) সঙ্গে যোগ দেওয়া থেকে টেনেহিঁচড়ে পিছিয়ে আনার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।’
আসলে, লেডি মিন্টো মুসলিমদের এই দাবিকে ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (যার নেতৃত্বে ছিল কংগ্রেস) দমন করতে একটি ‘বিভাজন এবং ভারসাম্য বজায় রাখা’-র কৌশল রূপে দেখেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন, মুসলমানরা মিন্টোর এহেন সহানুভূতির কারণেই কংগ্রেস থেকে দূরে সরে যাবে। ‘পার্থক্যমূলক বা পৃথক নির্বাচনমণ্ডলী প্রসঙ্গে’ লেডি মিন্টো উল্লেখ করেছেন যে, লর্ড মিন্টো প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দেন, ‘যে কোনও নির্বাচনী ব্যবস্থায় মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হবে।’ লেডি মিন্টো অত্যন্ত ধুরন্ধর। ওঁর ডায়েরিতে তিনি এই প্রতিনিধি দলকে ‘অত্যন্ত অনুগত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই ঘটনাটিকে ‘ভারতীয় ইতিহাসের যুগান্তকারী ঘটনা’ বলেও অভিহিত করেন। লর্ড মিন্টোর তরফে সরকারিভাবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল ৬ অক্টোবর, ১৯০৬। এবং ঠিক এর ২ মাসের মাথায় আমরা দেখলাম, ঢাকায় ‘মুসলিম লিগ’-এর প্রতিষ্ঠা (৩০ অক্টোবর, ১৯০৬) ঘটল। ইতোমধে্য কংগ্রেস নেতৃত্ব মুসলিম তোষণ শুরু করে দিয়েছে। এর ২ বছর পরে ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯০৯’ পাস হয়। তখনও কংগ্রেসের তরফে বিরোধিতার আভাস পাওয়া গেল না।
১৯৩০ সাল থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন শুরু হয় মুসলিম লিগের। দাবি ওঠে, পৃথক ভূমের। ১৯৪১-’৪৬ সাল পর্যন্ত কয়েক হাজার সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সাক্ষী হয় ভারত। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি তখন এখানকার মসনদে।
ব্রিটিশ ভারতে নির্বাচন হত। কমসংখ্যক মুসলমান অধিষ্ঠিত নির্দিষ্ট নির্বাচনী ক্ষেত্রে থেকে মুসলমান প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে যেতেন। এর ফলে মুসলিম লীগ– মুসলমান সমাজের সামাজিক উন্নয়নের কাজ থেকে নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হল! দাবি করা হল, মুসলমানের জন্য পৃথক ‘হোমল্যান্ড’।
১৯৩০ সাল থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন শুরু হয় মুসলিম লিগের। দাবি ওঠে, পৃথক ভূমের। ১৯৪১-’৪৬ সাল পর্যন্ত কয়েক হাজার সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সাক্ষী হয় ভারত। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি তখন এখানকার মসনদে। এমতাবস্থায়, মুসলিম লীগ, মহম্মদ আলি জিন্নার নেতৃত্বে, অাহ্বান দিল ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ সংগঠিত করার। ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট। সে এক ভয়ংকর দিন!
মুসলিমদের পৃথক ‘হোমল্যান্ড’ গঠনের দাবিতে ডাকা সাধারণ ধর্মঘট ও জনবিক্ষোভ পরিণত হয় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ও হিন্দু নিধনের মহাযজ্ঞে। সরকারি হিসাবে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ হিন্দুর প্রাণ যায় বেঘোরে। দোকান লুঠ, হত্যা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ কী হয়নি! পুলিশকে নিরস্ত্র করতে প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দির ভূমিকা ছিল উল্লেখ্য! ১৬ ও ১৭ আগস্ট, দু’-দিন ধরে এই নাশকতা কলকাতা জুড়ে চলতে থাকে। এর পরে নোয়াখালিতে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনেও (১০ অক্টোবর) নৃশংসভাবে হিন্দু-হত্যা হয়। প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়ে যে, ভাগ হবেই ভারত।
ভারতীয় জনতা পার্টি যথার্থই মনে করে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতার প্রভাবেই হিন্দুদের স্বার্থরক্ষা সম্ভব হয়েছিল। এ কারণেই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশটি ভারতের অংশ হয়ে উঠতে পেরেছে। তাই এই দিনের ইতিহাস আপামর জনসাধারণের জানা উচিত।
এহেন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থতি নিয়ে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তিনি উপলব্ধি করেন যে, অন্যভাবে চিন্তা করতে হবে। কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেন। এগিয়ে আসেন সুচেতা কৃপালিনী ও অন্যান্যরা। তবে শরৎচন্দ্র বোস তখনও মগ্ন ‘ইউনাইটেড বেঙ্গল’ গঠনের সম্ভাবনায়। নোয়াখালির ঘটনার পর মহাত্মা গান্ধী দীর্ঘ দিন পূর্ববঙ্গে থেকেও সেখানকার সাম্প্রদায়িক হিংসার স্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি, এও তো সত্য।
তত দিনে লর্ড মাউন্টব্যাটেন নতুন ভাইসরয় নির্বাচিত হয়েছেন। শ্যামাপ্রসাদ ঠিক করলেন, সারা বাংলাকে জাগ্রত করতে হবে– সামাজিক ও রাজনৈতিক দু’-ভাবেই। তিনি বাংলা জুড়ে, বিশেষ করে হিন্দুপ্রধান জেলায় জেলায়, মানুষকে বোঝাতে শুরু করেন যে, কেন দুই বাংলার একসঙ্গে থাকা অসম্ভব। বাংলা ভাগ কেন ঐতিহাসিকভাবে অনিবার্য। তৎসহ হিন্দুদের স্বার্থ, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সর্বোপরি স্বাধীনতা রক্ষার্থে কেন ভারত ভাগ করাই সঠিক ও ন্যায়সংগত। লর্ড মাউন্টব্যাটেনকেও একই প্রস্তাব তিনি দেন। যৌক্তিকতা বোঝান। এরপর ১১ মে, ১৯৪৭। জওহরলাল নেহরুকে চিঠি লেখেন। ১৪ মে পণ্ডিত নেহরু সে-চিঠির উত্তর দেন– শ্যামাপ্রসাদের প্রস্তাব মেনে নিয়ে। সোহরাওয়ার্দির নিষ্ক্রিয়তা, শরৎ বোসের ইউনাইটেড বেঙ্গল গঠনের ভাবনায় দূরদর্শিতার অভাব আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
লর্ড মাউন্টব্যাটেনের উদ্যোগে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের লেখা চিঠির (নেহরু এবং তঁাকে) প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ‘মাউন্টব্যাটেন প্ল্যান’ তৈরি হয়। তারিখটি ছিল ৩ জুন, ১৯৪৭। বঙ্গ প্রদেশের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে কেন্দ্র করে আইনসভার সদস্যদের ভোটদানের ব্যবস্থাও তাতে নথিবদ্ধ ছিল।
নির্বাচন হয় তিনটি পর্যায়ে। প্রথমে– জয়েন্ট সেশনের প্রতিনিধিগণ। বিষয়: দুই বাংলা একত্র থাকবে কি না, এবং ভারত বা পাকিস্তান কোথায় যোগ দেবে? দ্বিতীয়– মুসলিমপ্রধান জেলার প্রতিনিধিগণ। বিষয়: বাংলা বিভাজন হলে কি তঁারা পাকিস্তানে যোগদান করবেন? তৃতীয়– অমুসলিম বা হিন্দুপ্রধান জেলার প্রতিনিধিগণ। বিষয়: বাংলা বিভক্ত হলে তঁারা কি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবেন? এই তিনরকমভাবে দুই বাংলার প্রতিনিধিদের ভোটপ্রদানের ব্যবস্থা সসংগঠিত হয়েছিল ‘হিজ ম্যাজেস্টিস গভর্নমেন্ট’ বা ‘দ্য থার্ড জুন প্ল্যান’-এর রুলিং অনুসারে। যা কিছু ব্রিটিশ করতে বাধ্য হয়, তা কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সামাজিক সংগ্রাম ও রাজনীতিতে কূটনৈতিক লড়াইয়ের সফলতা।
বিধানসভার যৌথ অধিবেশনে ১২৬ জন সদস্য বিভাজনের বিপক্ষে (অর্থাৎ অবিভক্ত বাংলার পক্ষে) এবং ৯০ জন বিভাজনের পক্ষে (ভারতে যোগদানের পক্ষে) ভোট দেন। এরপর, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার বিধায়করা ১০৬-৩৫ ভোটে বিভাজনের বিপক্ষে (অর্থাৎ, পূর্ব পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষে) ভোট দেন, অবশেষে, হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার বিধায়করা ৫৮-২১ ভোটে বিভাজনের পক্ষে (ভারতে থাকার পক্ষে) ভোট দেন।
শেষে সিদ্ধান্ত হয়: বাংলা বিভাজিত হবে। হিন্দুপ্রধান পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সঙ্গে থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের তখনকার বা ভবিষ্যতে ভারতের সংবিধানই তাদের সংবিধান বলে পরিগণিত হবে। মুসলিমপ্রধান রাজশাহি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ– অর্থাৎ পূর্ববঙ্গ– পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দেবে, এবং তারা নতুন সংবিধান তৈরি করবে। ইতিহাসের এই ঘটনাক্রমটি প্রকাশ্যে আনতে এ রাজ্যের আগের ৮ জন মুখ্যমন্ত্রী কেন অপারগ হলেন– ভেবে অবাক হতে হয়।
ভারতীয় জনতা পার্টি যথার্থই মনে করে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতার প্রভাবেই হিন্দুদের স্বার্থরক্ষা সম্ভব হয়েছিল। এ কারণেই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশটি ভারতের অংশ হয়ে উঠতে পেরেছে। তাই এই দিনের ইতিহাস আপামর জনসাধারণের জানা উচিত। বঙ্গবাসীর এও জানা উচিত, বাংলাদেশে মুসলমানরা যতখানি ভাল আছে, তার চেয়ে পশ্চিমবাংলার জাতীয়তাবাদী মুসলিম জনগোষ্ঠী অনেক উন্নত জীবন কাটাচ্ছে।
কংগ্রেসের তোষণ-নীতি নিয়ে আলোচনা এত কম কেন?
কারণটি সহজবোধ্য। কংগ্রেস– মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভোট চায়, কিন্তু তাদের সামাজিক, আর্থনীতিক, বা আত্মিক উন্নতি চায় না। মুসলিমদের সমস্যা ও দুর্দশা, অভাব ও অনটনকে তোষণের রাজনীতি দিয়ে ঢেকে রাখতে চায়। কংগ্রেসপন্থী ঐতিহাসিকরাও কেউ এই সত্যসন্দর্শন করতে চাননি। তোষণ-নীতিকে প্রশ্ন করলে যেসব কঠোর বাস্তবের চিত্র উঠে আসবে দেশজুড়ে, তা কংগ্রেসের ভাবমূর্তির পক্ষে সুখকর হবে না। বলা বাহুল্য, বামপন্থীরাও মুসলিম তোষণের পথেই হেঁটেছেন। ভারতীয় জনতা পার্টি এই অযৌক্তিক তোষণতন্ত্রের বিরোধী। আমরা চাই সকলের বিকাশ।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রস্তাব মেনে নিয়েছিলেন স্বয়ং পণ্ডিত নেহরু। এ-কথাও কি সর্বজনবিদিত?
না। অনেকেই জানেন না। জানতে দেওয়া হয়নি। জওহরলাল নেহরু চেয়েছিলেন– যত দ্রুত সম্ভব ভারতের তখ্তে বসার। দেশভাগকে মেনে নেওয়া শ্রেয় বলেই তাই মনে করেছিলেন। তবে তিনিও মুসলমান তোষণের জন্য অভিযুক্ত হবেন।
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী মুখ্যমন্ত্রীদের নীরবতার কারণ কী?
প্রকৃত ইতিহাস সামনে চলে এলে, মুসলিম তোষণের পথ কণ্টাকাকীর্ণ হয়ে পড়তে পারে– এই আশঙ্কাটিই এর মূল কারণ। আমাদের রাজ্যের পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীরাও মুসলিমদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিয়ে চিন্তিত ছিলেন না। সংখ্যালঘুদের দেখেছেন ‘ভোটব্যাঙ্ক’ রূপে। ভোটের থেকে মানুষ বড়– বোঝেননি!
(মতামত নিজস্ব)
