বিশ্ব দরবারে তিনি বন্দিত সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর। সেতারের সুরে সুরেই তিনি বেঁধেছেন তাঁর অনুরাগী থেকে শিষ্যদের। তাঁর দেখানো পথেই সেতারের সুরে মুগ্ধ করছেন তাঁর উত্তরসূরীরা। এমনকী বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই বিশ্ববাসীর মনে সুরের মায়ায় জড়িয়ে কন্যা অনুষ্কাও। অন্যদিকে নব্য প্রজন্মের সেতার বাদকদের মধ্যে অন্যতম ঋষভ রিখিরাম শর্মা। এর আগে একাধিকবার তাঁর কেরিয়ারে পণ্ডিত রবি শঙ্করের প্রভাব ঠিক কতটা তা নিয়ে মুখ খুলেছেন শিল্পী। এবার এই নিয়ে জানালেন স্বয়ং রবি শঙ্করকন্যা অনুষ্কা। তিনি জানান কিংবদন্তির কাছে নাকি কখনই তালিম নেননি ঋষভ। আর কী বললেন অনুষ্কা?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনুষ্কা বলেন, "এটা খুবই আনন্দের বিষয় যে সেতারের সুর এক দেশ থেকে আর এক দেশে সীমানা, গণ্ডির রেখা পেরিয়ে সুরের মাধ্যমে সকলকে বেঁধে রাখছে। অনেকেই এই নিয়ে ভীষণ আগ্রহী। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক একটা দিক।" একইসঙ্গে ঋষভের প্রশংসা করে ভুল শুধরে দেন অনুষ্কা। তিনি আরও বলেন, "ঋষভ অত্যন্ত গুণী একজন শিল্পী। তাঁর শিল্পীসত্ত্বা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠাই উচিত নয়। কিন্তু অনেকেই মনে করেন ঋষভ আমার বাবা পণ্ডিত রবি শঙ্করের শিশ্য। এক্ষেত্রে বলে রাখি। ঋষভ আমার বাবার শিষ্য নন। আমার বাবার কাছে সরাসরি ও কখনওই সেতারের তালিম নেননি। ও এমন একজনের শিষ্য যিনি আমার বাবার ও আমাদের পরিবারের খুবই কাছের। আমার বাবার একজন অত্যন্ত গুণী ছাত্র পরিমল কাকার কাছে ঋষভ সেতারের তালিম নিয়েছেন। এবং সেই সূত্রে আমার বাবার কাছে কখনও কখনও ওর এই নিয়ে কিছু কথা, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করার সুযোগ হয়েছে। ঋষভ সরাসরি বাবার কাছে কখনও তালিম নেননি।"
অনুষ্কা আরও বলেন, "ওকে খুব ছোট থেকেই আমরা চিনি। ও আমাদের বাদ্যযন্ত্র নির্মাতা সঞ্জয় রিখিরামের ছেলে। আর তাই হয়তো লোকমুখে এটাই প্রচার হয়েছে যে ঋষভ বাবার ছাত্র।"
ঋষভ রিখিরাম শর্মা, ছবি: সোশাল মিডিয়া।
অনুষ্কা আরও বলেন, "ওকে খুব ছোট থেকেই আমরা চিনি। ও আমাদের বাদ্যযন্ত্র নির্মাতা সঞ্জয় রিখিরামের ছেলে। আর তাই হয়তো লোকমুখে এটাই প্রচার হয়েছে যে ঋষভ বাবার ছাত্র। তবে হ্যাঁ, তা না হওয়া সত্বেও ও যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করছে। ওর সেতারের সুরে শ্রোতাদের বেঁধে রেখেছে তা বলাই বাহুল্য।" উল্লেখ্য এর আগে বহুবার ঋষভ নিজেই জানিয়েছেন, পণ্ডিত রবি শঙ্কর তাঁর জীবনে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলেছেন। তাঁর পদাঙ্ক কীভাবে ঋষভ অনুসরণ করেছেন।
বলে রাখা ভালো, শুধুই বিনোদনের জন্যই নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার স্বার্থে আয়োজিত হচ্ছে তাঁর শো ‘সিতার ফর মেন্টাল হেলথ’। যা আয়োজিত হবে কলকাতার বুকেও। সুরের ঝর্না নিয়ে ঋষভ আগামী মার্চ থেকেই তাঁর ভারত সফর শুরু করবেন। পৌঁছে যাবেন ভারতের সংস্কৃতি নিয়ে প্রায় প্রতিটি রাজ্যের সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের দরবারে। আর সেই যাত্রা শিল্পী শুরু করবেন ১৫ মার্চ, বেঙ্গালুরু থেকে। এই তালিকায় রয়েছে কলকাতা ছাড়াও মুম্বই, পুণে, জয়পুর, হায়দরাবাদ, চেন্নাই-সহ আরও অনেক রাজ্য।
