মহাকুম্ভের ‘ভাইরাল গার্ল’ মোনালিসা ফরমান খানকে বিয়ের পরে লাভ জেহাদের প্রশ্ন উঠেছিল। এবার অভিযোগ উঠল, জন্মের ‘ভুয়ো’ শংসাপত্র দেখিয়ে বয়স বাড়িয়ে বিয়ে করেছেন তিনি। এমনকী স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা হয়েছে। নেপথ্যে জাতীয় জনজাতি কমিশনের তদন্ত রিপোর্ট। একই অভিযোগ প্রথম তোলে তাঁর পরিবার। সেই সময় অবশ্য মোনালিসা (Kumbh Girl Monalisa) নথি দেখিয়ে ‘প্রমাণ’ দেন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক নন।
ফেসবুকে আলাপ থেকে ঘর বাঁধা। সম্পর্কের পথে বারবার প্রাচীর গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে ধর্মের বেড়াজাল। হাতে হাত ধরে তা পার করেছেন মোনালিসা ও তাঁর স্বামী ফরমান খান। ‘লাভ জেহাদ’ বিতর্কের জবাব দিয়েছেন মডেল-অভিনেতা ফরমান। তিনি বলেছেন, “নানা সংবাদমাধ্যমে লাভ জেহাদ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এসব নয়। সব ধর্ম সমান। মোনালিসা তাঁর নিজের ধর্ম পালন করবেন। আমি আমার ধর্ম। আমরা প্রত্যেক ধর্মকে সম্মান করি। আমি মন্দিরে যাই, আবার মসজিদেও যাই। আমি পুজোও করি। সবকিছু করি।”
অন্যদিকে মোনালিসার অভিযোগ, তুতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল পরিবার। সেই বিয়ে এড়িয়ে ফরমান খানকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। পালটা পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ আনেন, বিয়ের সময় মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। জাতীয় জনজাতি কমিশন (National Commission for Scheduled Tribes) এই ঘটনার তদন্ত করে। তাদের রিপোর্টে দাবি করা হয়, মোনালিসা অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাঁর বয়স ১৬। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই মোনালিসার বিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে।
‘আজতক ডট ইন’-এর প্রতিবেদনে জাতীয় জনজাতি কমিশনের তদন্তে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে মোনালিসার জন্মের রেকর্ড সংগ্রহ করে। সেই রেকর্ড অনুযায়ী মোনালিসার জন্ম হয়েছিল ২০০৯ সালে ৩০ ডিসেম্বর। মোনালিসা বিয়ে করেন ২০২৬ সালের ১১ মার্চ। অর্থাৎ, বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২ মাস ১২ দিন।
উল্লেখ্য, কেরলে বিয়ে করেন মোনালিসা। আধার কার্ডে উল্লিখিত বয়স অনুযায়ী বিয়ে করানো হয়। কেরলের পুওর গ্রামপঞ্চায়েতে এই বিয়ে নথিভুক্ত করা হয়। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জন্ম শংসাপত্র ভুল তারিখ বসানো হয়েছিল। এই শংসাপত্র জারি করেছিল মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বর পুরসভা। সেখানে মোনালিসার জন্মের শংসাপত্রে তারিখ লেখা হয়েছিল ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মধ্যপ্রদেশের খারগোনে জেলার মহেশ্বর থানায় ফরমান খানের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে বলে খবর। সব মিলিয়ে বিতর্ক ছেড়ে যাচ্ছে না মহাকুম্ভের ‘ভাইরাল গার্ল’-কে।
