চুল ঝরা (Hair Fall) আর থমকে যাওয়া বৃদ্ধি— আধুনিক জীবনযাত্রায় এই দুই সমস্যা ঘরে ঘরে। বাজারচলতি দামি সিরাম বা শ্যাম্পু মেখেও যখন ফল মেলে না, তখন অনেকেই ফিরে যান পুরনো দিনের সেই চুলে তেল মাখার অভ্যাসে। তবে কেবল তেল মাখলেই হবে না, রয়েছে বিশেষ এক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। যার নাম ‘ইনভার্সন মেথড’। ঘরোয়া এই টোটকাতেই লুকিয়ে রয়েছে এক ঢাল ঘন কালো চুলের রহস্য।
প্রতীকী ছবি
চুলে তেল মাখা বা ‘অয়েলিং’ কেবল একটি প্রথা নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর বিজ্ঞান। তেল চুলের ওপর একটি সুরক্ষাকবচ বা ‘প্রোটেক্টিভ লেয়ার’ তৈরি করে। এটি চুলের কিউটিকলকে বাইরের দূষণ এবং শ্যাম্পুর কড়া রাসায়নিক থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত মালিশের ফলে স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তবে ভুল পদ্ধতিতে তেল মাখলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি।
অনেকেই সারা রাত চুলে তেল দিয়ে রাখেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সব সময় সঠিক নয়। বিশেষ করে যাঁদের স্ক্যাল্প তৈলাক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ তেল রাখা বিপদজ্জনক। এতে রোমকূপ বন্ধ হয়ে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা খুশকি হতে পারে। আবার নোংরা চুলে তেল মাখলে হিতে বিপরীত হয়। তেল মাখার পর খুব শক্ত করে চুল বাঁধার অভ্যাসও ত্যাগ করা উচিত। এতে চুলের গোড়া আলগা হয়ে যায় এবং চুল ঝরার পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
প্রতীকী ছবি
এ বার আসা যাক আসল পদ্ধতিতে। ‘ইনভার্সন মেথড’ বা মাথা নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে তেল মালিশ করার পদ্ধতি এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। এই পদ্ধতিতে অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে মাথায় রক্ত সঞ্চালন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে চুলের ফলিকলগুলো দ্রুত পুষ্টি পায়।
কীভাবে করবেন এই ইনভার্সন?
প্রথমে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল ভালো করে আঁচড়ে জট ছাড়িয়ে নিন। নারকেল বা আমন্ড তেল সামান্য গরম করে আঙুলের ডগায় নিন। এবার একটি চেয়ারে বসে মাথাটা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন। অথবা বিছানায় শুয়ে মাথাটা নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিন। এই অবস্থায় ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা হাতে বৃত্তাকার পদ্ধতিতে মাসাজ করুন। সপ্তাহে অন্তত দু’বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে দ্রুত চুল লম্বা হয় এবং অকালপক্বতা রোধ করা সম্ভব। সঠিক তেলের সঙ্গে সঠিক পদ্ধতিই পারে আপনার চুলের ভোল বদলে দিতে।
