shono
Advertisement

ন্যাটো ছাড়ার হুমকি ট্রাম্পের! কেন বারবার 'ফাঁকা আওয়াজ'?

কেন ট্রাম্প চাইলেও আমেরিকা রাতারাতি ন্যাটো ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারবে না?
Published By: Biswadip DeyPosted: 11:16 AM Apr 04, 2026Updated: 11:16 AM Apr 04, 2026

ফের 'ন্যাটো' ছাড়ার হুমকি ট্রাম্পের। আমেরিকা তা ছাড়লে বিশ্বব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বটে, কিন্তু তিনি চাইলেই কি ছাড়তে পারবেন?

Advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'ন্যাটো' ছাড়ার বিষয়ে সর্বশেষ হুমকিতে সাড়া পড়ে গিয়েছে বিশ্বে। প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ই ট্রাম্প একাধিকবার এই হুমকি দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারেও তিনি বারবার ন্যাটো ছাড়ার কথা বলেছেন। কিন্তু সর্বশেষ একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ন্যাটো ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছে।

একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ন্যাটো সদস্যরা হরমুজ প্রণালী মুক্ত করার কাজে আমেরিকার পাশে না-দাঁড়ানোয় ক্ষিপ্ত 'ডন'। আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানে অভিযান শুরু করার পর গত একমাস ধরে ন্যাটো সদস্যরা যেভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছে তা ট্রাম্প চরম 'বিশ্বাসঘাতকতা' হিসাবে দেখছেন। ট্রাম্পের যুক্তি, ন্যাটো-র মূল ভিত্তি তার 'আর্টিকল ৫'-এ নিহিত। যেখানে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা, এক সদস্যের উপর আক্রমণ মানে সবার উপর আক্রমণ। হরমুজ প্রণালী মুক্ত করানো বা ইরান অভিযানে আমেরিকার পাশে দাঁড়ানো- ন্যাটো সদস্য কোনও ইউরোপীয় দেশই এখন পর্যন্ত এই কাজে এগিয়ে আসেনি। ফলে আমেরিকারও আর দায় নেই ইউরোপের নিরপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করা। ইরান অভিযানে একমাত্র ব্রিটেন কয়েকটি রণতরী পাঠিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প সেগুলিকে 'খেলনা' বলে কটাক্ষ করেছেন। ফ্রান্স ও জার্মানি যুদ্ধে অংশ নেয়নি। ন্যাটো ছাড়ার হুমকি দিয়ে যে ট্রাম্প ইউরোপের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছেন তা বলা বাহুল্য।

একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ন্যাটো সদস্যরা হরমুজ প্রণালী মুক্ত করার কাজে আমেরিকার পাশে না-দাঁড়ানোয় ক্ষিপ্ত 'ডন'। আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানে অভিযান শুরু করার পর গত একমাস ধরে ন্যাটো সদস্যরা যেভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছে তা ট্রাম্প চরম 'বিশ্বাসঘাতকতা' হিসাবে দেখছেন।

তবে সত্যিই যদি আমেরিকা ন্যাটো ছেড়ে বেরিয়ে যায়, তবে বিশ্বব্যবস্থায় তা বড় পরিবর্তন আনবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বে যে শক্তির ভারসাম্য রয়েছে তা অনেকটা ওলটপালট হয়ে যাবে। আমেরিকা ন্যাটো-র সিংহভাগ খরচ বহন করে।

আমেরিকা ন্যাটো ছাড়লে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে রাশিয়া। সহজেই ইউক্রেন দখল করে নেবে। অন্য বলকান রাষ্ট্রগুলির দিকেও হাত বাড়াবে। ন্যাটোর মাধ্যমে মার্কিন সামরিক সাহায্যেই ইউক্রেন এখনও লড়ে যাচ্ছে। ন্যাটো সদস্য ইউরোপীয় দেশগুলিকেও বিরাট সামরিক সাহায্য করে আমেরিকা। ফলে তারা 'ন্যাটো' ছাড়লে ইউরোপীয় দেশগুলি যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণের প্রতিযোগিতায় নামতে বাধ্য হবে। প্রথমবারের প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইউরোপীয় দেশগুলি তাদের জিডিপির ২ শতাংশ অর্থ যদি প্রতিরক্ষা খাতে খরচ না-করে তাহলে আমেরিকা ন্যাটো ছাড়বে। তখন চাপে পড়ে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়েছিল।

তবে ট্রাম্প চাইলেই আমেরিকা রাতারাতি ন্যাটো ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারবে না। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় আমেরিকার প্রতিরক্ষা আইনে সংশোধন করা হয়। সেই আইন বলে, কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের ইচ্ছায় ন্যাটো ছেড়ে বেরতে পারেন না। ছাড়তে হলে তাঁকে সেনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। এই সমর্থন ট্রাম্পের পক্ষে জোগাড় করা যে আপাতত যথেষ্ট কঠিন, তা বলা বাহুল্য।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement