ইডি, সিবিঅাইয়ের মতো এজেন্সি দীর্ঘ সময় ধরে চুপচাপ বসে থাকার পরে– হঠাৎ ভোটের অাগে কেন সক্রিয় হয়ে ওঠে– সে এক রহস্য!
রাজে্য-রাজে্য ভোটের অাগে ইডি, সিবিঅাইয়ের মতো এজেন্সির সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়া এখন রীতি হয়ে দঁাড়িয়েছে। বিশেষ করে এই রাজে্যর ক্ষেত্রে পরপর কয়েকটি ভোটের অাগে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির অাশ্চর্যজনক তৎপরতা দেখা গেল। ইডি, সিবিঅাইয়ের মতো তদন্তকারী সংস্থা পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করবে, কাম্য। কোনও পেশাদারি সংস্থা যখন তদন্ত করে তখন তদন্তের সময়টা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা নয়। তদন্ত চলা উচিত তার নিজস্ব গতিতে। সেই পেশাদারিত্ব এসব সংস্থার কতটা অবশিষ্ট রয়েছে, তা প্রশ্নের মুখে।
এত বড় দেশে খুব অল্পসংখ্যক মানুষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। যঁারা রাজনীতি করেন, তঁারা-ই বেশি অার্থিক বা অন্যান্য অপরাধ করেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অথচ, রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই ইদানীং সিবিঅাই ও ইডি বেশি তদন্ত করছে। এই বিষয়টাও খুব অদ্ভুত। পাশাপাশি এটাও দেখা যাচ্ছে যে, কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে যঁারা রাজনীতি করেন, তঁারা-ই বেশি করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের জালে বিদ্ধ।
রাজনৈতিক ক্ষমতা অনেক সময় দুর্নীতির জন্ম দেয়। এটাকে শুধু ‘তৃতীয় বিশ্ব’-র দেশগুলির বৈশিষ্ট্য বলা যায় না। পশ্চিমের উন্নত গণতন্ত্রেও রাজনৈতিক কাঠামোয় দুর্নীতি দেখা যায়। বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির মুখ থুবড়ে পড়ার নেপথ্যে ক্ষমতায় থাকা নেতাদের দুর্নীতিই ছিল অন্যতম কারণ।
গণতন্ত্রে দুর্নীতি যেমন থাকে, তেমন তার প্রতিকারের কিছু ব্যবস্থাও থাকে। এগুলি রয়েছে বলেই গণতন্ত্র টিকে রয়েছে। কিন্তু প্রতিকারের ব্যবস্থাগুলির যদি লাগাতার অপব্যবহার হতে থাকে, তাহলে তার পরিণতি ভাল হয় না। ভারতের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কোনও কোনও নেতা কেন্দ্রের শাসক দলে যোগ দেওয়ার পর তঁার বিরুদ্ধে তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। বা বন্ধও হয়ে যাচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পিছনে হয়তো বেশ কিছু পোক্ত প্রমাণ রয়েছে। এই সূত্রে বাজারে ‘ওয়াশিং মেশিন’-এর তত্ত্ব এসেছে। অাবার বহু ক্ষেত্রে তদন্তের পিছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে– বিশেষত, যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সি ভোটের অাগে কোনও নেতার বিরুদ্ধে বা কোনও দলের বিরুদ্ধে তদন্তে সক্রিয় হয়ে ওঠে তখন প্রতিহিংসার কথা অাসবেই। দীর্ঘ সময় ধরে চুপচাপ বসে থাকার পর হঠাৎ ভোটের অাগে এজেন্সির সক্রিয় হয়ে ওঠা সবসময় রহস্যজনক। গত কয়েক বছর ধরে দেশে এটা বেশি মাত্রায় ঘটছে। এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে দেশের বিভিন্ন অাদালতও।
এটা ঘটনা যে ইডি, সিবিঅাইয়ের মতো সংস্থার সক্রিয়তা যদি অাইন মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে হয়, তাহলে সেটা দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতির পক্ষে ভালো। কিন্তু যদি তা কেবল ভোটের স্বার্থে বা রাজনীতির অঙ্কে হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রের পক্ষে আখেরে বিপজ্জনক। কারণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকেই বিপন্ন করে।
