ক্যালেন্ডারে ফাগুন। কিন্তু শরীরী স্পর্শে শীত। আর তার মাঝেই ভরা বসন্তে বৃষ্টি পুরুলিয়ায়। নিম্নচাপের জেরে প্রায় তিন মাস পর বৃষ্টির ফোঁটা এই পশ্চিমাঞ্চলে। গত ৩০ নভেম্বর শেষ বৃষ্টি হয়েছিল এই জেলায়। আর পরের তিন মাস একেবারে হাড়কাঁপুনি শীত থাকায় ঠান্ডার মরশুমে বৃষ্টি দেখেনি এই জেলা। দেখা গেল এই ফাগুনের ভালোবাসার মরশুমে! সোমবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত ৬.৭১ মিলিমিটার বৃষ্টি আর মঙ্গলবার দিনভর মেঘলা আবহাওয়ার উষ্ণতায় যেন আশার সঞ্চার। 'ফুটবে ঠিক মনমাফিক, মনপলাশ'!
আসলে ফেব্রুয়ারি প্রায় শেষ হতে চলল কিন্তু পুরুলিয়ার ল্যান্ডস্কেপে যে চোখে পড়ছে না আগুন ঝরানো লাল পলাশ (Palash flower)। একেবারে বিক্ষিপ্তভাবে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি জায়গায় পলাশ উঁকি দিয়েছে। বনদপ্তর বলছে, আবহাওয়া উষ্ণ না হওয়ার কারণে ফুটছে না পলাশ। তবে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি আর মেঘলা আবহাওয়ার উষ্ণতায় লাল পলাশের আভা এবার ছড়িয়ে পড়বে পুরুলিয়ার বনাঞ্চলে। কবে ফুটবে পলাশ? সমাজ মাধ্যমে এই ঘনঘন জিজ্ঞাসারও উত্তর দেওয়া যাবে।
কৃষি দপ্তরের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় হুড়ায় ১৭.৪ মিলিমিটার। তবে এই বৃষ্টির আবহেও আকাশ মেঘলা থাকায় ফেব্রুয়ারিতেই তাপমাত্রা বেশ ঊর্ধ্বমুখী এই জেলায়। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩২.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সর্বনিম্ন ১৬.১ ডিগ্রি। আবহাওয়া বিজ্ঞান অনুযায়ী এদিন শীত নেই। যদিও বঙ্গ থেকে এখনও শীত বিদায় নেয়নি। পাতা ঝরে পড়েনি। আগুন ঝরানো পলাশ চাক্ষুস না হওয়ায় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানুষজনদেরই মন খারাপ তা নয়। পলাশের অপেক্ষায় কার্যত গোটা জেলাই। ফাগুনের এই বৃষ্টিতে আমের মুকুলও ঝরে পড়বে না। ফলে সহায়ক হবে ফলনে।
