ত্বকের জেল্লা ফেরাতে কত কিছুই না করেন অনেকে। দামি প্রসাধনীর ব্যবহার তো রয়েছে। আর সঙ্গে পার্লারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট। তাতেও নাকি মনমতো ত্বকের জেল্লা ফিরছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেন কেউ কেউ। তবে জানেন কি, রোজকার নিয়মিত ত্বকচর্চাতেই লুকিয়ে জেল্লার গোপন চাবিকাঠি। কীভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন চলুন তা জেনে নেওয়া যাক।
রোজ সকালে বাড়ি থেকে বেরনোর আগে ভালো করে ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে এবং সন্ধ্যায় ত্বকচর্চা দু'রকমের হওয়া প্রয়োজন। কারণ, সকালের শুরুর ত্বকচর্চা যেমন এমন হয় যা ত্বককে দূষণ, ধুলো, ময়লা থেকে রক্ষা করবে। আবার সন্ধ্যার রূপচর্চা হল ত্বকের দূষণজনিত ক্ষতির ক্ষতে প্রলেপ। তা বলে ভুলেও ব্যাগ ভর্তি প্রসাধনী কিনবেন না। আগে নিজের ত্বকের ধরন বুঝুন। প্রয়োজনে পরীক্ষা করে দেখুন। তারপর প্রয়োজনীয় প্রসাধন সামগ্রী কিনুন।
ত্বকচর্চার প্রথম শর্তই হল ক্লিনজিং বা পরিষ্কার করা। অবশ্যই দু'বেলা ত্বক পরিষ্কার করে নিন। ফেসওয়াশের সাহায্য মুখ ধুয়ে ফেলুন - তা সে দিন হোক কিংবা রাত।
বাড়ি থেকে বেরনোর আগে কিংবা বাড়িতে থাকলেও রোজ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। নইলে ভিতর থেকে ত্বকের ক্ষতি হয়। মনে রাখবেন, একবার ত্বকের ক্ষতি হলে তাকে সারানো মুশকিল।
সারাদিনের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তবে ফেসওয়াশের ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই টোনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন। পরিষ্কার মুখে ভালো করে লাগিয়ে নিলেই কেল্লাফতে!
দূষণ ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু। ঢাল হিসাবে কাজ করবে সিরাম। তাই প্রতিদিন ত্বকের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে সিরাম অত্যন্ত কার্যকরী।
অনেকের চোখের নিচে কালি পড়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। আর তা ত্বকের বয়স একধাক্কায় বাড়ি দেয় অনেকটাই। আপনিও কি এই সমস্যায় ভুগছেন? রেহাই পেতে আই ক্রিমের জুড়ি মেলা ভার।
ঘুমোতে যাওয়ার আগে ময়েশ্চারাইজার অবশ্যই ব্যবহার করুন। তাতে ত্বক হবে তুলতুলে। শুষ্কতাও দূর হবে।
অনেকের ব্রণর দাগ ত্বকে থেকে যায়। সে সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে সেলিসাইলিক অ্যাসিড। ত্বকের লালভাব দূর করতে নিয়াসিনামাইডও ব্যবহার করতে পারেন।
ভুলেও বাইরে থেকে এসে মুখ না ধুয়ে শুয়ে পড়বেন না। তাতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। মনে রাখবেন, একবার ত্বকের দফারফা হয়ে গেলে সব শেষ। কোনওভাবেই আর তার হারানো জেল্লা ফেরানো সম্ভব নয়।
