গরমের পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই মুহূর্ত থেকেই যদি ত্বকের প্রতি যত্নশীল না হন, তাহলে ভুগতে পারেন নানাবিধ সমস্যায়। গরমে চিটচিটে ত্বকে ব্রণ, র্যাশ, ঘামাচি পদে পদে আপনাকে কাবু করে তুলতে পারে। শুধু তাই নয়, ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটেও যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয় পিগমেন্টেশনে। তখন আর নামী-দামি সানস্ক্রিন মেখেও সুরাহা মেলে না। পার্লারে গিয়ে ডি-ট্যান ফেসিয়াল করালে পকেটে টান পড়ে। একই সঙ্গে রাসায়নিকের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। অথচ আপনার রান্নাঘরেই রয়েছে এমন এক উপাদান, যা মুলতানি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে মাখলে পার্লারের খরচ বাঁচবে। ত্বক হবে উজ্জ্বল ও দাগমুক্ত।
ফাইল ছবি
ট্যান তাড়াতে মুলতানি মাটির জাদু
যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের কাছে মুলতানি মাটি আশীর্বাদ স্বরূপ। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিতে সাহায্য করে। কিন্তু শুধু মুলতানি মাটি মাখলে অনেক সময় ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। এখানেই ম্যাজিকের মতো কাজ করে টমেটোর রস। টমেটোতে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট এবং লাইকোপিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা রোদে পোড়া দাগ বা পিগমেন্টেশন দ্রুত হালকা করে।
ফাইল ছবি
কীভাবে বানাবেন এই বিশেষ প্যাক?
পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ। একটি পরিষ্কার কাচের বাটিতে দু’চামচ মুলতানি মাটি নিন। তাতে মিশিয়ে দিন টাটকা টমেটোর রস। খেয়াল রাখবেন, মিশ্রণটি যেন খুব পাতলা বা খুব ঘন না হয়। থকথকে প্যাক তৈরি হলে সেটি মুখ ও ঘাড়ের ট্যান পড়া অংশে লাগিয়ে রাখুন। ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর প্যাকটি শুকিয়ে এলে হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন এই ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করলেই তফাত বুঝতে পারবেন।
ফাইল ছবি
কেন মাখবেন এই মিশ্রণ?
১) নিয়মিত টমেটো ও মুলতানি মাটির মিশ্রণ ব্যবহার করলে ত্বকের জেদি কালচে ভাব দূর হয়। ত্বক হয়ে ওঠে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি উজ্জ্বল।
২) মুলতানি মাটি রোমকূপের গভীরে জমে থাকা নোংরা পরিষ্কার করে। ফলে ব্রণের উপদ্রব কমে। টমেটোর রস ত্বকের পিএইচ (pH) ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩) এই প্যাকটি স্ক্রাবার হিসেবেও দারুণ কার্যকর। ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃত কোষ বা ডেড স্কিন সেল সরিয়ে ফেলে ত্বককে সতেজ রাখে।
৪) যাঁদের মুখে কালচে ছোপ বা পিগমেন্টেশন রয়েছে, তাঁদের জন্য টমেটোর রস অব্যর্থ ওষুধ। এটি ন্যাচারাল টোনার হিসেবে কাজ করে ত্বককে টানটান ও মসৃণ রাখে।
