২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের ছুটি বাতিল করেছে মহম্মদ ইউনুস সরকার। এতে স্পষ্ট, তারা স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব অস্বীকার করতে চায়।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের অামলে নিশানায় সে দেশের সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ধ্যানধারণা এবং প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি হাদি-হত্যার পর যে কায়দায় ‘ছায়ানট’ ও ‘প্রথম অালো’-র দফতরে হামলা হয়েছে, ঠিক সেই ধারাবাহিকতায় এবার অাক্রান্ত ভাষা দিবস। মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে নির্দেশিকা জারি করেছে তাতে ‘অমর একুশে’-র ছুটি বাতিল। এই নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে বিশ্বজুড়ে। ইউনূস সরকারের তরফে যদিও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়নি।
একটি মহল থেকে বলা হচ্ছে, ২০২৬-এর ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার। এমনিতেই বাংলাদেশে শুক্র ও শনিবার স্কুলে সাপ্তাহিক ছুটি। তাই শিক্ষা মন্ত্রক তাদের ছুটির নির্দেশিকায় আলাদা করে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি রাখেনি। তবে তা মর্যাদার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে বরাবর ২১ ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। গোটা দেশে ছুটি থাকে। ১৯৫২-র ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বাহিনীর গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বাররা। ভাষা অান্দোলন দেখিয়েছিল ধর্মের নামে গঠিত দেশের স্থায়িত্ব নেই। পরবর্তীকালে ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে গঠিত বাংলাদেশের মূল প্রেরণা ছিল ২১ ফেব্রুয়ারির ওই গণ অান্দোলন। ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘অান্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। বহুদিন থেকেই বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের কাছে ২১ ফেব্রুয়ারি অাত্মপরিচয়ের দিন। জামায়েতের অঙ্গুলিহেলনে পরিচালিত ইউনূস সরকার অবশেষে উদ্যত হয়েছে সেই ২১ ফেব্রুয়ারির মর্যাদায় হাত দিতে।
এতে অবশ্য বিস্ময়ের কিছু নেই। কারণ ইউনূস যাদের দ্বারা পরিচালিত, তাদের প্রেরণার উৎস পাকিস্তান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা পরিচিত ছিল ‘রাজাকার’ নামে। হাসিনা সরকারের পতনের পর এই সাবেক রাজাকার ও তাদের উত্তরসূরিরাই বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের মূর্তি ভেঙেছে। ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। গত দেড় বছর ধরে এরাই লাগাতার সক্রিয় থেকেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় চেতনাকে নির্মূল করতে। অাসলে সালাম, বরকতদের স্মৃতি যতদিন সজীব থাকবে ততদিন পাক বাহিনীর বর্বরতার কথা লোকে বলবে। সেকারণেই এরা ভাষা দিবসকে মুছতে উদ্যত।
ভাষা দিবসের ছুটি বাতিল করা হবে কার্যত বালাদেশের অস্তিত্ব ও ইতিহাসকেও চ্যালেঞ্জ ছোড়া। বিশ্বের কোনও দেশই তাদের এই ধরনের ঐতিহাসিক দিনের ছুটি বাতিল করে না। বাংলাদেশের বর্তমান শাসকরা যে স্বাধীন দেশের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে চায়, তা এই ছুটি বাতিলের মতো ভাবনা থেকে স্পষ্ট। এই শক্তির অাসল পরিচয়ও এই ধরনের মনোভাব থেকে স্পষ্ট হয়। ইউনুস সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কী ভাবছে তা অবশ্য বোঝা যাবে ২১ ফেব্রুয়ারির অাগেই অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে।
