বসন্তের হঠাৎ ঝড়বৃষ্টিতে লক্ষ্মীলাভ হাওড়ার আলুচাষিদের! মঙ্গলবার সকালের বৃষ্টিতে আলু চাষের জন্য আখেরে লাভজনক হল বলে দাবি কৃষকদের একাংশের। বৃষ্টিতে আলুর ফলন আরও বেড়ে যাবে বলে দাবি হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের চাষিদের।
মঙ্গলবার ভোররাতে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে উদয়নারায়ণপুর-সহ বাংলার বিভিন্ন জায়গায়। চাষিদের বক্তব্য, এই বৃষ্টি চাষের জন্য লাভজনক। কারণ, দীর্ঘ কয়েক মাস কোনও বৃষ্টি হয়নি। ফলে মাটি, মাঠঘাট শুকনো। এই সময় আলু চাষে একটু জলের প্রয়োজন হয়। সেজন্য সেচ দিতে হত বা অনেকেই সেচও দিয়েছেন। এই বৃষ্টির ফলে সেচ আর দিতে হবে না। এই বৃষ্টির ফলে তাদের আলুর ফলন আরও বাড়বে।
উদয়নারায়ণপুরের এক বড় আলুচাষি মৃত্যুঞ্জয় সামন্ত। তিনি বলেন, "এই বৃষ্টি আমাদের অনেকটা উপকারী। দুই প্রকার উপকার হল। সেচের জল আনার খরচ বাঁচল। পাশাপাশি ফলন বাড়বে।" মৃত্যুঞ্জয়বাবু এবারে ২০ বিঘা আলু জমিতে আলু চাষ করেছেন। তিনি বলেন, "এখনই বিঘাতে ১২০ বস্তার কাছাকাছি করে আলু পাচ্ছি। সেই ফলন আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে এদিকে আলুর ফলন বেড়ে যাওয়ায় আবার চাষিদের আলুর দাম পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
দাম নিয়ে তিনি আরও বলেন, "এখন চাষিরা আড়াইশো টাকা বস্তা আলুর দাম পাচ্ছে। এটা অন্তত ৩৫০-৪০০ টাকার না হলে চাষিদের লোকসান হয়ে যাবে। এবারে যদি স্টোরে কিছু রাখা যায় সেটা ঠিক আছে। তবেই যদি অন্যত্র রপ্তানি করা যায় সেটা হলে চাষিরা হয়তো কিছুটা উপকৃত হবে। একই দাবি উদয়নারায়নপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত দাসের। তিনিও বলেন, "আলুর উপকার হয়েছে ঠিকই, ফলন বাড়বে। তবে দাম খুবই কম। যদি দাম বাড়ে চাষিরা খুবই উপকৃত হবে।"
