বয়স বাড়লে কালো চুলে পাক (untimely greying) ধরবেই। চুলের সাদাভাব ঢাকতে বাজারচলতি রঙ করাই যায়, কিন্তু তাতে আর কদিন চালানো সম্ভব? চুলের দৈর্ঘ্য বাড়লেই সাদা গোড়ার অংশ প্রকট হয়। চুল পাকলে অনেকেই মাথার ত্বকে শুস্কতা অনুভব করেন। ফলে মাথা চুলকাতে হাত উদ্যত হয় বারবার। তাছাড়া কেমিক্যাল ডাই ত্বকের পক্ষে ভালো নয়। ফলে নিয়মিত ব্যবহারে ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
কী করা যায় তবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ব্ল্যাক সিড অয়েল’-এর কথা, যা প্রাকৃতিকভাবে চুল কালো করে। অসময়ে চুল পেকে যাওয়া অনেকখানি দমন করে। নাম শুনে গুরুগম্ভীর লাগছে কি? এ আদতে কালো জিরের তেল, যার গুণাগুণ অনেক।
শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করতে হবে।
কেন ব্যবহার করবেন?
- কালো জিরের তেল তো আর ডাইয়ের মতো চুলের রঙ বদলে দিতে পারবে না। তবে ভিতর থেকে চুলকে পুষ্টি জোগাবে, যার ফলে পাকা চুলের সংখ্যা কমবে। চুলের স্বাস্থ্যও উন্নত হবে।
- এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড স্ক্যাল্পের শুষ্কতা কমাতে পারে।
- চুলের গোড়া বা ফলিকলকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
- ব্ল্যাক সিড অয়েল প্রসাধনীর দোকানে কিনতে পাওয়া যায়। শ্যাম্পুর বোতলে সরাসরি তা মিশিয়ে রাখবেন না।
- হাতের তালুতে প্রয়োজনমতো শ্যাম্পু নিন।
- তাতে ২-৪ ফোঁটা তেল মেশান।
- চুলের গোড়ায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন।
- ১-২ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে এই তেলে কাজ নাও হতে পারে। যেমন, অনেকের চুল পেকে যাওয়ার বংশগত ইতিহাস থাকে। এছাড়া, হরমোনজনিত কোনও সমস্যা থাকতে পারে ব্যক্তির। সেক্ষত্রেও অসময়ে চুল পাকতে পারে। কিংবা এই সব কিছু ছাড়া, অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। কিডনি-লিভারের কিছু কিছু রোগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পাকা চুল দেখা দেয়। তেমন কিছু অনুমান করা গেলে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
নিয়মিত ব্যবহারে চুল মজবুত হবে গোড়া থেকে; উজ্জ্বলতা চোখে পড়বে।
তবে কোনও প্রসাধন সামগ্রীতেই তো আর ম্যাজিক থাকে না! তাই আচমকা কয়েকদিন এই তেল ব্যবহার করলেই যে ফল মিলবে, এমন ভাবাটা ভুল। দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সুঅভ্যাস বজায় রাখতে হবে সর্বদা। যেমন রোজের খাবারে যেন পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মানসিক চাপ যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়, তা দেখতে হবে। নানা ধরনের হেয়ার স্টাইলিং যাতে কৃত্রিম উত্তাপ ব্যবহার করা হয়, সেসব থেকে খানিক দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো।
