চুল উড়িয়ে মস্তানি দেখানোর দিন শেষ। নিয়ম ছিল আগে থেকেই। কিন্তু মেনে চলত ক'জন? সরকার বদলের বঙ্গে এখন অন্য ছবি। হেলমেট না পড়লেই ফাইন। তাই, কড়া নিয়মের চাবুকে সমস্ত বাইক আরোহীদের শিরে দিকে দিকে শোভা পাচ্ছে হেলমেট। বিদূষকদের মতে, আইন বাঁচল ঠিকই, কিন্তু অবাধ্য চুলের কী হবে? অনেকেরই কপালেই চিন্তার ভাঁজ। নিত্যদিন হেলমেট চাপিয়ে সাধের চুলগুলো সব এবার ঝরে যাবে না তো? মাথাজোড়া টাকের ভয়ে কেউ কেউ কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন খোদ 'হেলমেটকে'ই। তবে বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন গ্যারান্টি! আসল সত্যিটা জানলে পাবেন স্বস্তি।
ফাইল ছবি
দোষ কি সত্যিই হেলমেটের?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেলমেট পরার সঙ্গে চুল পড়ে যাওয়ার কোনও যোগ নেই। বংশগত কারণ এবং হরমোনের ওঠানামাই চুলের বারোটা বাজায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে টাক পড়ার মূল কারণ জিনগত বা ‘অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া’। মাথায় কিছু পরলেই চুলের গোড়ার ডিএনএ বদলে যায় না। এমনকী মহিলাদের ক্ষেত্রেও থাইরয়েড বা পিসিওডি-র মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণেই চুল বেশি পাতলা হয়।
ফাইল ছবি
তাহলে গলদ কোথায়?
হেলমেট পরলে চুল পড়ে না ঠিকই, তবে ভুলভাবে পরলে বিপদ নিশ্চিত। যদি হেলমেটটি খুব বেশি আঁটসাঁট হয়, তবে বার বার খোলা-পড়ার সময়ে চুলের গোড়ায় টান পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া’। এর ফলে চুলের গোড়া আলগা হয়ে যায়।
আসল সমস্যা তৈরি করে ঘাম আর নোংরা। গরমের দিনে দীর্ঘক্ষণ হেলমেট পরে থাকলে মাথার ত্বকে ঘাম বসে। সেই ঘাম আর বাইরের ধুলোবালি মিলে তৈরি হয় ব্যাকটিরিয়া ও ছত্রাকের আঁতুড়ঘর। যার জেরে মাথায় জাঁকিয়ে বসে খুশকি। আর খুশকি বাড়লেই শুরু হয় চুল পড়া। বিশেষ করে মহিলারা যদি পনিটেল বেঁধে তার ওপর টাইট হেলমেট চাপান, তবে ঘর্ষণের চোটে চুল মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
ফাইল ছবি
রেহাই মিলবে কীভাবে?
আইনও মানতে হবে, আবার চুলও বাঁচাতে হবে। রাস্তা কিন্তু সহজ। মেনে চলুন এই কয়েকটি ঘরোয়া উপায়।
ঠিক মাপের হেলমেট: প্রথমেই অতিরিক্ত টাইট বা একদম ঢিলেঢালা হেলমেট বাদ দিন। সঠিক মাপের হেলমেট বাছুন।
সুতির কাপড়ের ম্যাজিক: হেলমেট পরার আগে মাথায় একটা পরিষ্কার সুতির রুমাল, স্কার্ফ বা ব্যান্ডানা বেঁধে নিন। এটি মাথার ঘাম শুষে নেবে এবং চুলের সাথে হেলমেটের ঘর্ষণ কমাবে।
ভেজা চুলে ‘না’: স্নান করেই বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন না। ভেজা চুলে হেলমেট পরলে চুলের সব চাইতে বেশি ক্ষতি হয়।
হেলমেট পরিষ্কার রাখুন: সপ্তাহে অন্তত একবার হেলমেটের ভেতরের আস্তরণ ভালো করে পরিষ্কার করুন। নোংরা জমতে দেবেন না।
নিয়ম মেনে হেলমেট পরুন। মাথাও সুরক্ষিত থাকবে, চুলের বাহারও বজায় থাকবে।
