shono
Advertisement

Breaking News

Abhhiman

সীমানা পেরিয়ে প্রসেনজিৎ, যিশু শুভশ্রী সোহিনীর বিচিত্র 'অভিমান' কতটা উপভোগ করল দর্শক?

ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের কাব্যিক এবং সৃজনমুখর পরিচালনায় ‘অভিমান’ ছবিতে অবিস্মরণীয় মুহূর্তের ছড়াছড়ি। ‘অভিমান’ ছবির প্রধান চরিত্র গানের রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জি।
Published By: Kasturi KunduPosted: 06:33 PM Jun 20, 2026Updated: 07:04 PM Jun 20, 2026

বহু বছর আগে উত্তম কুমারকে প্রশ্ন করেছিলাম, একটা সিনেমা কীসের জোরে হিট করে? গল্প? উত্তমের উত্তর : গল্প নয়, মুহূর্ত, চোখ বুজলেই যে সব মুহূর্ত মন আলো করে ভেসে আসে, মোমেন্টস যা ভোলা যায় না। তবে, গল্পের প্লট এমন হতে হবে যাতে এই রকম মনে রাখার মতো মুহূর্ত তৈরি করা যায়। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের কাব্যিক এবং সৃজনমুখর পরিচালনায় ‘অভিমান’ ছবিতে অবিস্মরণীয় মুহূর্তের ছড়াছড়ি। আর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত প্রতিটি মুহূর্তই তো তাই। আটকে যায় মুগ্ধতায়, স্মৃতিতে। ‘অভিমান’ ছবির প্রধান চরিত্র গানের রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জি।

Advertisement

তার চরিত্রে অনর্গল অবিস্মরণীয় মুহূর্তের মালা গেঁথে গেছে, কী সহজ সাবলীল উপচেপড়া প্রতিভার প্রবুদ্ধ প্রকাশে প্রসেনজিৎ! এবং প্রসেনজিৎ প্রতিটি মুহূর্তে আগের মুহূর্তের সীমানা ছাড়িয়ে, আরও গভীর, আরও প্রসারী, আরও স্পর্শময়, আরও সংবেদী! এই ছবির গূঢ়তম অভিমান প্রসেনজিৎ। শেষ পর্যন্ত অনির্ণেয় রহস্য প্রসেনজিৎ। এবং ক্রমাগত প্রসারিত আকাশ প্রসেনজিৎ। আমি বিস্মিত। মুগ্ধ। তার প্রতিভার কাছে কৃতজ্ঞ। এই ছবির গল্প লিখেছে যিশু, যিশু সেনগুপ্ত, বিখ্যাত অভিনেতা। সে গল্পটা ভেবেছে, লিখেছে, ক্যামেরায় চোখ রেখে, সিনেমার ইডিয়ামে। সিম্পলি ব্রিলিয়ান্ট, যেভাবে সে গল্পে মিশিয়ে খোলা ছাদে অসংখ্য মোমবাতির গলন তার আর শুভশ্রীর (ছবিতে শুধু ‘শ্রী’ সন্ধ্যারাগ অর্থে) হৃদয় গলনের সঙ্গে। এবং যিশুর সমস্ত গল্প জুড়ে এক ম্যাজিক তারল্য, অভিমানের।

নানা পরতের অভিমান। বিচিত্র পারস্পরিকতার অভিমান। সম্পর্কের বুননে বুননে অভিমান। শ্রীজাতর লেখা সংলাপ প্রবিষ্ট হতে পেরেছে বিষয়ের এই সেন্ট্রাল লিকুইডিটি, কেন্দ্রীয় তারল্যে। যুক্ত করেছে বাংলা ছবিতে বিরল মাত্রা। এই ছবির গল্প কিছুতেই বলে দেওয়া উচিত নয়। যদিও এই ছবি যিশু ও সৌরভ দাসের ‘হোয়াই সো সিরিয়াস’ ফিল্মস সৃজন-সংস্থার প্রথম প্রয়াস, ‘অভিমান’ কিন্তু প্রবল সিরিয়াস ছবি। এই ছবির বিষয় স্তিমিত আলোয় যিশু-শুভশ্রীর আঁচলাগা মর্মে মোমের মতো গলে পড়া ভালোবাসা, বারবার আগ্রহী আদর (যিশুর নামও তাই), উদগ্রীব ঠোঁট, তৃষিত চোখ, আতপ্ত আলিঙ্গন।

আবার আছে নিঃসঙ্গ প্রসেনজিতের অভিমানী কান্না, শুভশ্রীর শরীরে মুখ গুঁজে। এই গল্প যতখানি অভিমানের ততখানি রহস্যের, যে রহস্য জীবিত থাকে ছবির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, এমনকী যখন শৌভিক আলোর মঞ্চব্যাপী মায়ায় দু’হাত মেলে শুভশ্রী সত্যিই হয়ে ওঠে সন্ধ্যার শ্রীরাগ, ডাক দেয় তার আলিঙ্গনে তার আকাশ প্রসেনজিৎকেই। হরিচরণ তাঁর বঙ্গীয় শব্দকোষ-এ বলেছেন, ‘শ্রী’ হল বড় রাগের অন্তর্গত রাগ। জড়িয়ে আশ্রিত থাকতে ভালোবাসে। তাই শুভশ্রীর এই ডাক বহুমাত্রিক, যদিও এখন সে যিশুর প্রেমিকা, যে প্রসেনজিতের পুত্রের ভূমিকায়। এই ছবির শুভশ্রী অনন্য, তার তারল্যে, তার বেদনায়, তার অভিমানে। বিচিত্র অর্থে অভিমান এসেছে এই ছবিতে।

প্রসেনজিৎ চট্টোপধ্যায়

যিশু চাপা অভিমানের এক রূপ। কাঞ্চন অমার্জিত অভিমানের আর এক রূপ। অব্যর্থ। কিন্তু প্রসেনজিৎ-শুভশ্রীর অভিমান আমাদের, অন্তত আমাকে নিয়ে গেছে, ফ্রয়েডীয় বিপদ সীমানায়! বিশেষ করে ছবির সেই অবিস্মরণীয় ক্লোজআপে, যেখানে প্রসেনজিতের নিঃসঙ্গ নৈকট্যে শুভশ্রী তাকে বলছে, অভিমানে ও আদরে, আমি ছিলাম, আমি আছি, আমি থাকব। বড় রাগের আশ্রয় থেকে শ্রীরাগ তো বেরতে চায় না। প্রসেনজিতের পানে শেষ দৃশ্যে শুভশ্রীর ওই আহ্বান ও অভিমান কম্পমান মন ও শরীরের জটিল সীমানাতরঙ্গে। সেই রহস্য ও অভিমান সমস্ত ছবি জুড়ে তৈরি করেছে শ্রীজাতর চিত্রনাট্য, প্রতিপ মুখার্জির ক্যামেরা। আর এই অভিমানের একদিকে যিশু ও শুভশ্রী।

'অভিমান'

অন্যদিকে রহস্যময় ডিমেনশিয়ায় অতীত ও বর্তমান লুপ্ত অভিমানে প্রসেনজিৎ। আশ্চর্য! ‘অভিমান’ শব্দের কোনও ইংরেজি নেই। অ্যাংলো- স্যাক্সসন যাপনে ও মননে অভিমান অনুপস্থিত। গ্রিক নাটকেও অভিমান পাইনি। অভিমান একান্তভাবে বাঙালি মনের সোনালি সম্পদ। প্রতিটি বাঙালির দেখা উচিত ‘অভিমান’ নিজেকে পেতে। এবং  দু'ঘণ্টা বিশ মিনিটের মতো সময় ধরে অন্য সব ভুলে থাকতেও।

পুনশ্চ: মৃদু গৃহবধূ, প্রসেনজিতের স্ত্রীর ভূমিকায় সোহিনীর অভিমান তাকে নিয়ে যাচ্ছে পরকীয়ায়। সোহিনী সেই জাতের শিল্পী, যার মায়াবী মাধুর্যের গায়ে এক ফোঁটা পরকীয়া! আহা!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement