shono
Advertisement
Daughter-in-law

বাড়ছে বধূ নির্যাতন, আত্মহনন! সামাজিক কাঠামোতেই গলদ?

যেভাবেই বিয়ে হোক না কেন, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাস তৈরি না হলে তা বিষবৎ হয়ে দাঁড়ায়।
Published By: Biswadip DeyPosted: 02:52 PM Jun 19, 2026Updated: 02:54 PM Jun 19, 2026

সম্পন্ন শিক্ষিত পরিবারে ক্রমে বাড়ছে বধূ নির্যাতন ও আত্মহত‌্যার ঘটনা। দাম্পত্যে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাস ঠেকেছে তলানিতে।

Advertisement

যে কোনও সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস আবশ্যকীয় শর্ত। যা না থাকলে পরিণতি সুখকর হয় না। বিবাহিত জীবনে এই বিষয়টি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যার অভাবে অনেক দম্পতি পৌঁছে যান বিচ্ছেদের দোরগোড়ায়। আবার অনেকে সমাজের চাপে বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেন। দমবন্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের তিলে তিলে শেষ করে দেন। কেউ বেছে নেন আত্মহননের পথ। কারণ, এখনও ভারতে ‘ডিভোর্সি’ শব্দটি ‘ট্যাবু’।

আবার তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত, বনেদি পরিবারে বধূ নির্যাতন এবং মেয়েদের দাবিয়ে রাখার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। ভোপালে সম্প্রতি বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই মডেল-অভিনেত্রী তিশা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যু সংবাদ শিরোনামে। যা নিয়ে তদন্ত করছে সিবিআই। আইনজীবী স্বামী-বিচারক শাশুড়ির আচরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বিয়ের মাত্র ৪৮ দিনের মাথায় মহারাষ্ট্রে আত্মহত্যা করেছেন বিশাখা নামে একটি নববধূ। যাঁর স্বামী চিকিৎসক। অভিযোগ, স্ত্রীর স্বাধীনতায় কোপ বসিয়েছিলেন ডা. নীতিন। ঘরের ভিতরে-বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে মোবাইল অ্যাপে তঁার প্রতিটি গতিবিধির উপর নজরদারি করতেন স্বামী। প্রতিবেশী কারও সঙ্গে কথা বললে চলত নির্যাতন। সেই দমবন্ধ পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরেই বিশাখা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ।

অনেকে সমাজের চাপে বিচ্ছেদের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেন। দমবন্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের তিলে তিলে শেষ করে দেন। কেউ বেছে নেন আত্মহননের পথ। কারণ, এখনও ভারতে ‘ডিভোর্সি’ শব্দটি ‘ট্যাবু’।

সম্বন্ধ করে বা নিজে পছন্দ করে, যেভাবেই বিয়ে হোক না কেন, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাস তৈরি না হলে তা বিষবৎ হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত স্বামী উচ্চশিক্ষিত ও সম্পন্ন। বিয়ের পরপরই স্ত্রীর প্রতি তাঁর অবিশ্বাস ও সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার যুক্তিসংগত কারণ ছিল কি না, জানা নেই। ঘরের কথা স্ত্রী প্রতিবেশীদের কাছে ফঁাস করে দেবেন, এই আশঙ্কাই-বা তৈরি হল কেন? যদি না লুকনোর মতো কিছু ঘটনা ঘটে থাকে। কারণ যাই হোক, স্ত্রীর গতিবিধিতে সর্বদা নজরদারি কোনও সুস্থ মানুষের কাজ নয়। এতে বিশ্বাসের ঘাটতি ও মানসিক দূরত্ব তৈরি করে। সম্পর্কের মূল বুনিয়াদ নষ্ট হয়ে যায়। স্ত্রীর কোনও আচরণে সমস্যা হলে তঁার সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলে নেওয়া যেত। নজরদারি বা লুকোচুরি– সমস্যা সমাধানের পথ মোটেও নয়। পাশাপাশি, সঙ্গীর ব্যক্তিগত পরিসরকেও সম্মান জানানো উচিত। তাতে হস্তক্ষেপ না করে কথা বলে পারস্পরিক বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করে নেওয়া যে কোনও শিক্ষিত-স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক।

নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভুলের মাশুল, না কি আমাদের সামাজিক কাঠামোয় গলদ রয়েছে, সেও ভেবে দেখার সময় হয়েছে।

কিন্তু অভিযুক্ত স্বামী সে-পথে হাঁটেননি। অর্থাৎ স্ত্রীকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ভোগের বস্তু বলেই মনে করতেন। তাঁকে সম্মান করার ও খোলাখুলি কথা বলার বদলে তাঁর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও শাসনই একমাত্র পথ বলে স্বামীর মনে হয়েছিল! যার পরিণতি: মাত্র ২৬ বছরেই শেষ হয়ে গেল একটি জীবন। নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভুলের মাশুল, না কি আমাদের সামাজিক কাঠামোয় গলদ রয়েছে, সেও ভেবে দেখার সময় হয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement