এই গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত। কলকাতা হোক বা শহরতলি। বেলা দশটা বাজলেই ঘরের পাখা আগুন ওগড়াতে থাকে। সকাল সকাল স্নান সেরেও যে আরাম নেই, তা বলাইবাহুল্য। তাই, ঘর হোক বা বাহির, ভরসা মুঠো মুঠো 'কুলিং পাউডার'। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে কিংবা স্নান সেরে অফিস বেরবার সময়। গলায়, ঘাড়ে, পিঠে পাউডার ঢেলে এক লহমায় মিলছে বরফ-শীতল আরাম। ক্ষণিকের জন্য হলেও মনে হচ্ছে যেন 'ইহাই স্বর্গসুখ'!
কিন্তু ডার্মাটোলজিস্টরা বলছেন, এ বড় সুখের সময় নয়। কারণ, এই সুখের পিছনেই রয়েছে বড় বিপদ। এই ‘স্বর্গীয় অনুভূতি’ আসলে স্রেফ এক ধরনের প্রবঞ্চনা। যে পাউডারকে আপনি পরম বন্ধু ভাবছেন, সে-ই নিঃশব্দে আপনার ত্বকের বারোটা বাজাচ্ছে।
ফাইল ছবি
কীভাবে ক্ষতি করে 'কুলিং পাউডার'?
আসলে, এই ধরনের পাউডারে থাকা মেন্থল বা কর্পূর আমাদের স্নায়ুকে সাময়িকভাবে উত্তেজিত করে তোলে। ফলে একটা কৃত্রিম শীতলতার অনুভূতি তৈরি হয় মাত্র। কুলিং পাউডার কিন্তু ঘাম হওয়া আটকাতে পারে না, আর শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গেও এর কোনও সম্পর্ক নেই।
এই ভ্যাপসা আবহাওয়ায় পাউডার মাখার ঠিক দশ মিনিটের মাথায় যখন আবার দরদর করে ঘাম নামতে শুরু করে, তখনই ঘটে আসল বিপত্তি। পাউডারের সাদা স্তরের নীচে ঘাম আর বাইরের ময়লা আটকে যায়। ফলে ত্বক আরও স্যাঁতসেঁতে আর ভ্যাপসা হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চটজলদি স্বস্তির আড়ালে কোনও চিকিৎসাগত গুণ বা থেরাপিউটিক বেনিফিট নেই। উলটে পাউডারের কড়া কৃত্রিম সুগন্ধি ত্বকের নিজস্ব সুরক্ষাকবচ বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ এক্কেবারে নষ্ট করে দেয়।
বিশেষ করে যাঁদের ত্বক সেন্সিটিভ, তাঁদের জন্য এই মেন্থল ভীষণ ক্ষতিকর। প্রতিদিন গলা, আন্ডারআর্মস বা কুঁচকির মতো শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশে এই পাউডার ঘষলে লোমকূপের মুখ বা পোরস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘাম আর পাউডার মিশে সেখানে একটা আঠালো কাদা তৈরি হয়। যা ব্যাক্টেরিয়া এবং ফাঙ্গাসের মোক্ষম প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
কুলিং পাউডার ছাড়াই শরীর ঠান্ডা রাখুন এভাবে
১) আর্দ্রতা দূর করুন: স্নানের পর শরীরের প্রতিটি ভাঁজ তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে ভালো করে শুকিয়ে নিন। শরীরে ভেজা ভাব না থাকলে ফাঙ্গাসও বাসা বাঁধতে পারবে না।
২) সুতির সাজ: এই গরমে সিন্থেটিক পোশাককে একেবারে বিদায় জানান। ত্বককে খোলা হাওয়ায় শ্বাস নিতে দিন। হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির পোশাকই হোক গরমের সঙ্গী।
৩) জিঙ্ক অক্সাইডের ম্যাজিক: ঘামাচি বা র্যাশের প্রবণতা থাকলে পাউডার ছেড়ে চিকিৎসকের পরামর্শে জিঙ্ক অক্সাইড যুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা শুরু করুন।
৪) বিকল্প পাউডার: একান্তই যদি পাউডার মাখতে হয়, তবে বাজারচলতি সাধারণ পাউডারের বদলে 'ট্যাল্ক-ফ্রি' বা কর্নস্টার্চ যুক্ত পাউডার বেছে নিন।
৫) প্রকৃতির ছোঁয়া: কৃত্রিম ঠান্ডা নয়, ত্বকের আরামের জন্য বেছে নিন অ্যালোভেরা বা ক্যালামাইন যুক্ত হালকা জেল-ভিত্তিক বডি লোশন।
