shono
Advertisement
Malati Mary Biswas

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নারীর কণ্ঠরোধের গল্প! কেমন হল সোহাগ সেন নিবেদিত 'মালতী মেরী বিশ্বাস'?

সমসময়ের প্রতিচ্ছবি। সোহাগ সেন নিবেদিত 'মালতী মেরী বিশ্বাস' নাটকটি দেখে লিখছেন নির্মল ধর।
Published By: Kasturi KunduPosted: 09:27 AM Jun 15, 2026Updated: 12:39 PM Jun 15, 2026

'অনসম্বল' প্রযোজিত এবং সোহাগ সেনের নিবেদনে 'মালতী মেরী বিশ্বাস' (Malati Mary Biswas) নামের নাটকটি সমসময়ের বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক একটি চিত্র তুলে আনে। পরিচালক কৌশিক বসুর মূল ভাবনায় বেশ স্পষ্ট উচ্চারণেই রাজনৈতিক দেউলেপনা, কুকীর্তি ও নেতাদের দুর্নীতির পর্বতপ্রমাণ ঘটনার আংশিক উল্লেখ করেও নাটকটি মেরুদণ্ড সোজা রেখেই প্রকৃত সত্যের প্রতি আঙুল তুলেছে। 'মালতী' এই নাটকে প্রায় অনুপস্থিত থেকেও সর্বত্র সবসময় উপস্থিত। অবৈধ বালি খাদান, কিডনি চুরির ব্যবসা থেকে ফাদারের কুকীর্তি, পুলিশের সঙ্গে দুর্নীতির সরাসরি লভ্যাংশের ভাগাভাগির কথাও স্পষ্ট গলায় উচ্চারিত।

Advertisement

বাস্তবতা সত্ত্বেও মনে হয়, যেন সমাজের একশ্রেণির অসৎ, লোভী, স্বার্থপর, লুম্পেন মানুষদের কথা বলার জন্যই যেন নাটকটি লেখা। তবুও বস্তির বারোয়ারি কলকাতায় পাঁচ-ছয়টি চরিত্রের প্রভাতী আলাপের দৃশ্যটি বেশ জমে ওঠে বস্তিবাসী নারী-পুরুষের উপস্থিতি ও তাঁদের কূটকচালি সংলাপে। এখানেই এসে পড়ে বাস্তব জীবন। মাঝে মাঝেই এসেছে কানাই, হারু, রাজু, মহিলা পুলিশ জ্যোৎস্না, মেয়েদের হোম চালানোর আড়ালে তরুণীদের নিয়ে ব্যবসা করা ম্যাডাম লীলা, খুকুরানি, চার্চের ফাদার। এঁদের প্রত্যেকের জীবনে জড়িয়ে আছে বাঁচার জন্য আপসের তলায় দুর্নীতি। যার প্রতিটি খবর রাখত মালতী মেরী বিশ্বাস। নিজে তো প্রতিবাদ করতই, অন্যদের উৎসাহ দিত।

সোহাগ সেন

অঞ্চলের একমাত্র প্রতিবাদী, ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যায়। হয়তো ধর্ষণ করাও হয়েছে! পুলিশ তদন্ত করতে নেমে বস্তির নানা লোকের প্রতি সন্দেহের আঙুল তোলে। প্রত্যেকেরই কিলিং মোটিফ স্পষ্ট। কিন্তু কে বা কারা এই দুর্ঘটনা ঘটাল সেটা পরিষ্কারভাবে উচ্চারণ না করে নাট্যকার প্রকারান্তরে সবাইকেই দায়ী করলেন। প্রকৃত সত্য তো সেটাই। বাচ্চু সিং থেকে রাজনীতির অদৃশ্য 'দাদা' কিডনি চুরি করা ডাক্তার, পার্টি ক্যাডার সবাই তো অসামাজিক কাজে লিপ্ত ছিল। প্রতিবাদীদের মুখ তো এভাবেই বন্ধ করা হয়। এবং দোষীরা থেকে যায় অন্ধকারে। নাটক শুরু একটি চলন্ত ট্রেনে, শেষ দৃশ্যেও আসে ট্রেন। তবে সেই দুই ট্রেনের গতি বিপরীত দিকে, এবং আবারও দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যায় আরও দুজন। ভাবনাটি প্রশংসাযোগ্য।

নির্মেদ-পরিচ্ছন্ন এবং সরল নির্দেশনা কৌশিক বসুর। বুঝতে অসুবিধে হয় না, অভিনয় শিল্পীরা প্রত্যেকেই ট্রেনিং পেয়েছেন সোহাগ সেনের কাছে। প্রায় পনেরো জন শিল্পীর অনসম্বল কাস্টিং এই প্রযোজনার সবচেয়ে চোখে পড়ার দিক তাঁদের প্রত্যেকের অভিনয়। কে কোন চরিত্রে সেটা জানা যায়নি। তবে কজ্জ্বল ঘোষ, সুতপা ঘোষ, শান্তনু মজুমদার, সোমা মুখোপাধ্যায়, রাজীব মুখোপাধ্যায়, তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশালী মজুমদার এবং বাকি সব্বাই-ই নজর কাড়েন স্বাভাবিক অভিনয়ের গুণে। একটাই আক্ষেপ, বস্তি পুড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্যটি কিন্তু কাঙিক্ষত এফেক্ট আনতে পারেনি। এটা নিয়ে পরিচালক যদি একটু ভাবেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement