বয়সের ভারে নয়, বরং অনিয়ম আর মানসিক চাপের কারণেই অল্প বয়সে চুলে পাক ধরছে? অকালপক্বতার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বাজারের রাসায়নিক যুক্ত কলপ বা হেয়ার ডাই ব্যবহার করেন। কিন্তু সাময়িক স্বস্তি দিলেও এই সব প্রসাধনী চুলের অপূরণীয় ক্ষতি করে। রাসায়নিকের প্রভাবে চুলের গোড়া আলগা হয়ে যায়। যার ফলে চুল পড়ার হার বহুগুণে বাড়ে। এই সমস্যার সমাধানে এখন চিকিৎসকরাও ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপাদানের উপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে চা পাতা ও কারি পাতার যুগলবন্দি চুলের কালো রং ফেরাতে অব্যর্থ।
ছবি: সংগৃহীত
চুলের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং কুচকুচে কালো ভাব ফিরিয়ে আনতে চা পাতা ও কারি পাতা (বা তেজপাতা) ম্যাজিকের মতো কাজ করে। প্রথমে টাটকা কারি পাতা বা তেজপাতা কুচি করে নিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিতে নিন। যখন দেখা যাবে জলের রং গাঢ় বাদামি হয়ে এসেছে, তখন জলটি ছেঁকে নিতে হবে। অন্যদিকে, আলাদা একটি পাত্রে এক চামচ চা পাতা দিয়ে কড়া লিকার তৈরি করে নিতে হবে। লিকারটি গাঢ় খয়েরি রঙের হওয়া জরুরি।
মিশ্রণটি তৈরি হওয়ার পর অন্তত আধ ঘণ্টা রেখে দিন।
চুলের স্থায়ী রং এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে এই দুই ধরনের মিশ্রণকে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। আরও ভালো ফল পেতে এর সঙ্গে এক চামচ কফি পাউডার মিশিয়ে নিতে পারেন। কফি চুলের টেক্সচার উন্নত করতে এবং কালচে আভা দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। মিশ্রণটি তৈরি হওয়ার পর অন্তত আধ ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর সেই জল দিয়ে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো করে ম্যাসাজ করুন। স্প্রে বোতল বা ব্রাশ ব্যবহার করলে সুবিধা হবে। অন্তত দু’ঘণ্টা এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে। শুকিয়ে গেলে সাধারণ তাপমাত্রার জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
ছবি: সংগৃহীত
তবে এক্ষেত্রে কয়েকটি নিয়ম মানা একান্ত জরুরি। চুল যেন পরিষ্কার থাকে। তাই আগেভাগেই শ্যাম্পু করে চুল শুকিয়ে নিতে হবে। কিন্তু এই মিশ্রণ লাগানোর পর আর শ্যাম্পু করা চলবে না। নিয়মিত এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে চুল কেবল কালোই হবে না, বরং খুশকি দূর হবে এবং চুলের ঘনত্ব বাড়বে। কৃত্রিম রঙের বদলে এই প্রাকৃতিক টোটকা চুলকে করবে আরও ঝলমলে ও প্রাণবন্ত।
