চলতি মরশুমে আলুর ফলন বাড়বে বলেই আশা কৃষকদের। আর তা-ই যেন চিন্তা বাড়াচ্ছে কৃষকদের। বেশি আয় তো দূর। উলটে অতি ফলনের পরেও আয় কমবে বলেই উদ্বিগ্ন কৃষকরা। এই পরিস্থিতিতে অবশ্য কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার।
বাংলায় সাধারণত ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ১.২ কোটি টন আলু চাষ হয়। চলতি বছর আলুচাষের পরিমাণ বেড়ে ১.৭ কোটি থেকে ১.৯ কোটি টন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, "আমি গত বেশ কয়েক বছর ধরে আলু চাষের এমন অনুকূল আবহাওয়া দেখিনি। যদি আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার তেমন বড়সড় পরিবর্তন না হয় তাহলে বিপুল পরিমাণ আলু চাষের সাক্ষী হবে বাংলা। এই পরিস্থিতি তৈরি হলেও আমরা কৃষকদের পাশে রয়েছি। আমরা ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ কোল্ড স্টোরেজের বন্দোবস্ত করেছি। তার ফলে তাড়াহুড়ো করে কম দামে আলু বিক্রি করে দিতে হবে না কৃষকদের।"
সূত্রের খবর, সম্প্রতি রাজ্য সরকার আলুচাষিদের দিকে নজর দিয়েছে। বাংলায় কমপক্ষে ৮ লক্ষ পরিবার আলুচাষের সঙ্গে যুক্ত। মূলত হুগলি, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বেশিরভাগ মানুষ আলুচাষ করেই জীবনধারণ করেন। বাংলায় সাধারণত ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ১.২ কোটি টন আলু চাষ হয়। চলতি বছর আলুচাষের পরিমাণ বেড়ে ১.৭ কোটি থেকে ১.৯ কোটি টন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আলুচাষ শুরু হয়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলে আলু তোলার সময়। আলুচাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকরা ইতিমধ্যে অতিরিক্ত চাষের পরেও কম আয় হওয়ার ভাবনাচিন্তা করছেন। যাতে এই সমস্যা না হয় সেদিকেই নজর রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের। ইতিমধ্যে নবান্নে এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। যাতে কোল্ড স্টোরেজ নিয়ে এবং কীভাবে কৃষকদের থেকে সরাসরি আলু কেনা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। কৃষকদের কাছে একটাই আর্জি, তাড়াহুড়ো করে আলু বিক্রি করবেন না। তাতে আখেরে ক্ষতি হবে কৃষকদেরই।
