মাথায় যেন চিরুনি দেওয়ার জো নেই। মুঠো মুঠো উঠে যাচ্ছে চুল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখভার তন্বীর। বাজারচলতি নানা তেল কিংবা শ্যাম্পু ব্য়বহার করেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ভেষজের উপর আস্থা রাখেন অনেকেই। বাড়ির মা-কাকিমাদের কথা শুনে চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে জবা গাছের উপর ভরসা করেন কেউ কেউ। ফুল নাকি পাতা, কোনটি চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে বেশি দরকারী। জেনে নিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা, আপনার জন্য রইল টিপস।
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক জবাপাতা এবং জবাফুল চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে ঠিক কীভাবে কাজ করে। জবাপাতা স্ক্যাল্পে লাগানোর ফলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। তার ফলে ফলিকলের চুলকে শক্ত করে ধরে রাখার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। আবার খুশকি, চুলকানির মতো নানা সমস্যা থেকেও রেহাই পেতে সাহায্য করে জবাপাতা।
ঘন কালো, উজ্জ্বল চুলের জন্য প্রয়োজন কেরাটিন। জবাফুলের সাহায্যে তা পাওয়া সম্ভব। চুলের ডগা ফাটার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে জবাফুলের কোনও বিকল্প নেই। আবার চুলের শুষ্কতা দূর করে কন্ডিশনারের মতো কাজ করে জবাফুল।
তাই যদি আপনি চুল পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে চান। তাহলে অবশ্য জবাপাতা ব্যবহার করুন। আর যদি ঘন, কালো, উজ্জ্বল চুল চান তাহলে জবাফুল ব্যবহার করুন। আর দু'রকম সমস্যা থেকে রেহাই পেতে চাইলে জবাফুল এবং পাতা একসঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
জেনে নিন কীভাবে ব্যবহার করবেন:
জবাপাতা ব্যবহার প্রণালী: ১৫-২০টি জবাপাতা নিন। সেগুলি পরিষ্কার করে ধুয়ে একটি পেস্ট কৈরি করে নিন। তাতে তেল মেশান। সপ্তাহে কমপক্ষে একবার চুলের গোড়ায় মাখুন। কিছুক্ষণ রাখার পর শ্যাম্পু করে নিন। টানা কয়েক সপ্তাহ ব্যবহারে চুল পড়ার সমস্যা থেকে মিলবে রেহাই।
জবাফুল ব্যবহারের প্রণালী: বেশ কয়েকটি জবাফুল নিন। ভালো করে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার তা টকদই কিংবা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে জবাফুল বাটা মিশিয়ে নিন। ভালো করে মাথায় লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে নিন।
এছাড়া চাইলে একটি পাত্রে জবাফুল এবং পাতা ফুটিয়ে নিন। মিনিট দশেক ঢিমে আঁচে জল ফুটিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। জল ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন। এবার শ্যাম্পু করা চুল ওই জল দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। তাতে চুলের হারানো ঔজ্জ্বল্য ফিরবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
