কাশ্মীর যেন রূপ লাবণ্যের ভাণ্ডার। তা সে সেখানকার প্রাকৃতিক শোভা হোক, বা বাসিন্দাদের শারীরিক সৌন্দর্য। কাশ্মীরের হাওয়া গায়ে লাগলেই বুঝি রূপ খোলতাই হতে বাধ্য! কিন্তু আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে সেখানকার প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন খাবারে (kashmiri cure)। রোজের জীবনে সেসব খাবার গ্রহণ করা যায়, ব্যবহার করা যায় প্রসাধনী হিসেবেও। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকে কাশ্মীরি গ্লো আসতে বাধ্য! আর সে উজ্জ্বলতা কেবল বাহ্যিক নয়, শরীর ভিতর থেকে স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠবে।
আমন্ডের তেল। আখরোটের খোসার গুঁড়ো।
আমন্ডের তেল
ত্বক মসৃণ করতে বাদাম তেলের জুড়ি মেলা ভার। এ কারণে নামী দামী ব্র্যান্ডও বডি অয়েল হিসেবে বাদাম তেলের বিজ্ঞাপনী প্রচার করে। তবে কাশ্মীরি সুন্দরীদের মতো উজ্জ্বল ত্বক পেতে, কেমিক্যালবিহীন খাঁটি ‘কোল্ড-প্রেসড’ আমন্ড অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। এই তেলে চ্যাটচ্যাটে ভাব থাকে না। চুলের জন্যও অত্যন্ত উপকারী বাদাম তেল।
আখরোটের খোসার গুঁড়ো
কাশ্মীর গেলে পর্যটকরা প্রায়ই কিনে আনেন ব্যাগ ভর্তি আখরোট। খেলে মস্তিষ্ক সচল হয়, হৃদয় ভালো থাকে। তবে অনন্য এর খোসাটি, যা গুঁড়ো করে বাড়িতেই তৈরি করা যায় স্ক্রাব। এই স্ক্রাব ত্বকের ময়লা দূর করতে সাহায্য করে। ফিরিয়ে আনে রোজের ধুলো-ধোঁয়া-দূষণে হারানো ঔজ্জ্বল্য।
কেশর
কাশ্মীরি জাফরান বা কেশর ব্যবহার হয় মিষ্টি তৈরিতে, সামান্য পরিমাণ কেশরের দাম আকাশছোঁয়া। প্রসাধনী হিসেবেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। কাঁচা দুধ বা গোলাপ জলে দীর্ঘ সময় কেশর ভিজিয়ে, তা মুখে মাখলে ত্বক প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কালচে ভাব, ডার্ক সার্কেল একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। যে কারণে বিভিন্ন ফেস ওয়াশ, মাস্ক ও সিরামে উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় জাফরান।
কেশর। কাশ্মীরি কাওয়া।
কাশ্মীরি কাওয়া
এই ভেষজ চায়ের স্বাদ সাধারণ লিকার চায়ের থেকে খানিক ভিন্ন। প্রস্তুত করার সময় গোলাপ কুচি, কুচানো ড্রাই ফ্রুট, দারুচিনি, এলাচ প্রভৃতি দেওয়া হয়। এই চা যে কেবল হজমে সাহায্য করে, তাই নয়। ভরপুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে এই পানীয়তে, যা শরীরে মেদ জমতে বাধা দেয়। তাই ‘কাশ্মীরি বিউটি ড্রিঙ্ক’-এর শিরোপা জুটেছে কাওয়ার ভাগে। তবে পান করার অভ্যাস না থাকলে, প্রাথমিকভাবে অদ্ভুত লাগতে পারে।
