shono
Advertisement

আলুবীজ উৎপাদনে স্বাবলম্বী হতে পেরুর হাত ধরল বাংলা, উত্তরবঙ্গে তৈরি হচ্ছে নতুন টিস্যু কালচার ল্যাব

পেরুর ‘ইন্টারন্যাশনাল পট্যাটো সেন্টার’-এর সঙ্গে গাঁটছড়া বাংলার।
Posted: 09:52 AM Sep 30, 2023Updated: 09:52 AM Sep 30, 2023

গৌতম ব্রহ্ম: আর পাঞ্জাব-হরিয়ানার মুখ‌াপেক্ষী নয়। আলুবীজ উৎপাদনে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর হবে বাংলা। এই লক্ষ্যেই পেরুর ভুবনবিখ‌্যাত ‘ইন্টারন‌্যাশনাল পট‌্যাটো সেন্টার’-এর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধল রাজ্যের কৃষি দফতর। 

Advertisement

শুক্রবার নবান্নে এই নিয়ে রাজ্যের কৃষি ও পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ‌্যায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। যেখানে দফতরের প্রধান সচিব ওঙ্কার সিং মিনা, কৃষি অধিকর্তা পার্থ সেনগুপ্ত তো ছিলেনই, ছিলেন বিশ্ববরেণ‌্য কৃষি বিজ্ঞানী তথা পেরুর ‘ইন্টারন‌্যাশনাল পট‌্যাটো সেন্টার’-এর এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তা সমরেন্দু মহান্তিও। ছিলেন রাজ্যের কৃষি গবেষকদের এক উচ্চপর্যায়ের দলও। সেখানেই নয়া প্রযুক্তিতে আলুবীজ উৎপাদনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। শোভনদেববাবু জানান, ‘‘এপিক‌্যাল রুটেড কাটিং’ বা এআরসি প্রযুক্তি ব‌্যবহার করে ২০৩০ সালের মধ্যে আলুবীজ উৎপাদনে স্বাবলম্বী হবে বাংলা। আসলে এই প্রযুক্তির ব‌্যবহারে বীজ উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ মজুত উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে। এখানে সরকারি ফার্মে নতুন করে শীঘ্রই টিস্যু কালচার ল‌্যাব তৈরি করে কাজ শুরু করা হবে। রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদিত হবে।’’  

[আরও পড়ুন: স্বপ্নাদেশ পেয়েই শুরু পুজো, ৩৩৯ বছরে পড়ল হওড়ার রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো]

নতুন এআরসি প্রয্ুক্তিতে প্রথমে টেস্ট টিউব, তারপর শেড নেট করে আলু বীজ উৎপাদিত হবে। এই ব‌্যাপারে ‘ফার্মারস প্রোডিউসারস অর্দানাইজেশন’ বা এফপিও এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মতো ‘প্রোগ্রেসিভ ফার্মারস গ্রুপ’-দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে চাষিদের শেখানো হবে আলুবীজ উৎপাদনের কায়দা। শোভনদেববাবু জানিয়েছেন, ‘‘নতুন এআরসি পদ্ধতিতে চার বছরের মধ্যেই ২৫শতাংশ বীজ উৎপাদনে সক্ষম হবে রাজ‌্য। পঁাচ বছরের মাথায় একশো শতাংশ বীজই উৎপাদিত হবে।’’ শোভনদেববাবুর দাবি, ‘‘মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় আলুবীজ উৎপাদনে রাজ‌্যকে স্বাবলম্বী করার জন‌্য পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মেনেই বিশ্ববরেণ‌্য কৃষিবিজ্ঞানী সমরেন্দু মহান্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অর্থদফতর বরাদ্দ করে প্রায় ৩৬.৯ কোটি টাকা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে।’’

২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে বাংলায় আলুবীজ উৎপাদনে টিস্যু কালচার ল‌্যাব তৈরি করা হয়। প্রথমে মেদিনীপুর ও পরে কৃষ্ণনগরে। এয়ারোপনিকস পদ্ধতিতে এই গুই জায়গায় আলু বীজ উৎপাদন শুরু হয়েছে। যা ইতিমধ্যেই ব‌্যবহার হচ্ছে বাংলার মাঠে। পরের বছর থেকে এআরসি পদ্ধতিতে উৎপাদিত বীজও ব‌্যবহার হবে।  এখন শুধু ওড়িশার কোরাপুটের পাহাড়ি অঞ্চল এই আআরসি প্রযুক্তি ব‌্যবহার করে আলু বীজ উৎপাদন করছে। কর্নাটকও এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। বাংলা তৃতীয় রাজ‌্য। তবে, বাংলার সম্ভাবনা যে বেশি তা স্বীকার করে নিয়েছেন সমরেন্দুবাবুরা। তাঁরা জানিয়েছেন, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ির পরিবেশ রোগমুক্ত আলু বীজ উৎপাদনের জন‌্য অত‌্যন্ত অনুকূল।  এই আলুবীজ ব‌্যবহার হলে রোগমুক্ত আলুর ফলন বাড়বে। ফলে একদিকে সুলভে বীজ মিলবে। অন‌্যদিকে, আলুর গুণগত মান ভাল হবে। উল্লেখ‌্য, এখন বেশিরভাগ বীজই পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আলুচাষের খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাছাড়া আমদানি কার বীজের আলুর রোগগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। নতুন পদ্ধতি সবদিক থেকেই বিপ্লব আনবে আলু চাষে। 

[আরও পড়ুন: যুদ্ধ করছে ইউক্রেন-রাশিয়া, তা দেখেই কামান কিনছে ভারত!]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement