বাঙালির ড্রয়িংরুমে এক সময় তিনি ছিলেন নিত্য অতিথি। রেডিওর নব ঘোরালেই শোনা যেত সেই মায়াবী কণ্ঠ। কখনও বিজ্ঞাপনের জিঙ্গলে, কখনও আবার আধুনিক বাংলা গানের তানে, নিজস্ব বাচনভঙ্গিতে তিনি মুগ্ধ করে রেখেছেন কয়েক প্রজন্মকে। তিনি শ্রাবন্তী মজুমদার। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রাণের শহর কলকাতায় ফিরছেন বাংলার এই 'জিঙ্গল কুইন'। উপলক্ষ তাঁর কালজয়ী গান ‘আয় খুকু আয়’-এর পঞ্চাশ বছর পূর্তি।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। সন্ধে সাড়ে ৬টায় কলা মন্দির প্রেক্ষাগৃহে বসতে চলেছে এক অনন্য আসর। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে শিল্পী ও তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ ‘আয় খুকু আয়’। আয়োজনে বেঙ্গল ওয়েব সলিউশনস এবং নিবেদনে বোরোলিন। সুদূর আইলস অফ ম্যান থেকে স্রেফ শ্রোতাদের টানেই পাড়ি দিয়েছেন তিলোত্তমায়। এই একটি গান যে বাঙালির বাবা-মেয়ের সম্পর্কের চিরকালীন দলিল হয়ে উঠবে, তা বোধহয় রেকর্ডিংয়ের সময় স্বয়ং শিল্পীও ভাবেননি।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রাণের শহর কলকাতায়
স্মৃতিচারণায় শিল্পী জানালেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক রেকর্ডিংয়ের কথা। শ্রাবন্তীর কথায়, "এই গানটা হেমন্তবাবু ছাড়া গাইব না মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিলাম।" শিল্পী আরও জানান, শুরুতে দীর্ঘ সময়ের জন্য এই গানটি রেডিওতে বাজাতে সমস্যা হত। কিন্তু পুজোর মণ্ডপ আর ঘরোয়া আড্ডায় গানটি ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়। অনুষ্ঠানের দিন এমন আরও অনেক না-জানা গল্প শোনাবেন তিনি।
সেদিন মঞ্চে শ্রাবন্তী মজুমদারের সঙ্গে আলাপচারিতায় থাকবেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য। অনুষ্ঠানের প্রাক-কথনে থাকছেন সতীনাথ মুখোপাধ্যায় এবং একটি বিশেষ ভূমিকায় দেখা যাবে সৌমিত্র বসুকে। বোরোলিনের সেই চিরকালীন সুরভিত জিঙ্গল হোক কিংবা ওয়েসিসের বিজ্ঞাপন— শ্রাবন্তীর কণ্ঠ মানেই এক জাদু। সলিল চৌধুরী থেকে শুরু করে কিশোর কুমার, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় কিংবা বাপি লাহিড়ী— দিকপাল সব সুরকার ও শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তাঁর ঝুলি। অনু মালিককে দিয়ে প্রথম আধুনিক বাংলা গান করানো বা ভূপিন্দর সিং-এর সঙ্গে ডুয়েট, সব স্মৃতিই এদিন ভিড় করে আসবে কলা মন্দিরের মঞ্চে। একরাশ নস্টালজিয়া নিয়ে সেই সুরের ম্যাজিক আবারও চাক্ষুষ করতে মুখিয়ে আছে শহরবাসী।
