লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় না করে মোদি সরকার প্রথম কোনও বিল পাশ করাতে ব্যর্থ। এর থেকে কি তারা শিক্ষা নেবে?
নানা ধরনের ভাষ্য দিয়ে রাজনীতিতে চমক তৈরি করা নরেন্দ্র মোদির আমলে বিজেপির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মুখে। আখ্যানটি জনগণের সামনে রেখে ভোট বিভাজনের চেষ্টা করে। সর্বশেষ উদাহরণ, লোকসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার বিষয়টিকে আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত করে দেশজুড়ে একটি বিতর্ক বাঁধানোর চেষ্টা। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা ভোটের মুখে হঠাৎ বিজেপি সংসদের বিশেষ অধিবেশন তলব করে এই প্রক্রিয়াটি শুরু করেছে। লোকসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের দাবিটি যখন সামনে আসে, তখন বিজেপি এটি রূপায়ণের বিষয়ে বিশেষ সচেষ্ট ছিল না। প্রয়াত সিপিআই সাংসদ গীতা মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি এই বিষয়ে প্রথম সুপারিশ করেছিল। নানা বাধায় তা রূপায়িত হয়নি।
লোকসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার বিষয়টিকে আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত করে দেশজুড়ে একটি বিতর্ক বাঁধানোর চেষ্টা।
'১০ সালে রাজ্যসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিলটি পাশ হয়। কিন্তু সেটি লোকসভায় পাশ করা যায়নি। '২৪ সালের লোকসভা ভোটকে মাথায় রেখে '২৩ সালে বিলটি নতুন মোড়কে মোদি সরকার সংসদে নিয়ে আসে। বিলের সঙ্গে অজ্ঞাতকারণে জনগণনা ও লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি জুড়ে দেওয়া হয়। '২৩ সালে যে-বিলটি সংসদে পাশ করা হয় তাতে বলা, '২৬-পরবর্তী জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের পর মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ চালু হবে। '২৭ সালে দেশে জনগণনা শুরু হবে। ফলপ্রকাশ হতে ২ বছর। তার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস। শেষ আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ ২০০২ সালে শুরু হয়। পুনর্বিন্যস্ত আসনের ভিত্তিতে প্রথম লোকসভা ভোট হয়েছিল ২০০৯ সালে। সুতরাং '২৩ সালে মোদি সরকার 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' নামে যে-বিলটি সংসদে পাশ করায় তার ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের কাজটি '৩৪ সালের লোকসভার ভোটের আগে কোনওভাবেই সম্ভব ছিল না। গত ৩ বছর মোদি সরকার চুপ করে বসেছিল। হঠাৎ বিষয়টি নিয়ে একটি বিতর্ক বাঁধাতে বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে একটি সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হল। আনার আগে কোনও রাজ্য সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা হয়নি।
'২৩ সালে যে-বিলটি সংসদে পাশ করা হয় তাতে বলা, '২৬-পরবর্তী জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের পর মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ চালু হবে।
'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' বিলে যে-সংশোধনী আনা হয় তাতে বলা, '১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন ৮৫০টি পর্যন্ত বাড়িয়ে '২৯ সালের লোকসভা ভোটেই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। বিরোধীরা এককাট্টা হয়। তাদের বক্তব্য সরকারের আসল উদ্দেশ্য, '২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ও নিজেদের মতো পুনর্বিন্যাসের কাজ করে বিজেপির জয় সুনিশ্চিত করা। তারা মহিলা সংরক্ষণকে শিখণ্ডী খাড়া করেছে মাত্র। লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় না করতে পেরে মোদি সরকার এই প্রথম কোনও বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হল। প্রশ্ন, এই ধাক্কা থেকে কি তারা কোনও শিক্ষা নেবে?
