অনেকেই বিশ্বাস করেন কালো রং অশুভ। তাই বিয়েবাড়ি কিংবা শুভ অনুষ্ঠানে কালো পোশাক পরেন না কেউ কেউ। বিয়েবাড়ির ক্ষেত্রে তো কালো পোশাকের কথা ভাবতেও পারেন না অনেকেই। বিশেষত যাঁরা বিবাহ বন্ধনে বাঁধা পড়ছেন তাঁদের জন্য কালো পোশাক একেবারে ভাবনার অতীত। বরং শোকের প্রতীক হিসাবে কালো রঙকে অনেকেই গণ্য করেন। অথচ সেই কালো রঙই মঙ্গলসূত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। এই মঙ্গলসূত্র বিবাহিত নারীদের মঙ্গল প্রতীক হিসাবে বিবেচিত। কেন তাতে কালো রঙের দাপট, কারণ জানলে আপনি চমকে যেতে বাধ্য।
বিবাহিত মহিলার শাখা, পলা, সিঁদুরের মতো মঙ্গলসূত্র পরেন। বিশেষত অবাঙালিরাই মঙ্গলসূত্র বেশি পরেন। বর্তমানে ডিজাইনে এসেছে হাজারও বদল। তার টানে বাঙালি-অবাঙালি উভয়েই মঙ্গলসূত্র পরেন। তবে মঙ্গলসূত্র শুধু গয়না হিসাবে বিবেচিত হয় না। স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং বৈবাহিক সুখে যাতে কারও কুনজর না পড়ে, সে বিশ্বাস থেকে অনেকে এটি পরে থাকেন। আর ঠিক সে কারণে মঙ্গলসূত্র হারিয়ে কিংবা ছিঁড়ে যাওয়াকে মোটেও শুভ ইঙ্গিত হিসাবে ধরেন না বহু বিবাহিত মহিলা। তাঁরা মনে করেন, দাম্পত্য সম্পর্কে চিড় ধরার আগাম আভাস নাকি দেয় মঙ্গলসূত্রের ক্ষতি।
শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, তাই কখনই মঙ্গলসূত্র বিবাহিতদের গলা থেকে খোলা উচিত নয়। কেউ কেউ ঘুমনোর সময় মঙ্গলসূত্র খুলে রাখেন। এই অভ্যাস ত্যাগ করাই ভালো।
শাস্ত্র অনুযায়ী, কালো রঙ মঙ্গলসূত্রে থাকা আবশ্যক। কারণ, ওই কালো পুঁতিই স্বামীকে নেতিবাচক শক্তি এবং কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করবে। তাতে আরও নিরাপদ হবেন স্বামী। দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত হবে অনেক বেশি মজবুত। সেসব কথা ভেবেই মঙ্গলসূত্রে কালো পুঁতি ব্যবহার করা হয়। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, সোনা এবং কালো পুঁতির মিশেলে তৈরি মঙ্গলসূত্র শুধু স্বামীর কল্যাণই নয়, তা পরলে বৃহস্পতির শুভ প্রভাবও বৃদ্ধি পায়। সমৃদ্ধি, বৈভবও বাড়ে। তাই মঙ্গলসূত্র ধারণে শুধু দাম্পত্য সম্পর্কের নয়। ওই মহিলার গোটা পরিবারেরই উন্নতি হয়।
