'এলো চুলে কুসুমগন্ধটুকু রেখো'। কথায় বলে কবিরা দূরদৃষ্টি হন। প্রেয়সীর মাথায় একঢাল চুল। কাছে এলে আরও সুন্দর সেই চুলের ঘ্রাণ। আগেকার দিনে চুলের খোঁপায় এ কারণেই ফুল গুঁজতেন রূপসীরা। শুধু দৈহিক সৌন্দর্য নয়, মনকাড়া গন্ধ ভরিয়ে রাখত ভুবন। আর ঠিক এই চাহিদাকে মূলধন করেই প্রসাধনী দুনিয়ায় এখন রমরমিয়ে চলছে 'হেয়ার পারফিউম' বা 'হেয়ার মিস্ট'। কিন্তু চুলে সুগন্ধের নয়া ট্রেন্ডে মেতে উঠে চুলের বারোটা বাজছে না তো?
প্রতীকী ছবি
অনেকেরই অভ্যাস, সাজগোজের শেষপর্বে কবজি বা গলার পাশাপাশি চুলে এক চিমটি গায়ে মাখার পারফিউম স্প্রে করে নেওয়া। দেখতে বা শুঁকতে ভালো লাগলেও, বিশেষজ্ঞরা কিন্তু এই অভ্যাসে লাল সংকেত দেখাচ্ছেন। তাঁদের মতে, আপনার রোজকার ব্যবহারের সাধারণ পারফিউমে অ্যালকোহলের মাত্রা থাকে অত্যন্ত বেশি। এই অ্যালকোহল চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা শুষে নেয়। ফলে নিয়মিত ব্যবহারে চুল হয়ে পড়ে শুষ্ক, প্রাণহীন এবং রুক্ষ। এমনকী চুলের ডগা ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনাও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় সাধারণ সুগন্ধি।
কেন বেছে নেবেন হেয়ার পারফিউম?
ফ্যাশন সচেতনদের জন্য সমাধান হিসেবে বাজারে এসেছে বিশেষ ভাবে তৈরি হেয়ার পারফিউম। এটি সাধারণ সুগন্ধির চেয়ে অনেকটাই আলাদা।
স্বল্প অ্যালকোহল: এতে অ্যালকোহলের পরিমাণ থাকে নামমাত্র, যা স্ক্যাল্প বা চুলের ক্ষতি করে না।
পুষ্টিগুণ: অনেক হেয়ার মিস্টে থাকে এসেনশিয়াল অয়েল এবং ভিটামিন। যা চুলকে কেবল সুগন্ধিই করে না, বরং ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়।
প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা: এটি ব্যবহারের পর চুলের প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরে আসে।
প্রতীকী ছবি
মৃদু সুবাস: সাধারণ পারফিউমের উগ্রতা এতে নেই। এর সুগন্ধ হালকা এবং দীর্ঘস্থায়ী, যা আপনার উপস্থিতিকে স্নিগ্ধ করে তোলে।
সারা দিনের ধুলোবালি আর ঘামের দুর্গন্ধ কাটাতে হেয়ার পারফিউম এখনকার লাইফস্টাইলে অপরিহার্য। তবে কেনার আগে উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া জরুরি বইকি! কৃত্রিম কেমিক্যাল বর্জিত এবং প্রাকৃতিক নির্যাসযুক্ত মিস্ট বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। গায়ে মাখার সাধারণ পারফিউম নয়, চুলের জন্য বেছে নিন সঠিক হেয়ার কেয়ার সুগন্ধি।
